সমতার বোধই লালনের মূল শিক্ষা: সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী
Advertisement
সাংস্কৃতিক প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২৭ পিএম
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ধর্মীয় উগ্রতা ও ভেদাভেদের বিরুদ্ধে সমতার চর্চার আহ্বান জানিয়েছেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। তিনি বলেন, ‘নিজেদের মধ্যে সমতার মনোভাব আনা, ধর্ম কে পালন করবে আর কে করবে না, এটা তার নিজস্ব স্বাধীনতা। কাউকে আঘাত বা হেয় না করে সকলের মতকে শ্রদ্ধা করে সমতা আনা—এটাই লালনের মূল শিক্ষা। সেটাই যেন আমরা চর্চা করি।’
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত স্মরণানুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক নানা ঘটনায় ধর্মকেন্দ্রিক উগ্রতা দেখা যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে লালন সাঁইয়ের দর্শন ও মানবতাবোধের চর্চা গুরুত্বপূর্ণ। মানুষের মধ্যে সমতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই তার দর্শনকে ধারণ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মো. হারুন-অর-রশীদ।
তিনি বলেন, ‘লালনের জীবন ও সাধনা আমাদের সামনে এমন এক মানবিক সমাজের স্বপ্ন তুলে ধরে, যেখানে মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয় সে মানুষ। লালন আমাদের শিখিয়েছেন, মর্যাদা তার জন্মপরিচয়ে নয়, তার মানবিকতা, বিবেক ও কর্মে। লালন সাঁইয়ের দর্শন শুধু আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের দর্শন নয়, আমাদের সামাজিক ও নৈতিক পুনর্জাগরণের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমিন বেগম। মুখ্য আলোচক ছিলেন শিল্পী ও গবেষক অধ্যাপক ড. আহমেদ শাকিল হাসমী। এ ছাড়া বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বল এবং জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) সদস্য সচিব জাকির হোসেন রোকন।
আলোচনা পর্ব শেষে লালনসংগীত পরিবেশনায় অংশ নেন দেশের বিশিষ্ট শিল্পীরা। শুরুতে লালনের ‘দৈন্য গান’ পরিবেশন করেন লতিফ শাহ। এরপর ‘কৃষ্ণ প্রেমে পোড়া দেহ’ পরিবেশন করেন নাসরিন সুলতানা বিউটি। লালনসংগীত পরিবেশন করেন আলেয়া বেগম। বিমান চন্দ্র বিশ্বাস গেয়ে শোনান ‘আমি অপার হয়ে বসে আছি’ এবং মৌসুমী ইকবাল পরিবেশন করেন ‘হেলায় হেলায় দিন বয়ে যায়’।
এ ছাড়া কাঙ্গালিনী সুফিয়া পরিবেশন করেন ‘দেখা দিয়েও হে রাসুল’ এবং কানিজ খন্দকার মিতু গেয়ে শোনান ‘ঘরে কেবা জাগে কেবা ঘুমায়’। সুমন রায়, পাখি বাউলিয়ানা ও সুলতানা জামান জোছনাও লালনসংগীত পরিবেশন করেন।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির কণ্ঠশিল্পীরা সমবেতভাবে ‘ধন্য ধন্য বলি তারে’, ‘আমার ঘর খানায় কে বিরাজ করে’ ও ‘মিলন হবে কত দিনে’ গান পরিবেশন করেন।

