আশুলিয়ায় আনসার-হকার সংঘর্ষ, আহত ১৫
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন, ঢাকা উত্তর
প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:০৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
শিল্পাঞ্চল সাভারের আশুলিয়ায় ঢাকা ইপিজেড ও বলিভদ্র এলাকায় চাঁদা চাওয়াকে কেন্দ্র করে আনসার সদস্যদের সঙ্গে হকারদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় বিপুল পরিমাণ আনসার সদস্য ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে লাঠিপেটা করে হকারদের সরিয়ে দেন। এতে দুই নারী হকারসহ অন্তত ১৫ হকার আহত হয়েছেন। ঘটনার পর ক্ষুব্ধ হকাররা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করেন।
আজ রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকা ইপিজেড ও বলিভদ্র এলাকায় এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
স্থানীয় হকারদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তারা ওই এলাকার মহাসড়কের ফুটপাতের পাশে পণ্য বিক্রি করে আসছেন। কিন্তু সম্প্রতি ঢাকা ইপিজেডের কর্তব্যরত আনসার সদস্যরা তাদের সেখানে ব্যবসা করতে বাধা দিয়ে আসছেন। পথচারীদের চলাচলের পর্যাপ্ত জায়গা রেখে ব্যবসা করতে চাইলেও রোববার আনসার সদস্যরা তাদের জোরপূর্বক সরাতে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতন্ডা শুরু হয়, যা পরবর্তীতে সংঘর্ষে রূপ নেয়।
হকারদের আরও অভিযোগ, আনসার সদস্যদের পক্ষ থেকে তাদের কাছে চাঁদা দাবি করা হয়েছিল। চাঁদা দিতে রাজি না হওয়াতেই তাদের ওপর এই হামলা চালানো হয়। সংঘর্ষে আহতদের স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
সংঘর্ষের পর হকাররা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেন এবং বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। এর ফলে ওই সড়কে কিছু সময় তীব্র যানজট ও যান চলাচল ব্যাহত হয়।
এদিকে, আনসার সদস্যদের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে আনসার কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। যোগাযোগ করা হলেও তারা এ বিষয়ে অস্বীকার করেন। বর্তমানে এই সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে এলাকায় থমথমে অবস্থা ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
আশুলিয়া থানার ওসি তরিকুল ইসলাম যুগান্তরকে জানান, হকারদের সঙ্গে সংঘটিত সংঘর্ষে বিষয় তিনি শুনেছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, হকারদের উচ্ছেদ বা সরিয়ে দিতে হলে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের উপস্থিত অবশ্যই প্রয়োজন। আনসারদের এমন কোন অনুমোদন ছিল না। তবে আনসারদের বিরুদ্ধ হকারদের চাঁদাবাজির বিষয়টি নিয়ে পুলিশ তদন্ত করছে। তিনি বলেন, গত ১২ সেপ্টেম্বর সেখানে প্রশাসন একটি অভিযান চালিয়ে ছিল। এর পর মানুষের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে হকারদের শৃংখলা নিয়ে বসার জন্য মৌখিক অনুমোদন দিয়ে ছিল বেপজা প্রশাসন।
এ বিষয়ে আনসার বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আসিফ ইকবাল বিকালে যুগান্তরকে বলেন, কর্তৃপক্ষের নির্দেশক্রমে ইপিজেড এলাকায় ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসব অভিযানে হকারদের উচ্ছেদ করা হলেও তারা পরবর্তীতে আবারও সড়ক ও ফুটপাত দখল করে বসেন। এরই ধারাবাহিকতায় আজও সেখানে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করতে গেলে হকাররা আনসার সদস্যদের ওপর হামলা চালায়।
হকারদের কাছ থেকে আনসার সদস্যদের চাঁদা দাবির অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, চাঁদাবাজির বিষয়ে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে। কোনো আনসার সদস্য চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে।
