সাবরেজিস্ট্রার পদে বদলি বাণিজ্যে ‘গুডবাই’
যুগান্তরের রিপোর্টের প্রশংসা করলেন আইনমন্ত্রী
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০২:০৫ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
দৈনিক যুগান্তরে প্রকাশিত সাবরেজিস্ট্রার পদে বদলি বাণিজ্যে ‘গুডবাই’—শীর্ষক প্রতিবেদনের প্রশংসা করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, সাব রেজিস্ট্রার পদে দক্ষ লোক দরকার। যুগান্তর এ নিয়ে যথার্থ প্রতিবেদন করেছে। সেজন্য আমরা লটারির মাধ্যমে আজ ১৮ জনকে বাছাই করেছি। তাদের পোস্টিং দেওয়া হচ্ছে। এখন আমরা ইন্টারভিউর মাধ্যমে যে স্টেশনে লোড বেশি, কাজ বেশি সেখানে অধিক দক্ষ সাব রেজিস্ট্রার নিয়োগ দেব।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে আইন মন্ত্রণালয়ে এক অনুষ্ঠানে ঢাকা জেলার ‘এ’ ক্যাটাগরির ১৮টি সাব-রেজিস্ট্রার পদের জন্য ১৮ জনকে লটারির মাধ্যমে নির্বাচন অনুষ্ঠানে যুগান্তরের প্রতিবেদনের প্রশংসা করে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সাবরেজিস্ট্রার পদে বদলি নিয়ে অনেক অভিযোগ করেছে। নেতিবাচক সেই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে স্বচ্ছ লটারির মাধ্যমে বদলি করার উদ্যোগ নিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়।
তিনি বলেন, সারাদেশে বর্তমানে এ ক্যাটাগরির ১৩১ জন সাবরেজিস্ট্রার আছেন। তাদের মধ্য থেকে আমরা ১৮ জনকে নিয়ে আসলাম। এদের মধ্য থেকে আমি একটু বসে ইন্টারভিউ নিয়ে দক্ষতার বেসিসে যে এলাকায় বেশি চাপ যারা সহ্য করতে পারবে তাদেরকে আমরা সেই এলাকায় দেব। আমাদের সব এলাকায় কাজের লোড একরকম না। ঢাকা শহরে যে যতটুকু লোড নিতে পারবেন আমরা সেই অনুসারে তাকে সে সে জায়গায় পোস্টিং দেব। কারণ আমাদের অফিসটাও চালাতে হবে। এখন যদি ধরেন আমি ঢাকা শহরের মধ্যে আবার আবার লটারি করে দেওয়ার পরও আমার কাজের হ্যাম্পার হলো সেরকম পরিস্থিতি আমরা চাই না।
সাব-রেজিস্ট্রার অফিস নিয়ে মানুষের মধ্যে নেতিবাচক ধারণা রয়েছে জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেছেন, পাবলিক পারসেপশনে যেসব জায়গাকে দুর্নীতির আখড়া মনে করা হয়, সেসব জায়গায় গড়ে ওঠা সিন্ডিকেট ভাঙতেই সাব-রেজিস্ট্রারদের লটারির মাধ্যমে বদলির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘নেতিবাচক জায়গা থেকে ওভারনাইট আমরা সব পাল্টে ফেলতে পারবো না। আমরা সেটা দাবি করি না, সেটা সম্ভবও না। আমাদের কোনো না কোনো জায়গা থেকে শুরু করতে হবে। সেই শুরুর প্রক্রিয়ায় ঢাকা শহর হলো সবচেয়ে প্রাইজ পোস্টিং।
আসাদুজ্জামান বলেন, ‘ঢাকাতে যারা সাব-রেজিস্ট্রার হিসেবে আসেন, তাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে ধরা হয়। সেই প্রাইজ পোস্টিংয়ের মধ্যে আমরা প্রথম লটারি করতে যাচ্ছি। ঢাকার পদগুলো সব ‘এ’ ক্যাটাগরির।’
তিনি বলেন, ‘শুধু লটারির মাধ্যমে ঢাকার বিভিন্ন পদে কর্মকর্তাদের দিলে কাজের ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হতে পারে। তাই লটারিতে নাম ওঠা কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে দক্ষতা ও কাজের চাপ বিবেচনা করে পোস্টিং দেওয়া হবে। ’
লটারির মাধ্যমে বদলির এ প্রক্রিয়া ভবিষ্যতেও চলবে জানিয়ে আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আবারও বলছি, আমরা লটারি হিসেবে যখন দিচ্ছি, এটা আমাদের একটা শুরু। এই প্রক্রিয়াটা চলমান। সব জায়গায় ধীরে ধীরে এটাকে সমাধানের পথ বের করবো।’
সাব-রেজিস্ট্রারদের প্রাইজ পোস্টিংয়ে বদলির উদ্দেশ্য সম্পর্কে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘বাই রোটেশনে প্রাইজ পোস্টিংগুলো, যেটা মনে করা হয় ডিপার্টমেন্টের, যেখানে দুর্নীতির শিকড় গজায়, সেই জায়গাগুলোতে আমরা দেব।’
তিনি বলেন, ‘যে জায়গাটা মনে করছি পাবলিক পারসেপশনে দুর্নীতির আখড়া, সেই জায়গায় সেই সিন্ডিকেট ভাঙার জন্য এই প্রক্রিয়া।’
এই উদ্যোগের ফলে দুর্নীতি কমবে কি না জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘অবশ্যই। আমরা আশা করি। আমরা আশাবাদী।’ তিনি বলেন, মানুষের মানসিকতা পরিবর্তনের কাজ শুধু আইন মন্ত্রণালয়ের নয়, গণমাধ্যমেরও দায়িত্ব রয়েছে। সংবাদ পরিবেশনের সময় কীভাবে বিষয়গুলো উপস্থাপন করা হচ্ছে, সেটিও মানুষের ধারণাকে প্রভাবিত করে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সারা দেশে বর্তমানে ৩৭২ জন সাব-রেজিস্ট্রার কর্মরত আছেন জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমার পদ খালি আছে ১৩৯ জন। যেগুলো পাইপলাইনে আছে নিয়োগ প্রক্রিয়ায়, পিএসসির মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়াগুলো সম্পন্ন হয়।’
লটারিতে বাছাই করা সাব-রেজিস্ট্রারদের ঢাকায় পদায়নের মেয়াদ সম্পর্কে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, সার্ভিস রুল অনুযায়ী তারা দায়িত্ব পালন করবেন। সাধারণভাবে দুই বছর থাকার বিধান থাকলেও কেউ দায়িত্ব নেওয়ার পর দুর্নীতিতে জড়ালে তাকে রাখা হবে না।
সাব-রেজিস্ট্রারদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, তার মন্ত্রণালয় বিষয়গুলো ২৪ ঘণ্টা মনিটরিংয়ে রাখবে। গণমাধ্যমের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ থাকলে তা মন্ত্রণালয়কে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সাবরেজিস্ট্রি অফিসের দুর্নীতি নিয়ে মিডিয়ার প্রতিবেদন সম্পর্কে আইনমন্ত্রী বলেন, মিডিয়া যতগুলো দুর্নীতির রিপোর্ট করেছে সাব-রেজিস্ট্রারের বিষয়ে, প্রত্যেকটার, ইনভ্যারিয়াবলি, আমরা এক্সপ্লানেশন কল করেছি, আমরা আমাদের মতো করে তদন্ত করেছি।’ তবে এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণের অভাবে কোনো অভিযোগকে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত বলা যাচ্ছে না বলে জানান তিনি। আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমি চেষ্টা করছি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া কাউকে যেমন হয়রানি করব না, কিন্তু সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তাকে ছাড়ও দেওয়া হবে না।’
গত ছয় মাসে ১০ জন সাব-রেজিস্ট্রারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান আইনমন্ত্রী।
এই অনুষ্ঠানে লটারির মাধ্যমে ঢাকায় ১৮ জন সাবরেজিস্ট্রারকে নিয়োগ দেওয়া হয়।



