জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:১৮ এএম
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ও আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারসহ ফিলিস্তিনি জনগণের ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশা নিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে ফিলিস্তিন ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্ট করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশা নিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের মনে উদ্বেগ রয়েছে।
তারেক রহমান বলেন, আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের অধিকারসহ তাদের ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশ পুনরায় তার অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে।
ভাষণের আগে বৈশ্বিক সংঘাত ও যুদ্ধের প্রভাব নিয়েও বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি। তারেক রহমান বলেন, মানবসৃষ্ট বিরাজমান সংঘাতের ফলে বর্তমানে অনেক দেশে অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিশাল সংখ্যক জনগোষ্ঠী বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়ছে এবং তৈরি হচ্ছে মানবিক সংকট।
তিনি বলেন, যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে বিশ্ব অর্থনীতি তীব্র চাপের মুখে রয়েছে। জ্বালানি নিরাপত্তা-সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতির ফলে অর্থনৈতিক পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের প্রত্যাশা একটি শান্তিময় বিশ্ব, এমন একটি মানবিক বিশ্ব সমাজ, যেখানে মারণাস্ত্র নয় বরং পরিবর্তনের হাতিয়ার হয়ে উঠবে যুক্তি-তর্ক, কূটনীতি, শিক্ষা ও মানবতা।
তিনি বলেন, একে অপরের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল একটি সমঝোতামূলক বিশ্ব সমাজ প্রতিষ্ঠার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে বাংলাদেশ জাতিসংঘকে দেখতে চায়।
বাংলাদেশের গণতন্ত্রের প্রসঙ্গ
বক্তব্যের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় তাকে অভিনন্দন জানান এবং দায়িত্ব পালনে বাংলাদেশের পূর্ণ সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেন। একইসঙ্গে তিনি বিদায়ী সভাপতি ম্যাডাম এনালেনা বেয়ারবক-কেও তাঁর সুযোগ্য নেতৃত্বের জন্য ধন্যবাদ জানান।
প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের সকল শহীদ মুক্তিযোদ্ধার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। স্বাধীনতার পর থেকে দেশে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে যারা আত্মত্যাগ করেছেন তাদের অবদান স্মরণ করেন তিনি।
একইসঙ্গে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের জুলাই-আগষ্টে বীর ছাত্র জনতার গণ অভুত্থানে সকল শহীদ ও আহতদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসন-শোষণের বিরুদ্ধে দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময়ের আন্দোলন-সংগ্রামের পথ ধরে বর্তমানে ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ।
পরিবারের সদস্যদের জাতিসংঘে ভাষণের স্মৃতিচারণ
জাতিসংঘে নিজের পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য দেওয়ার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘জাতিসংঘের এই বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়ে এই মুহূর্তে আজ আমি কিছুটা স্মৃতিকাতর। এই বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়েই আমার পিতা বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং আমার মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা খালেদা জিয়া দেশ এবং জনগণের পক্ষে ভাষণ দিয়েছিলেন।’
তিনি বলেন, ‘একইভাবে আজ আমিও আমার দেশ এবং জনগণের স্বার্থের পক্ষে এবং একটি শান্তিময় বিশ্ব সমাজের প্রত্যাশায় এখানে দাঁড়িয়েছি।’

