স্বাস্থ্য খাতকে ভবিষ্যৎমুখী করতে জাপানের প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্ব চান স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
Advertisement
বাসস
প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩৯ পিএম
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এম. এ. মুহিত। ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
দেশের সবাইকে স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনা (ইউনিভার্সাল হেলথ কভারেজ) এবং চিকিৎসা খাতকে ভবিষ্যৎমুখী ও টেকসই করে গড়ে তুলতে জাপানের সহযোগিতা ও প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্ব চেয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এম. এ. মুহিত।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) জাপানের টোকিওতে বাংলাদেশ দূতাবাসে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ হেলথকেয়ার বিজনেস সেমিনার’-এ এক ভিডিও বার্তায় প্রতিমন্ত্রী এ আহ্বান জানান। জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) এবং জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশন (জেট্রো)’র যৌথ উদ্যোগে এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়। এতে জাপানের বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, বিনিয়োগকারী ও স্বাস্থ্য খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
ভিডিও বার্তায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন, স্বাস্থ্য খাতের আধুনিকায়ন এবং আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিত করতে জাপানি বিনিয়োগ ও অভিজ্ঞতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সেমিনারে জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী বলেন, জাপান দীর্ঘকাল ধরে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন অংশীদার। মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য, কমিউনিটি স্বাস্থ্যসেবা, টিকাদান কর্মসূচি, অবকাঠামো নির্মাণ এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে অব্যাহত সহায়তার জন্য তিনি জাইকা ও জাপান সরকাকে ধন্যবাদ জানান।
রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেন, ১৭ কোটিরও বেশি জনসংখ্যার বাংলাদেশে বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা, আধুনিক হাসপাতাল, রোগনির্ণয় ব্যবস্থা, মেডিকেল প্রযুক্তি এবং দক্ষ জনবলের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। অন্যদিকে জাপানে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বেশি হওয়ায় সেখানে নার্স ও কেয়ারগিভারদেও চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশে প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী তৈরি করে জাপানের এই চাহিদা মেটানো সম্ভব বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের ওষুধ শিল্প, বায়োটেকনোলজি, ভ্যাকসিন এবং ওষুধের কাঁচামাল (এপিআই) উৎপাদনে জাপানি বিনিয়োগ ও যৌথ উদ্যোগের আহ্বান জানান রাষ্ট্রদূত।
সেমিনারে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শাহ ইমাম আলী রেজা এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস দু’টি পৃথক উপস্থাপনার মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের বর্তমান অবস্থা ও সম্ভাবনার চিত্র তুলে ধরেন।
এছাড়া জাইকার দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের মহাপরিচালক তেতসুয়া ইয়ামাদা, দক্ষিণ এশিয়া বিভাগ-৪-এর উপ-পরিচালক হিরোকি সাসাকি এবং জ্যাট্রোর গ্লোবাল স্ট্র্যাটেজি (সাউথ ওয়েস্ট এশিয়া) বিভাগের সিনিয়র ডিরেক্টর ইউজি আন্দো বাংলাদেশ-জাপান স্বাস্থ্য সহযোগিতা ও বিনিয়োগের সুযোগ নিয়ে আলোচনা করেন। বাংলাদেশে কাজের অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন ইয়োগলেনা কোম্পানি লিমিটেডের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার নাও নিত্তা।
অনুষ্ঠানের শেষ অংশে একটি প্রশ্নোত্তর পর্ব ও নেটওয়ার্কিং সেশন অনুষ্ঠিত হয়।

