সেপটিক ট্যাংকের পাশে লাশ পুঁতে সবজি চাষ, ২ বছর পর বেরিয়ে এলো রেহানা হত্যার চাঞ্চল্যকর তথ্য
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৩২ পিএম
রেহানা পারভীন। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সম্পত্তি ও পারিবারিক বিরোধের জেরে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বাংলাদেশি নারী রেহানা পারভীনকে হত্যার পর আশুলিয়ায় সেপটিক ট্যাংকের পাশে মাটিচাপা দিয়ে ওপরে সবজির চারা লাগিয়ে লাশ গুম করা হয়েছিল। হত্যাকাণ্ডের দুই বছর পর আদালতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন বা সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তার দাখিল করা অভিযোগপত্রে (চার্জশিট) এমন লোমহর্ষক বিবরণ উঠে এসেছে।
তদন্ত শেষে ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে রেহানার স্বামী আওলাদ হোসাইনসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে এ চার্জশিট জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা নবাবগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) তানভীর হাসান খান।
চার্জশিটভুক্ত অন্য আসামিরা হলেন—আওলাদের দুই বোন পাপিয়া আক্তার ও মাকসুদা বেগম, চাচাতো ভাই কবীর হোসাইন এবং চাচা আমজাদ হোসাইন। ঢাকার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তানভীর আহমেদ চার্জশিটটি দেখেছেন এবং আগামী ১৯ অক্টোবর এটি পর্যালোচনার পরবর্তী দিন ধার্য করেছেন।
অভিযোগপত্রের বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৬ জুন ১৩ বছর বয়সি মেয়েকে নিয়ে অস্ট্রেলিয়া থেকে বাংলাদেশে আসেন রেহানা পারভীন। ২৯ জুন তার স্বামী আওলাদও দেশে ফেরেন। অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশে থাকা বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি এবং পারিবারিক কলহের জেরে পরিকল্পিতভাবে রেহানাকে হত্যার ছক কষা হয়। ২০২৪ সালের ৫ জুলাই সন্ধ্যার পর রেহানাকে আশুলিয়ার নয়ারহাট চৌরাপাড়ায় আওলাদের বোন পাপিয়ার বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তর্কাতর্কির একপর্যায়ে রেহানাকে মেঝেতে ফেলে দেন আসামিরা। এরপর আমজাদ পা ও কবীর দুই হাত চেপে ধরলে আওলাদ তার পেটের ওপর বসে মুখে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা নিশ্চিত করেন। ওই রাতেই পাপিয়ার বাড়ির সামনে সেপটিক ট্যাংকের পাশে গর্ত খুঁড়ে লাশ পুঁতে রাখা হয় এবং ঘটনা আড়াল করতে সেখানে সবজির চারা লাগানো হয়।
পরবর্তীতে রেহানার নিখোঁজের ঘটনায় তার মা আইরিন আক্তার অপহরণ মামলা করলে ১২ সেপ্টেম্বর আশুলিয়া থেকে রেহানার মাটিচাপা দেওয়া গলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর মামলাটি হত্যা ও লাশ গুমে রূপান্তর করা হয়। এ ঘটনায় গ্রেফতার আসামি পাপিয়া, কবীর ও আমজাদ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এ ছাড়া মামলায় রেহানার নাবালিকা কন্যাও বাবার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছে।
হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েই আওলাদ অস্ট্রেলিয়ায় পালিয়ে যান। তবে পার পাননি তিনি। অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশ (এএফপি) জানিয়েছে, বাংলাদেশের পুলিশ কর্মকর্তাদের ঘুস দিয়ে মামলা থেকে নিজের নাম কাটাতে ও তদন্ত প্রভাবিত করতে ৯০ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার পাঠানোর অভিযোগে সম্প্রতি ব্রিসবেন থেকে আওলাদকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর আগে ভুয়া মৃত্যু সনদ দিয়ে রেহানার অস্ট্রেলিয়ার সম্পত্তি আত্মসাতের মামলাও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
বর্তমানে আওলাদ অস্ট্রেলিয়া পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন এবং তাকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা। মামলায় অভিযুক্ত আমজাদ ও কবীর কারাগারে থাকলেও জামিনে আছেন দুই বোন পাপিয়া ও মাকসুদা।


-6aae135a3e0ea-6aaf761d0770d-6aafa0db0c104-6ab10c79ee9db.webp)
-6aae135a3e0ea-6aaf761d0770d-6ab4a22e69c78-6aba04887dbfa.webp)