মেয়ের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন মা, বিস্ফোরণে থেমে গেল সব
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন, সাভার
প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৪৪ পিএম
কারখানা চত্বরে গ্যাস সিলিন্ডারবাহী একটি কাভার্ডভ্যানে বিস্ফোরণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মেয়ের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন ৫৫ বছর বয়সী জয়নব বেগম। মেয়ের সঙ্গে হয়তো চলছিল টুকটাক কথাবার্তা। কয়েক দিন আগে কাশিমপুরের বাড়ি থেকে মেয়ের কাছে বেড়াতে এসেছিলেন তিনি। মেয়ের সংসারে আরও কিছুদিন থাকবেন, নাতিকে দেখবেন—এমনই ছিল তার স্বাভাবিক দিনের পরিকল্পনা; কিন্তু একটি বিকট বিস্ফোরণ মুহূর্তেই বদলে দিল সবকিছু।
রোববার সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে আশুলিয়ার জামগড়ায় প্রীতি গ্রুপের এফ অ্যান্ড এফ কারখানা চত্বরে গ্যাস সিলিন্ডারবাহী একটি কাভার্ডভ্যানে বিস্ফোরণ ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় ছিটকে আসা ধাতব অংশ আঘাত করে পাশের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা জয়নব বেগমকে। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
মেয়ের কাছে বেড়াতে এসে আর নিজের বাড়িতে ফেরা হলো না তার। যে মেয়ের সংসারে কিছুদিন থাকার কথা ছিল, সেই মেয়েকেই শেষপর্যন্ত মায়ের মৃত্যুর সংবাদ বহন করতে হলো।
জয়নবের মৃত্যুতে একটি পরিবারের স্বাভাবিক সন্ধ্যা পরিণত হয়েছে শোকের রাতে। স্বজনদের কাছে এটি শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়; বরং এক মুহূর্তে প্রিয় মানুষকে হারানোর বেদনা।
মেয়ের সঙ্গে কাটানো শেষ সময়টুকু, নাতিকে দেখার আশা আর নিজের ঘরে ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনা—সবকিছুই থেমে গেল সেই বিস্ফোরণে।
আশুলিয়া থানার ওসি তরিকুল ইসলাম আজ দুপুরে যুগান্তরকে বলেন, এ ঘটনায় সাতজন মারা গেছেন। মোসাম্মাৎ জয়নব (৫৫), বুলবুল হেসেন (৪৫), নজরুল ইসলাম (৪২) নামে তিনজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। সকালে ময়নাতদন্তের পর স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকিদের লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছে। ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত করা হবে।
তিনি বলেন, কারখানার সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এ ঘটনায় আশুলিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছে পুলিশ। তবে কোনো পক্ষ মামলার আবেদন করেনি।
ফায়ার সার্ভিসের সাভার জোনের ইনচার্জ হাফিজুর রহমান যুগান্তরকে জানান, বিস্ফোরণের তীব্রতায় পুরো কারখানা চত্বর ও এর আশপাশের এলাকা কেঁপে ওঠে এবং দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এ দুর্ঘটনায় লরির ভেতর ও নিচ থেকে পাঁচজনসহ মোট সাতজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া অন্তত ৪০ জন গুরুতর আহত হয়েছে। তিনি বলেন, যেভাবে সিলিন্ডারগুলো লোকালি লোড করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ অবৈধ।
