রূপপুরের প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম কত হতে পারে?
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০২:১৮ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রূপপুরে উৎপাদিত বিদ্যুৎ কিনবে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। সংস্থাটির চেয়ারম্যান রেজাউল করিম শনিবার যুগান্তরকে বলেছেন, কবে নাগাদ রূপপুর চালু হবে তা এখনো সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ কেউ তাকে জানায়নি।
একাধিক সূত্র জানায়, রূপপুরের সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা চূড়ান্ত হলে পিডিবির সঙ্গে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের বিদ্যুৎ ক্রয়-বিক্রয় চুক্তি হতে পারে। রূপপুরের প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম প্রায় ১০ টাকা হতে পারে বলে কয়েকজন নীতিনির্ধারক যুগান্তরকে বলেছেন।
পিডিবির বিশেষজ্ঞ কমিটি রূপপুরের বিদ্যুতের মূল্য প্রতি ইউনিট ৭ মার্কিন সেন্ট বা ৮ দশমিক ৭৫ টাকায় পাওয়া যাবে বলে মনে করছে। ওই কমিটি এই মেগা প্রকল্পের কোনো রকম ক্যাপাসিটি চার্জ (প্রতি মাসে বিনিয়োগের অংশ পরিশোধ) দেওয়ার পক্ষে নয়। তবে রূপপুর প্রকল্পে কী পরিমাণ অর্থ কোন খাতে ব্যয় হয়েছে তা গত ৯ মাসে সংশ্লিষ্ট কোম্পানি দিতে পারেনি।
একাধিক সূত্র জানিয়েছে, রূপপুর কেন্দ্রের আয়ু ৮০ বছর ধরতে সুপারিশ করেছে রোসাটম। কিন্তু পিডিবি ৬০ বছর আয়ু বা উৎপাদনের মেয়াদকাল ধরে হিসাব করে একটি প্রতিবেদন বিদ্যুৎ বিভাগে জমা দিয়েছে। সেই হিসাব অনুযায়ী, এই কেন্দ্র থেকে ৭ সেন্ট বা ৮ টাকা ৭৫ পয়সায় প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ পাওয়া যেতে পারে। কিন্তু বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই হিসাবে বেশকিছু খরচ বাদ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ইন্স্যুরেন্সসহ আরও কিছু খাত যোগ হবে। এতে করে প্রতি ইউনিটের দাম ১০ টাকার কম হবে না। এ নিয়ে আলাপ-আলোচনা চলছে। পিডিবির সঙ্গে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের আলোচনা চূড়ান্ত হলে বিদ্যুৎ ক্রয়-বিক্রয় চুক্তি পিপিএ সই হবে।
সরকারি কর্মকর্তারা জানান, পিডিবি প্রতি ইউনিটের ক্রয়মূল্য ৭ সেন্ট ধরেছে। এর মধ্যে ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ ধরা হয়েছে। যদিও বা এই অর্থ ঋণের ৪ শতাংশ সুদসহ পরিশোধ করতে সরকারকে ২০ বছরে দিতে হবে ২০ বিলিয়ন ডলার। রূপপুরকেন্দ্রের প্রতি ইউনিট থেকে পাওয়া যাবে ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। এই ইউনিটের উৎপাদন দক্ষতা ধরা হয়েছে ৯০ শতাংশ। প্রতিবছর এই কেন্দ্রের পরিচালন ব্যয় হিসাবে ধরা হয়েছে ২০ কোটি ডলার। সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, রূপপুর থেকে আসল লাভ পাওয়া যাবে ২০ বছর পর। তখন ঋণ শোধের পর প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের মূল্য ৩ সেন্ট হতে পারে। তবে সবকিছু নির্ভর করছে সরকারের দক্ষতার ওপর।
ভারতের নিউক্লিয়ার পাওয়ার করপোরেশনের তথ্যমতে-সেখানে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের মূল্য পড়ছে ২ দশমিক ৫০ থেকে ৪ দশমিক ৫০ রুপি। সেখানে বাংলাদেশের কেন্দ্রে খরচ পড়ছে ৮ থেকে ১০ টাকা। তবে ডলারের দাম বাড়লে এই খরচ আরও বাড়বে।
রূপপুর পৌঁছেছে আরেকটি চালান
ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি জানান, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের পারমাণবিক জ্বালানির (ইউরেনিয়াম) আরেকটি চালান এসেছে। মঙ্গলবার সকাল পৌনে ৮টার দিকে সেনাবাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তায় জ্বালানি বহনকারী গাড়িগুলো প্রকল্প এলাকায় প্রবেশ করে। এর আগে সোমবার সকালে রাশিয়া থেকে একটি ফ্লাইটে সেগুলো ভারতের দিল্লি হয়ে ঢাকার হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। বিমানটিতে ১২টি টিপিএসে ৪১ টন পারমাণবিক জ্বালানি আনা হয়েছে। বিমানবন্দরে জ্বালানি বুঝে নেন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের কর্মকর্তারা।
