অতিরিক্ত ডিআইজির বাড়িতে অভিযান নিয়ে ১০১ নাগরিকের বিবৃতি, যা বললেন আইজিপি
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫৮ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
পুলিশের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শকের (অতিরিক্ত ডিআইজি) বাসায় অভিযান চালিয়ে ৮৫ জনের বেশি ব্যক্তিকে গ্রেফতার ও কারাদণ্ড দেওয়ার ঘটনায় ১০১ নাগরিকের বিবৃতির সমালোচনা করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।
তিনি বলেছেন, স্বাধীনতা আছে বলে কেউ যা ইচ্ছা তা করতে পারেন না। সবাইকে আইন মেনে চলতে হবে এবং দেশের নীতি-নৈতিকতা বজায় রাখতে হবে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাজধানীর চকবাজারে ‘কমিউনিটি ইসলামিক ব্যাংক সিস্টেম’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।
১০১ নাগরিকের বিবৃতির প্রসঙ্গ তুলে আইজিপি বলেন, ‘দেখলাম, ১০১ নাগরিক বলছেন, আমি গোপনে... আপনি কি পুলিশ হাউজিংয়ের ভেতরে গোপনে গিয়ে মদ খাবেন, মাতলামি করবেন, কোকেন-হেরোইন গ্রহণ করবেন? আর বলবেন, অভিযান করা সংবিধানপরিপন্থী? সংবিধানের কোথায় লেখা আছে, আপনি এগুলো করতে পারবেন?’
তিনি আরও বলেন, ‘আপনার স্বাধীনতা আছে, তার অর্থ এই নয় যে যা ইচ্ছা তা করতে পারবেন। আপনাকে আইনের আওতায় থাকতে হবে। এ দেশের নীতি-নৈতিকতা বজায় রেখে চলতে হবে। কথায় কথায় পুলিশের ওপর চড়াও হবেন, কথায় কথায় বলবেন পুলিশ এই করছে, সেই করছে—এটা হতে পারে না।’
আইজিপি বলেন, সুখে-শান্তিতে বসবাস করতে হলে পুলিশের প্রয়োজন রয়েছে। একই সঙ্গে নাগরিকদের আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
অতিরিক্ত ডিআইজির বাসায় অভিযান নিয়ে ১০১ নাগরিকের উদ্বেগ
এর আগে রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে রাজধানীর খিলক্ষেতে পুলিশের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তার বাসায় গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে ২৬ জন নারীসহ অন্তত ৮৫ জনকে গ্রেফতার এবং সংক্ষিপ্ত বিচারে কারাদণ্ড দেওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ ও প্রতিবাদ জানান ১০১ নাগরিক।
বিবৃতিতে আটক ও দণ্ডিত ব্যক্তিদের অবিলম্বে মুক্তি, ঘটনার স্বাধীন তদন্ত এবং আইন লঙ্ঘনকারীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে নাগরিকদের ব্যক্তিগত জীবন, গোপনীয়তা ও মর্যাদায় হস্তক্ষেপ বন্ধের আহ্বান জানান তারা।
বিবৃতিতে বলা হয়, গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অভিযানে গ্রেফতার ব্যক্তিদের আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শের সুযোগ দেওয়া হয়নি বলে যে অভিযোগ উঠেছে, তা গুরুতর উদ্বেগের বিষয়।
কার নির্দেশে, কী উদ্দেশ্যে এবং কোন আইনি ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়েছিল, তা জানতে চান বিবৃতিদাতারা। গ্রেফতার ও দণ্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত কারা নিয়েছেন এবং আইন ও যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবিও জানান তারা।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, গ্রেফতার পুরুষদের ৩০ দিন এবং নারীদের ১৫ দিন করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে প্রত্যেকের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ ছিল এবং কী প্রমাণের ভিত্তিতে তাদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে, তা প্রতিবেদনে স্পষ্ট নয় বলে উল্লেখ করেন বিবৃতিদাতারা।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, মাদকবিরোধী অভিযানের নামে পুলিশ ক্যামেরা নিয়ে ব্যক্তিগত আয়োজনে হাজির হচ্ছে। সেখানে উপস্থিত ব্যক্তিদের গোপনীয়তা ও মর্যাদা রক্ষার পরিবর্তে তাদের ছবি ও পরিচয় সংবাদমাধ্যমের সামনে তুলে ধরা হচ্ছে। অপরাধ প্রমাণের আগেই সংবাদমাধ্যমে তাদের মাদকসেবী হিসেবে উপস্থাপনের বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তারা।
১০১ নাগরিকের মতে, জনস্বার্থে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ কতটা প্রয়োজনীয়, তা বিবেচনা করা জরুরি। শনাক্তযোগ্য ছবি ও পরিচয় প্রকাশ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গোপনীয়তা, মর্যাদা ও ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষার অধিকার ক্ষুণ্ন করতে পারে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অপরাধ প্রমাণের আগেই কাউকে জনসমক্ষে হেয় করা কার্যত বিচারের আগেই সামাজিক শাস্তি দেওয়ার শামিল। এ ধরনের ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া, ব্যক্তিগত অধিকার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন বিবৃতিদাতারা।

