কর্ণফুলী টানেলের আর্থিক লোকসান নিয়ে তদন্তের নিরিখে কাজ করবে স্থায়ী কমিটি
Advertisement
বাসস
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১০ পিএম
জাতীয় সংসদের পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ছবি: বাসস
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কর্ণফুলী টানেল সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের বাস্তবায়ন ও বর্তমান আর্থিক লোকসানের কারণ নিয়ে সুষ্ঠু তদন্তের নিরিখে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি কাজ করবে বলে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সকলে এই কমিটিকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) জাতীয় সংসদের পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপনের সভাপতিত্বে দ্বিতীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে কর্ণফুলী টানেলের ফিজিবিলিটি স্টাডি, বাস্তবায়ন ও টানেলটির বর্তমান আর্থিক লোকসানের কারণসমূহ নিয়ে আলোচনা হয় এবং পরবর্তী বৈঠকে এ বিষয়ে বিশদভাবে আলোচনা করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
আলোচ্যসূচি অনুযায়ী বৈঠকের শুরুতে সংশোধনী সাপেক্ষে বিগত সভার কার্যবিবরণী দৃঢ়ীকরণ করা হয়।
বিগত বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্তের আলোকে মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন চলমান ১,১৫৩টি প্রকল্পের তালিকা কমিটির সদস্যদের নিকট সরবরাহ করা হয় এবং এসব প্রকল্পের ৫ বছর মেয়াদী কৌশলপত্র উপস্থাপন করে এগুলো কীভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, তা কমিটিকে অবহিত করা হয়।
বৈঠকে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে ২৫৬টি প্রকল্পের মেয়াদ কেন বাড়ানো হলো তার সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা উপস্থাপন করা হয়। এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য কারণ হিসেবে ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে জটিলতা, আমদানিনির্ভরতা, প্রকল্প পরিচালক নিয়োগে জটিলতা, অনেক ক্ষেত্রে প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই সঠিকভাবে না হওয়া, কিছু কিছু প্রকল্পে সময়মত অর্থ ছাড় না হওয়া এবং আন্তঃমন্ত্রণালয় কনফ্লিক্টসহ বিভিন্ন কারণ ব্যাখ্যা করা হয়।
এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রিতা নিরসনকল্পে সংশ্লিষ্ট সকলকে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করার ব্যাপারে বৈঠকে সুপারিশ করা হয়।
প্রকল্প পরিচালক নিয়োগে নতুন নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলমান রয়েছে বলে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
নীতিমালা চূড়ান্ত হলে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগে জটিলতার গুণগত সমাধান হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
এছাড়াও প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অঞ্চলভিত্তিক বৈষম্যের বিষয়গুলো নজরে আনা এবং ন্যায্যতার ভিত্তিতে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে জানানো হয়।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের ২২১টি শূন্য পদের বিপরীতে বিভিন্ন গ্রেডে ৬৫ জন কর্মকর্তা কর্মচারী নিয়োগের কার্যক্রম চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে বৈঠকে জানানো হয়।
জনবল নিয়োগের ক্ষেত্রে শূন্য পদের বিপরীতে স্ট্রাটেজিক লোড (সুপরিকল্পিত কর্মভার) নির্ধারণ করে অগ্রাধিকারভিত্তিতে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য সভাপতি নির্দেশনা প্রদান করেন।
বৈঠকে কমিটির সদস্য ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, সংসদ সদস্য কাজী রফিকুল ইসলাম, মঈনুল ইসলাম খান, মো. সাইফুল আলম এবং মো. রাশেদুল ইসলাম রাশেদ অংশগ্রহণ করেন।
বৈঠকে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য, পরিকল্পনা বিভাগ এবং পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব, মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দপ্তরসমূহের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহের প্রধানগণ ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

-6ad329bc1494b.jpg)