Logo
Logo
×
   

Advertisement

জাতীয়

ডিএসসিসিতে দুদক

মশা নিধনে কেরোসিন, ময়লায় কোটি টাকা বাণিজ্যের অভিযোগ

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:১৪ পিএম

মশা নিধনে কেরোসিন, ময়লায় কোটি টাকা বাণিজ্যের অভিযোগ

ছবি: সংগৃহীত।

Advertisement

মশা নিধনে ভেজাল কীটনাশকের নামে কেরোসিন সরবরাহ এবং বাসাবাড়ির বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অবৈধ দখলদারিত্ব ও চাঁদাবাজিসহ শত কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

অভিযোগ রয়েছে, ঠিকাদারি চক্র, ল্যাব কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের যোগসাজশে মশা নিধন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার নামে বিপুল সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করা হচ্ছে। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ; উভয় সিটি করপোরেশনেই একই ধরনের অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে সহকারী পরিচালক মেহেদী মুসা জেবিন ও উপসহকারী পরিচালক হাবিবুর রহমানের সমন্বয়ে পাঁচ সদস্যের একটি দল অভিযান পরিচালনা করছে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম। অভিযান শেষে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে বলেও জানান তিনি।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০১১ ও ২০১৯ সালে ভেজাল কীটনাশক সরবরাহের দায়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ‘দি লিমিট অ্যাগ্রো’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চক্রের মূলহোতা মিজানুর রহমান নাম ও প্রতিষ্ঠানের কাঠামো পরিবর্তন করে ‘ফরোয়ার্ড ইন্টারন্যাশনাল’ নামে নতুন প্রতিষ্ঠান খুলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে কাজ শুরু করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, গত দুই বছরে ওই প্রতিষ্ঠানকে ডিএসসিসি থেকে তিনটি কার্যাদেশের মাধ্যমে প্রায় ৪৮ কোটি টাকার কীটনাশক সরবরাহের কাজ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময় সঠিক মানের কীটনাশক দেখানো হলেও মাঠপর্যায়ে ফগিংয়ের নামে কেবল কেরোসিন ছিটানো হচ্ছে। এর মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে মশক নিবারণী দপ্তরের স্টোরকিপার ও অ্যাকাউন্টস শাখার কর্মীদের বিরুদ্ধে ঘুস লেনদেনের অভিযোগও করা হয়েছে।

অন্যদিকে, বাসাবাড়ি থেকে বর্জ্য সংগ্রহের নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের অভিযোগও রয়েছে। সিটি করপোরেশনের নিয়ম অনুযায়ী প্রতি ফ্ল্যাট থেকে সর্বোচ্চ ১০০ টাকা ফি নেওয়ার কথা থাকলেও অভিযোগ রয়েছে, ধানমন্ডি, আজিমপুর, কাঁঠালবাগান, কায়েতটুলী ও যাত্রাবাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকায় বাসিন্দাদের কাছ থেকে ১২০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকেও নেওয়া হচ্ছে সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা পর্যন্ত।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, বৈধভাবে দরপত্রের মাধ্যমে কোটি টাকা জামানত দিয়ে কাজ পাওয়া ব্যবসায়ীদের মারধর ও ভয়ভীতি দেখিয়ে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কাজ ছিনিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এভাবে ডিএসসিসিতে প্রতিবছর বর্জ্য সংগ্রহের নামে কোটি কোটি টাকার অবৈধ ‘ময়লা-বাণিজ্য’ পরিচালিত হচ্ছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম