দুর্গোৎসব: আজ ও কাল মহাসপ্তমী
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪৪ এএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মণ্ডপে মণ্ডপে বাজছে ঢাক ও কাঁসর। ফুল, ধূপ ও আগরবাতির সৌরভ ছড়িয়ে পড়ছে সব মণ্ডপে। শঙ্খধ্বনি ও দেবী দুর্গার আগমনী বার্তায় উলুধ্বনি দিয়ে মেতে উঠেছেন ভক্তরা। এমন আবহে শুক্রবার শুরু হয়েছে দেশের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা।
রাজধানীর বিভিন্ন মণ্ডপে গিয়ে দেখা যায়, চলছে ধর্মীয় সংগীত পরিবেশনা। মাটির প্রদীপ ও মোমবাতির আলো ছাড়াও যুক্ত হয়েছে বৈদ্যুতিক নানা আলো। এতে বিভিন্ন রংয়ের আলোর বিচ্ছুরণ পড়ছে দেবী দুর্গা, সরস্বতী, লক্ষ্মী, কার্তিক ও গণেশের প্রতিমার ওপর। এই পরিবেশে বিভিন্ন বয়সের ভক্ত করজোড়ে দেব-দেবীকে প্রণাম করছেন। নিজের প্রাপ্তি ও অপ্রাপ্তির কথা বিনয়ের সঙ্গে দেবীকে জানাচ্ছেন। আজ শনি ও রবিবার মহাসপ্তমী। এ বছর বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী এই দুদিনজুড়ে মহাসপ্তমী তিথি থাকায় পরদিন থেকেই দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। ওইদিন ভক্তরা উপবাস রেখে অঞ্জলি দেবেন এবং প্রসাদ গ্রহণ করবেন। শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, এ দেশের হিন্দু সম্প্রদায় আবহমানকাল ধরে উৎসবমুখর পরিবেশে নানা আয়োজনের মাধ্যমে দুর্গাপূজা উদযাপন করে আসছে। যা আমাদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য উদাহরণ। দুর্গাপূজা শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসবই নয়, এর সঙ্গে মিশে আছে চিরায়ত বাংলার সমাজ-সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য। এ উৎসবে সমাজের সব স্তরের মানুষ আবদ্ধ হন সৌহার্দের বন্ধনে। শারদীয় দুর্গোৎসব সত্য-সুন্দরের আলোকে ভাস্বর হয়ে উঠুক, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার মধ্যে সম্প্রীতি ও সৌহার্দের বন্ধন আরও সুদৃঢ় হোক-এ কামনা করি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাণীতে বলেন-সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার-সব ধর্মেরই মূল উপজীব্য। মানবতার কল্যাণ সব ধর্মেরই অন্যতম মূল শিক্ষা। সরকারপ্রধান বলেন, যার যার ধর্মীয় বিধান ও সংস্কৃতি অনুশীলনের পাশাপাশি মানুষে মানুষে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সম্মান ও সহমর্মিতা বজায় রেখে সমাজে শান্তির পরিবেশ বহাল ও বজায় রাখা সবার জন্যই জরুরি। তিনি দুর্গাপূজায় বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের হিন্দু সম্প্রদায় তথা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
এদিকে শুক্রবার মহাষষ্ঠী তিথিতে কল্পারম্ভে বেলগাছের নিচে ঘট স্থাপন করে দশভুজা দেবী দুর্গাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। অধিবাসের মধ্য দিয়ে শুরু হয় আয়োজন। দেবী দুর্গার সঙ্গে প্রতিটি মণ্ডপে অধিষ্ঠিত হয়েছে লক্ষ্মী, গণেশ, কার্তিক ও সরস্বতী।
রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দিরের পুরোহিত বরুণ চক্রবর্তী জানান, মহাষষ্ঠীর সকালের পর্ব কল্পারম্ভ। তারা সংকল্প করছেন পূজা করবেন। তারা কল্পনা করেছেন, দেবী বিল্ববৃক্ষে এসেছেন। তাকে তারা পূজা করেছেন। এটাই কল্পারম্ভ। সন্ধ্যায় বোধন ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে দেবীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। এছাড়া রাজধানীর রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠ, রমনা কালীমন্দির ও আনন্দময়ী আশ্রম, বরোদেশ্বরী কালীমাতা মন্দির, গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা উদযাপন পরিষদ মণ্ডপ এবং পুরান ঢাকার তাঁতীবাজার, শাঁখারীবাজার ও লালবাগ ঋষিপাড়া মন্দিরসহ সারা দেশে উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্যে দুর্গাপূজা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে গুলশান-বনানীর পূজা মণ্ডপের থিম ‘জলজ’র নান্দনিকতা মানুষকে ব্যাপক আকৃষ্ট করেছে। মণ্ডপের (নির্মাতা) শিল্পী পার্থ জানান, জল থেকেই সবকিছুর উৎপত্তি। দুর্গা মা জল থেকে আসবেন আবার জলেই চলে যাবেন। তাই এবারের থিম করা হয়েছে জলজ।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় এবার পূজামণ্ডপের সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৫০০টি বেড়ে ৩৩ হাজার ৮৫১টিতে দাঁড়িয়েছে। সরকারি অনুদান ৪ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ কোটি টাকা করা হয়েছে। পঞ্জিকামতে, জগতের মঙ্গল কামনায় এবার দেবী দুর্গা ঘোড়ায় চড়ে স্বর্গলোক থেকে মর্ত্যে আসবেন। আর নৌকায় চড়ে স্বর্গলোকে ফিরে যাবেন। হিন্দু সম্প্রদায়ের দাবির প্রেক্ষিতে সরকার এ বছর নির্বাহী আদেশে দুর্গাপূজার ছুটি ৩ দিন পর্যন্ত বাড়িয়েছে। এতে সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হয়ে ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত ৫ দিন ছুটি হচ্ছে।
