দুই সংসদীয় কমিটির বৈঠক
বিমানবন্দরে হয়রানি বন্ধে নজরদারির সুপারিশ
Advertisement
সংসদ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৭ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
প্রবাসীকর্মীরা দেশে ফেরার পর বিমানবন্দরে যাতে কোনো ধরনের অবহেলা বা হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারির সুপারিশ করেছে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।
পাশাপাশি একই দিন বিমানবন্দরে যাত্রী হয়রানি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে বলেছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনে আলাদাভাবে অনুষ্ঠিত দুই কমিটির বৈঠক থেকে এ সুপারিশ করা হয়।
প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি এ কে এম ফজলুল হক মিলন। বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য বলা হয়, যাতে কোনো ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি বা বিধিবহির্ভূত কর্মকাণ্ড না ঘটে।
সভায় মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন দেশে মোট ৪ লাখ ৩২ হাজার ৭৮৬ জন কর্মী পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে নারী কর্মীর সংখ্যা ৩৬ হাজার ৫৯০ জন। এ সময়ে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ২৪ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা আগের সময়ের তুলনায় প্রায় ২ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলার বেশি।
বৈঠকে জানানো হয়, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের অর্থায়নে ইরান থেকে ১৮৬ জনকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১২ জন নারী ও ৮ জন শিশু।
এ ছাড়া সরকার অনুমোদিত বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সি এবং বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) মাধ্যমে বিদেশে কর্মী পাঠানো হচ্ছে। দেশে মোট রিক্রুটিং এজেন্সির সংখ্যা ২ হাজার ৮৬০টি। এর মধ্যে সক্রিয় রয়েছে ২ হাজার ১৮৭টি।
মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক, গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ, মো. জসিম উদ্দিন, রফিকুল ইসলাম হিলালী, নাসির উদ্দিন আহমেদ, মো. আনোয়ারুল ইসলাম এবং আবুল কাওসার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বৈঠকে অংশ নেন।
এদিকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি বিমানবন্দরে যাত্রী হয়রানি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণসহ যত দ্রুত সম্ভব এ মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন সংস্থায় শূন্যপদ পূরণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলেছে। এতে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী।
বৈঠকে বাংলাদেশকে অন্যতম প্রধান এভিয়েশন হাব ও আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলা নিয়ে আলোচনা হয়। কমিটি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড এবং বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের সামগ্রিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করার সুপারিশ করে।
এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে দুর্নীতিমুক্ত থেকে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির মাধ্যমে সমন্বয়ের সঙ্গে কার্যক্রম পরিচালনার পরামর্শ দেয় কমিটি।
মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, লুৎফুল্লাহেল মাজেদ, সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, জসীম উদ্দীন আহমেদ, মোছা. সুরাইয়া জেরিন, শওকত আরা আক্তার, মো. কামরুল হাসান এবং মো. আবু তালিব বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
