আব্বাসউদ্দীনের ভাওয়াইয়া গান নিয়ে উৎসব করবে সরকার: সংস্কৃতিমন্ত্রী
Advertisement
সাংস্কৃতিক প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২৫ পিএম
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে আব্বাসউদ্দীন আহমদের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী আব্বাসউদ্দীন আহমদের ভাওয়াইয়া গান নিয়ে কয়েক দিনের উৎসব আয়োজনের পরিকল্পনা করছে সরকার। শুধু জন্মবার্ষিকী পালন নয়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শিল্পীদের অংশগ্রহণে এ উৎসব আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে আব্বাসউদ্দীন আহমদের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, শুধু জন্মদিন পালন নয়, আমরা আব্বাসউদ্দীন আহমদের ভাওয়াইয়া গান নিয়ে কয়েক দিনের উৎসব করব। সেখানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শিল্পীরা গাইবেন। আমরা বাউল উৎসব করব, কুষ্টিয়ায় আমরা লালন উৎসব করেছি। আমরা হাসন উৎসব করব। যাত্রা-সার্কাসকে আমরা নতুন ধরনের আনতে চাই, যাতে সবাই পরিবারসহ দেখতে পারে। আমরা সাংস্কৃতিক কার্যক্রম বাড়াচ্ছি। সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বিতভাবে সাংস্কৃতিক কার্যক্রমগুলো এগিয়ে নেওয়ার কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব ও একাডেমির মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোহা. হারুন-অর-রশীদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমিন বেগম। মুখ্য আলোচক ছিলেন বিশিষ্ট গবেষক ও সংগীতশিল্পী অধ্যাপক ড. নাশিদ কামাল।
সভাপতির বক্তব্যে মোহা. হারুন-অর-রশীদ বলেন, গ্রামীণ জনপদের চিরচেনা আবেগকে তিনি সংগীতের মাধ্যমে বৃহত্তর সমাজের কাছে তুলে ধরেছেন।
তিনি বলেন, উত্তরবঙ্গের মানুষের জীবনধারাকে ভাওয়াইয়া সুরের মাধ্যমে আব্বাসউদ্দীন এমন উচ্চতায় প্রতিষ্ঠিত করেছেন, যা ভৌগোলিক সীমারেখা অতিক্রম করে বাংলা ভাষাভাষী মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী আসন করে নিয়েছে। নজরুলের ইসলামি গান জনপ্রিয় করে তোলার ক্ষেত্রেও আব্বাসউদ্দীনের ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় মঙ্গলবার জাতীয় সংগীত ও নৃত্যকলা কেন্দ্র মিলনায়তনে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। বাংলা লোকসংগীতকে বিশ্বদরবারে পরিচিত করে তোলার পথিকৃৎ আব্বাসউদ্দীন আহমদের কালজয়ী গান পরিবেশনার মধ্য দিয়ে তাকে স্মরণ করেন শিল্পীরা।
অনুষ্ঠানের শুরুতে শিল্পী রেজাউল করিম লিমন পরিবেশন করেন ‘প্রাণ সখীরে, ঐ শোন কদম্বতলে বংশী বাজায় কে’ ও ‘পরের অধীনে কইরাছে আমায়’। এরপর শিল্পী রাহাত আরা গীতি নজরুলসংগীত পরিবেশন করেন। শিল্পী নোশীন লায়লার কণ্ঠে শোনা যায় ‘সে যেন কি করলোরে আমায়’ ও ‘আমায় এত রাত কেন ডাক দিলি প্রাণ কোকিলারে’।
শিল্পী সালাউদ্দিন আহমদ পরিবেশন করেন ‘ভুলে যেও ভুলে যেও’ ও ‘কুঁচবরণ কন্যারে তোর মেঘবরণ কেশ’। এরপর অধ্যাপক ড. নাশিদ কামাল গেয়ে শোনান ‘ওকি গাড়িয়াল ভাই’। সবশেষে আব্বাসউদ্দীন সংগীত একাডেমির শিল্পীরা সমবেতভাবে পরিবেশন করেন ‘ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ’ ও ‘বাওকুমটা বাতাস যেমন ঘুরিয়া ঘুরিয়া মরে’।

-6ade06ed6a102.jpg)