বন্দর বিক্রি হয়নি, সক্ষমতা ও কর্মীদের আয় বাড়বে: বাণিজ্যমন্ত্রী
Advertisement
সিলেট ব্যুরো
প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৫১ পিএম
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে সিলেট সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে আয়োজিত মতবিনিময় সভা ও অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠান
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার চুক্তিকে ‘দেশ বিক্রি’ বলা সস্তা ও অমূলক মন্তব্য বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, টার্মিনালের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য এ চুক্তি করা হয়েছে। এতে বন্দরের সক্ষমতা ও কর্মীদের আয় বাড়বে। মেয়াদ শেষে বাংলাদেশ চাইলে চুক্তি নবায়ন করবে, অথবা এর যবনিকাপাত ঘটবে।
শুক্রবার দুপুরে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে সিলেট সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে আয়োজিত মতবিনিময় সভা ও অনুদান বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে সকালে একদিনের সফরে সিলেটে পৌঁছান মন্ত্রী। তিনি নগর ভবনের সভাকক্ষে মতবিনিময় সভা ও অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন।
অনুষ্ঠানে সিলেট নগরীর ৮৫টি দুর্গাপূজা মণ্ডপের প্রতিনিধিদের হাতে ৪০ হাজার টাকা করে মোট ৩৪ লাখ টাকার অনুদানের চেক তুলে দেন তিনি।
অনুষ্ঠান শেষে চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে বড় টার্মিনাল এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব দুবাইভিত্তিক বৈশ্বিক অপারেটর ‘ডিপি ওয়ার্ল্ডকে’ দেওয়া নিয়ে চলমান সমালোচনার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখোমুখি হন বাণিজ্যমন্ত্রী।
জবাবে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, দেশ বিক্রির কথাটি অত্যন্ত সস্তা ও অমূলক। যে কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তার জমির মালিক বাংলাদেশ সরকার। মালিকানা কাউকে দেওয়া হয়নি; কেবল নির্দিষ্ট সময়ের জন্য পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মেয়াদ শেষে সরকার চাইলে চুক্তি নবায়ন হবে, নয়তো বাতিল হবে। তাহলে দেশ বিক্রি কিভাবে হলো? আমরা যে সিটি করপোরেশনে দাঁড়িয়ে আছি, এখান থেকে কোনো ফ্লোর যদি কাউকে ভাড়া দেওয়া হয়, তার মানে কি ভবনটি বিক্রি করে দেওয়া হলো? আপনারা নিজেরাই তা বিবেচনা করুন।
মন্ত্রী আরও বলেন, বিদেশি বিনিয়োগ বা দেশীয় নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে হলে পণ্য উৎপাদন, রপ্তানি ও বাজারজাতকরণের ব্যয় বৈশ্বিক প্রতিযোগীদের তুলনায় সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে লজিস্টিক খরচ মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১৬ শতাংশ, যেখানে বৈশ্বিক গড় মাত্র ১০ শতাংশ। উন্নত দেশগুলোতে এ খরচ আরও কম—মাত্র ৬ থেকে ৮ শতাংশ। বাংলাদেশকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষম না করতে পারলে কাঙ্ক্ষিত বিনিয়োগ আসবে না।
চট্টগ্রাম বন্দরের দক্ষতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য বন্দরের পরিচালন সক্ষমতা বাড়ানো। কনটেইনার হ্যান্ডলিং দ্রুত হলে বন্দরে জাহাজের অপেক্ষমাণ সময় (ডুয়েলিং টাইম) কমে আসবে। এতে আমদানি পণ্যের ইউনিট প্রতি খরচ ও জাহাজ ভাড়া (ফ্রেইট চার্জ) হ্রাস পাবে, যার সুফল পাবেন দেশের সাধারণ ভোক্তারা।
বন্দর শ্রমিক-কর্মচারীদের স্বার্থের বিষয়ে আশ্বস্ত করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে বিষয়টি অনুমোদনের সময় শ্রমিকদের স্বার্থ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। কমিটির সভাপতি ও অর্থমন্ত্রী চট্টগ্রামের সংসদ সদস্য হওয়ায় তিনি বিষয়টি দৃঢ়ভাবে তুলে ধরেছেন। আমরা পুরোপুরি নিশ্চিত হয়েই অনুমোদন দিয়েছি। এই চুক্তির ফলে বন্দরের একজন কর্মীও কাজ হারাবেন না। উপরন্তু বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ভবিষ্যতে কর্মীদের সুযোগ-সুবিধা ও পারিশ্রমিক আরও বাড়বে।
মতবিনিময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম বিপিএম, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন, সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, রামকৃষ্ণ মিশন ও আশ্রমের অধ্যক্ষ স্বামী চন্দ্রনাথানন্দ মহারাজ, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি সুদীপ রঞ্জন সেন এবং বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি মৃত্যুঞ্জয় ধর ভোলা।
