মৃত্যুদণ্ড ঘোষণার পর বিচারক কলমের নিব ভাঙেন কেন?
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪৪ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
চলচ্চিত্রে প্রায়ই দেখা যায়, মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পর বিচারক তার ব্যবহৃত কলমের নিব ভেঙে ফেলছেন। দৃশ্যটি অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগায়—মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়ার পর কলমের নিব ভাঙার এই রীতির পেছনে কারণ কী? এটি কি আইনের কোনো বিধান, নাকি দীর্ঘদিনের প্রচলিত প্রথা?
মূলত, মৃত্যুদণ্ড ঘোষণার পর কলমের নিব ভেঙে ফেলার বিষয়টি ব্রিটিশ আমল থেকে প্রচলিত একটি রীতি হিসেবে পরিচিত। এর সঙ্গে আইনি বাধ্যবাধকতার চেয়ে প্রতীকী তাৎপর্যই বেশি জড়িত। তবে এই প্রথার উৎপত্তি ও তাৎপর্য ব্যাখ্যা করতে কয়েকটি ধারণা প্রচলিত রয়েছে।
একটি জীবন কেড়ে নেওয়ার প্রতীক
প্রচলিত ব্যাখ্যা অনুযায়ী, যে কলম দিয়ে একজন মানুষের মৃত্যুদণ্ডের রায় লেখা হয়েছে, সেই কলমের নিব আর ব্যবহার করা উচিত নয়। এর প্রতীকী অর্থ হলো, যে নিবের লেখায় একজন মানুষের জীবনাবসানের সিদ্ধান্ত এসেছে, তা দিয়ে যেন আর কারও জীবন-মৃত্যুর সিদ্ধান্ত লেখা না হয়।
বিচারকের মানসিক যন্ত্রণার প্রকাশ
আরেকটি ব্যাখ্যায় বলা হয়, মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করা বিচারকের জন্যও সহজ বিষয় নয়। অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় আদালত সর্বোচ্চ শাস্তি দিলেও একজন মানুষের মৃত্যুর সিদ্ধান্ত দেওয়ার বিষয়টি মানসিকভাবে ভারী হতে পারে। কলমের নিব ভেঙে ফেলার মাধ্যমে বিচারকের সেই বিষণ্ণতা ও মানসিক ভারের প্রতীকী প্রকাশ ঘটে বলে মনে করা হয়।
রায় পরিবর্তনের সুযোগ না থাকার প্রতীক
আরেকটি প্রচলিত ধারণা হলো, রায় ঘোষণার পর বিচারক যেন আবেগতাড়িত হয়ে সিদ্ধান্তটি প্রত্যাহার করার কথা না ভাবেন, সে জন্য কলমের নিব ভেঙে ফেলা হয়। এটি মূলত রায়ের চূড়ান্ততা বোঝানোর একটি প্রতীকী ব্যাখ্যা।
মৃত্যুর বেদনার প্রতীক
আরেকটি ব্যাখ্যায় বলা হয়, অপরাধ যত গুরুতরই হোক, মৃত্যুর ঘটনা দুঃখজনক। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলেও একটি প্রাণের অবসান যে গভীর তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, নিব ভাঙার রীতিতে সেই উপলব্ধিই প্রতিফলিত হয়।

