দক্ষিণ কোরিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশিদের সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫০ এএম
এনইএসএর সঙ্গে বৈঠকে দক্ষিণ কোরিয়ার এমপ্লয়মেন্ট পারমিট সিস্টেমের (ইপিএস) আওতায় বাংলাদেশি কর্মীদের কাজের সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
দক্ষিণ কোরিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ ও দক্ষতা উন্নয়নে দেশটির দুটি সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক। সিউলে ন্যাশনাল এমপ্লয়মেন্ট সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন অব কোরিয়া (এনইএসএ) এবং কনস্ট্রাকশন অ্যাসোসিয়েশন অব কোরিয়ার (সিএকে) প্রতিনিধিদের সঙ্গে পৃথক এসব বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
এনইএসএর সঙ্গে বৈঠকে দক্ষিণ কোরিয়ার এমপ্লয়মেন্ট পারমিট সিস্টেমের (ইপিএস) আওতায় বাংলাদেশি কর্মীদের কাজের সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী। পাশাপাশি মৌসুমি কর্মসংস্থান, কারিগরি দক্ষতা উন্নয়ন, কোরীয় ভাষা শিক্ষা ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণে যৌথ সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দক্ষিণ কোরিয়ার শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ ও প্রশিক্ষিত কর্মী তৈরিতে বাংলাদেশ প্রস্তুত। এ সময় এনইএসএর প্রতিনিধিরা কোরীয় ভাষা শিক্ষা, পেশাভিত্তিক প্রশিক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগিতায় বাংলাদেশি কর্মীদের অবদান ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন।
বৈঠকে কর্মীদের বিদেশযাত্রার আগে ব্যবহারিক কোরীয় ভাষা ও কর্মক্ষেত্রভিত্তিক প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা হয়, যাতে তারা দেশটির কর্মপরিবেশের সঙ্গে দ্রুত খাপ খাইয়ে নিতে পারেন।
অন্যদিকে, সিএকের সঙ্গে বৈঠকে দক্ষিণ কোরিয়ার নির্মাণশিল্পে বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী। এ খাতের স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। আন্তর্জাতিক নির্মাণ খাতে বাংলাদেশি কর্মীদের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী কারিগরি প্রশিক্ষণ ও পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের অঙ্গীকারের কথা জানান।
সিএকে ও দেশটির শীর্ষস্থানীয় নির্মাণপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরা কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা, কার্যকর যোগাযোগ এবং কারিগরি দক্ষতার গুরুত্ব তুলে ধরেন। ব্যবহারিক কোরীয় ভাষায় দক্ষ ও নির্মাণকাজে প্রশিক্ষিত বাংলাদেশি কর্মীদের এ খাতে যুক্ত করার সম্ভাবনাও তারা উল্লেখ করেন।
বৈঠক দুটিতে কর্মীদের বিদেশযাত্রার আগে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি, নতুন কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র অনুসন্ধান এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে দক্ষিণ কোরিয়ার সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সিউলে বাংলাদেশ দূতাবাসের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখার নির্দেশনা দেন প্রতিমন্ত্রী।
এসব উদ্যোগের মাধ্যমে দক্ষিণ কোরিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো এবং নিরাপদ ও সম্মানজনক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে দুই দেশের সহযোগিতা আরও জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

