ধর্ষণ মামলার আসামিকে বিয়ে করতে আদালতে হট্টগোল, হুমকি
Advertisement
ঝালকাঠি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২২ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ধর্ষণ মামলার বিচার না চেয়ে মামলার আসামিকে স্বামী হিসেবে পাওয়ার দাবিতে ঝালকাঠি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে হট্টগোল করেছেন মামলার বাদী এক নারী। এ সময় আসামির সঙ্গে বিয়ের ব্যবস্থা না করলে বিষ খেয়ে আত্মহত্যার হুমকি দেন তিনি।
রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মামলার যুক্তিতর্ক শুনানির সময় এ ঘটনা ঘটে। বাদীর হট্টগোলের মধ্যেই ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ শরীফ মোহাম্মদ সানাউল হক তাকে শান্ত করার চেষ্টা করেন।
পরে রাষ্ট্রপক্ষের ট্রাইব্যুনালের পিপি মো. আককাস সিকদার ও আসামিপক্ষের আইনজীবী মল্লিক মুহা. নাসির উদ্দিন কবীরের যুক্তিতর্ক গ্রহণ করেন বিচারক।
শুনানি চলাকালে বাদী বারবার হট্টগোল শুরু করলে বিচারক, আইনজীবী ও নারী পুলিশ সদস্যরা তাকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। এ সময় বিচারক তাকে ধৈর্য ধরতে বলেন। বিচারক বলেন, আসামি দোষী প্রমাণিত হলে তার সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসিও হতে পারে, আবার সাজাও হতে পারে।
একপর্যায়ে বাদী বিচারককে বলেন, ‘আসামির ফাঁসি হলে আমাকেও ফাঁসি দিতে হবে। আমি তার শাস্তি চাই না, তাকে চাই। তার চাকরিও ফেরত চাই।’
জবাবে বিচারক বলেন, ‘মা, আমরা তো আসামিকে বাধ্য করতে পারব না আপনাকে বিয়ে করার জন্য। তার অপরাধ প্রমাণ হলে তাকে শাস্তি দিতে পারব।’
এতে আরও ক্ষিপ্ত হয়ে বাদী বলেন, ‘আপনি কাজী ডেকে তার সঙ্গে আমার বিয়ের ব্যবস্থা করেন।’
পরে চিৎকার করে তিনি বলেন, ‘স্যার, আপনি যদি আসামি আল-আমিনের সঙ্গে আমার বিয়ের ব্যবস্থা না করেন তাহলে আমি এ জীবন রাখব না, বিষ খেয়ে আপনার সামনে আত্মহত্যা করব।’
ট্রাইব্যুনালের পিপি মো. আককাস সিকদার জানান, রোববার নারী ও শিশু মামলা নম্বর ১২৫/২৩-এর যুক্তিতর্ক শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিল।
মামলার বাদী রাজাপুর থানার জগন্নাথপুর গ্রামের এক নারী। আসামি রাজাপুর থানার সাবেক এএসআই এবং পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার উত্তর মুরাদিয়া গ্রামের ইউনুচ মোল্লার ছেলে মো. আল-আমিন মোল্লা।
পিপি বলেন, ২০২০ সালের ১৬ ডিসেম্বর থেকে ২০২৩ সালের ২০ আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে বিয়ের প্রলোভন ও মিথ্যা বিয়ের নাটক সাজিয়ে বাদীকে আল-আমিন একাধিকবার ধর্ষণ করেছেন। এ অভিযোগে ২০২৩ সালের ১০ সেপ্টেম্বর মামলা করেন ওই নারী। ২০২৪ সালের ২৮ নভেম্বর আল-আমিনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারায় অভিযোগ গঠন করে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।
মামলায় বাদী, তার নাবালক ছেলেসহ চারজনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। সাক্ষ্যগ্রহণের শেষ পর্যায়ে দুজন সাক্ষী দেশে নেই বলে বাদী নিজেই ট্রাইব্যুনালকে জানান এবং সাক্ষ্য সমাপ্ত করার আবেদন করেন। সাক্ষীর পরোয়ানা তামিলকারী পুলিশও ওই দুই সাক্ষীর বিষয়ে একই প্রতিবেদন দেয়।
পিপি আরও বলেন, সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হওয়ার পর আসামির পরীক্ষা নেওয়ার সময় থেকেই বাদী তার সঙ্গে বিয়ে ও কাবিননামার দাবি করতে শুরু করেন। রোববার যুক্তিতর্ক শুনানির সময় আসামিপক্ষের আইনজীবী যুক্তিতর্ক শুরু করলে বাদী তার ওপর আক্রমণাত্মক হয়ে উচ্চস্বরে হট্টগোল করেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী নাসির উদ্দিন কবীর বলেন, যুক্তিতর্ক শুনানির সময় মামলার বাদী একাধিকবার কর্কশ ভাষায় আমার ওপরও চড়াও হয়েছেন। শুনানিতে আমাকে বারবার বেগ পেতে হয়েছে। একপর্যায়ে তিনি বিচারককে হুমকি দিয়েছেন—আসামির সঙ্গে তার বিয়ের ব্যবস্থা করে দিতে হবে, না হলে রায়ের দিন ট্রাইব্যুনালে সবার সামনে নিজেকে শেষ করে দেবেন।
পিপি আককাস সিকদার আরও বলেন, বাদী শুধু মৌখিকভাবে নয়, লিখিত দরখাস্তের মাধ্যমেও আসামির সঙ্গে তার বিয়ে পড়িয়ে দেওয়ার দাবি করেছেন। সেখানে আসামি আল-আমিনকে স্বামী হিসেবে পাওয়ার জন্য ট্রাইব্যুনালের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে। অন্যথায় তিনি তার আগের স্বামীর ঔরসজাত ছেলেসহ ট্রাইব্যুনালের সামনে আত্মহত্যার হুমকি দিয়েছেন বলেও জানান পিপি।
আককাস সিকদার বলেন, বাদী আমার ব্যক্তিগত চেম্বারে গিয়েও আমাকে হুমকি দিয়ে বলেছেন- ‘আমি যদি আসামি আল-আমিনকে স্বামী হিসেবে না পাই, তাহলে আপনাদের কাউকে ছাড়ব না। আমার নিজের জীবন দিয়ে আপনাদের সবাইকে ফাঁসিয়ে দেব।’
মামলার বাদী বলেন, ‘আমি ধর্ষণ মামলা করেছি আল-আমিনকে স্বামী হিসেবে ফেরত পেতে। তাকে সাজা দিয়ে আমার কী লাভ? আমি যেকোনোভাবে আল-আমিনকে চাই।’
