খালেদা জিয়ার নামে সিলেটে পার্ক হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী
Advertisement
সিলেট ব্যুরো
প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫২ পিএম
ইলেকট্রনিক মিডিয়া জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন (ইমজা) কার্যালয়ে ‘মাহা-ইমজা অভ্যন্তরীণ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ২০২৬'-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সিলেট নগরীর বিনোদন ও সৌন্দর্যবর্ধনে পুরোনো কারাগারের জায়গা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হস্তান্তরে আধুনিক পার্ক নির্মাণ করে হবে। পার্কটি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নামে নামকরণের ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
তাছাড়া কিন ব্রিজের পাশে নতুন ঝুলন্ত সেতু নির্মাণ ও সুরমা নদীর ওপর ধনপুর এলাকায় সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কথাও উল্লেখ করেন মন্ত্রী।
মঙ্গলবার বিকাল ৩টার দিকে ইলেকট্রনিক মিডিয়া জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন (ইমজা) কার্যালয়ে ‘মাহা-ইমজা অভ্যন্তরীণ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ২০২৬'-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা জানান।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বর্তমান জাপান সফর বাংলাদেশ-জাপান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে এক নতুন সম্ভাবনার দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
ইমজার সভাপতি ও যমুনা টেলিভিশনের সিলেট ব্যুরোপ্রধান মাহবুবুর রহমান রিপনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক আনিস রহমান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন, সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন ও সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী।
এছাড়া অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ক্রীড়া কমিটির আহ্বায়ক সজল ছত্রী। এছাড়া প্রবীণ সাংবাদিক ও ইমজার সাবেক সভাপতি ইকরামুল কবির, কামকামুর রাজ্জাক রুনু, সংগ্রাম সিংহ ও দেবব্রত ঘোষ চৌধুরী প্রমুখ বক্তব্য দেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী সিলেটের সার্বিক উন্নয়ন এবং মেগা প্রকল্পগুলোর বিস্তারিত রূপরেখা তুলে ধরেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী তার বক্তব্যে জানান, জাপানের আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তায় বাস্তবায়নাধীন মাতারবাড়ী ও মেট্রোরেল প্রকল্পের মতো উদ্যোগের পাশাপাশি দুই দেশের প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি কার্যকর হলে দেশে জাপানি বিনিয়োগ বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। সিলেটের কৃষি খাতের উৎপাদন ব্যয় হ্রাস ও কৃষির যান্ত্রিকীকরণের লক্ষ্যে সদর উপজেলার চারটি ইউনিয়নে ট্রাক্টর বিতরণসহ বিমানবন্দর এলাকায় ঢাকা শ্যামপুরের আদলে কোল্ড স্টোরেজ সংলগ্ন একটি আধুনিক কৃষিপণ্য প্যাকেজিং হাউস নির্মাণের পরিকল্পনা ঘোষণা দেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্দেশ্যে সিলেটে ১৮৮ একর জমির ওপর নতুন বিসিক শিল্পনগরী স্থাপন, গ্রামীণ সড়ক যোগাযোগের উন্নয়নে ৫ হাজার ৩২৬ কোটি টাকার প্রকল্প আগামী একনেক সভায় উপস্থাপন এবং সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক ২০২৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে পূর্ণাঙ্গভাবে চলাচলের উপযোগী করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে ৪ হাজার ৭০০ কোটি টাকার প্রকল্প, চেঙ্গেরখাল ও সুরমা-কুশিয়ারা নদী থেকে পানি উত্তোলন করে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের মেগা প্রকল্প এবং খাদিমনগরের সাহেবের বাজার থেকে কালাগুল বাজার হয়ে বাইপাস পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ ও বিমানবন্দর থেকে আম্বরখানা চার লেন সড়ক নির্মাণের মাধ্যমে যানজট নিরসনের নানা উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন তিনি।
ডিজিটাল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, ড্রোন ও সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি বৃদ্ধি এবং অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা পুনর্ব্যক্ত করে মন্ত্রী বলেন, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সিলেটকে একটি আধুনিক ও বাসযোগ্য জনপদে রূপান্তর করা হবে।
অনুষ্ঠান শেষে মন্ত্রী দাবা খেলার চাল দিয়ে প্রতিযোগিতার শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
