বিশ্ব ফুসফুস দিবস আজ
ফুসফুসের রোগে বিশ্বজুড়ে ৩৪ লাখ মানুষের মৃত্যু
Advertisement
জাহিদ হাসান
প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫০ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ফুসফুস ও শ্বাসতন্ত্রের অসুস্থতা বিশ্বব্যাপী অকাল মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। তামাক ও নিকোটিনজাত পণ্যের ব্যবহার ফুসফুসের ক্যানসার, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ (সিওপিডি), যক্ষ্মা ও অ্যাজমাসহ বিভিন্ন গুরুতর রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, সরাসরি ধূমপানের পাশাপাশি পরোক্ষ ধূমপানও ফুসফুসের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। ‘বাংলাদেশ স্যাম্পল ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস-২০২৩’-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশে মৃত্যুর শীর্ষ পাঁচটি কারণের মধ্যে দুটি হলো-ফুসফুস ও শ্বাসতন্ত্রজনিত রোগ।
এমন প্রেক্ষাপটে ফুসফুস ও শ্বাসতন্ত্রের রোগ প্রতিরোধ এবং সুস্থ ফুসফুসের গুরুত্ব সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরিতে আজ ২৫ সেপ্টেম্বর পালিত হচ্ছে বিশ্ব ফুসফুস দিবস-২০২৬। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘এ লাইফটাইম অব লাং হেলথ’।
ফুসফুসের কাজ ও গুরুত্ব : জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের আবাসিক সার্জন ডা. ফকির ওয়ালিদ শাহ যুগান্তরকে বলেন, শ্বাস নেওয়ার সময় বাতাস নাক ও মুখ দিয়ে শ্বাসনালি হয়ে ফুসফুসে পৌঁছায়। ফুসফুসের ভেতরে অ্যালভিওলাই নামে ক্ষুদ্র বায়ুথলিতে অক্সিজেন রক্তে প্রবেশ করে। একই সময়ে শরীরে উৎপন্ন কার্বন-ডাই-অক্সাইড রক্ত থেকে ফুসফুসে আসে এবং শ্বাস ছাড়ার সময় শরীরের বাইরে বের হয়ে যায়। রক্তের মাধ্যমে অক্সিজেন শরীরের বিভিন্ন কোষে পৌঁছায়। কোষ সেই অক্সিজেন ব্যবহার করে শক্তি উৎপাদন করে। ফলে ফুসফুসের কার্যক্ষমতা কমে গেলে শুধু শ্বাসপ্রশ্বাস নয়, হৃদ্যন্ত্র, মস্তিষ্ক, পেশি ও অন্যান্য অঙ্গের স্বাভাবিক কার্যক্রমও ব্যাহত হতে পারে। ফলে ফুসফুসের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাক নিয়ন্ত্রণ ও ধূমপানমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।
রোগ সংক্রমণ পরিস্থিতি : ২০২৬ সালে প্রকাশিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে দীর্ঘস্থায়ী বাধাজনিত ফুসফুসের রোগে (সিওপিডি) বিশ্বজুড়ে প্রায় ৩৪ লাখ মানুষের মৃত্যুর কারণ হয়েছে। এটি বিশ্বে মৃত্যুর তৃতীয় প্রধান কারণ এবং মোট বৈশ্বিক মৃত্যুর প্রায় ৬ শতাংশের সঙ্গে সম্পর্কিত। একই বছরে হাঁপানিতে আনুমানিক ৩৬ কোটি ৩০ লাখ মানুষ আক্রান্ত ছিলেন এবং এ রোগে প্রায় ৪ লাখ ৪২ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। শিশুদের মধ্যে হাঁপানি অন্যতম সাধারণ দীর্ঘস্থায়ী রোগ, যা তাদের দৈনন্দিন জীবন ও শারীরিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে।
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যক্ষ্মা ফুসফুসের অন্যতম সংক্রামক রোগ। ২০২৪ সালের বৈশ্বিক হিসাবে প্রায় ১ কোটি ৭ লাখ মানুষ যক্ষ্মায় আক্রান্ত হন এবং প্রায় ১২ লাখ ৩০ হাজার মানুষের মৃত্যু ঘটে। আক্রান্তদের মধ্যে আনুমানিক ৫৮ লাখ পুরুষ, ৩৭ লাখ নারী ও ১২ লাখ শিশু। বাংলাদেশের নতুন যক্ষ্মা রোগীর সংখ্যা ছিল বৈশ্বিক আক্রান্তের প্রায় ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। ফুসফুসের ক্যানসারও বিশ্বজুড়ে এখন বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা। ২০২৬ সালে প্রকাশিত গ্লোবোক্যান-২০২৪-এর হিসাবে, ২০২৪ সালে বিশ্বে প্রায় ২৬ লাখ নতুন ফুসফুসের ক্যানসার শনাক্ত হয় এবং প্রায় ১৯ লাখ মানুষের মৃত্যু ঘটে। ওই বছর ফুসফুসের ক্যানসার ছিল বিশ্বে সবচেয়ে বেশি শনাক্ত হওয়া ক্যানসার এবং ক্যানসারে মৃত্যুর প্রধান কারণগুলোর একটি। এই পরিসংখ্যানগুলো প্রমাণ করে, ফুসফুসের রোগের বোঝা বিশ্বজুড়ে ব্যাপক। তাই ধূমপান ও তামাক বর্জন, বায়ুদূষণ কমানো, সংক্রমণ প্রতিরোধ, কর্মক্ষেত্রে সুরক্ষা এবং দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসকষ্টের ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার মাধ্যমে ফুসফুসের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় আরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) জানিয়েছে, বাংলাদেশে বছরে প্রায় দুই লাখ মানুষ তামাক ব্যবহারজনিত বিভিন্ন রোগে মারা যান। দেশে ৩৫ দশমিক ৩ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তামাক ব্যবহার করেন। প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের যুগান্তরকে বলেন, প্রচলিত তামাকপণ্যের পাশাপাশি ই-সিগারেট, ভেপিং, হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্ট ও নিকোটিন পাউচের মতো নতুন ধরনের নিকোটিন পণ্যের ব্যবহার কিশোর ও তরুণদের মধ্যে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। ফুসফুসের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় দ্রুত ও যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে।
