সঞ্চয় বাড়াতে চান? জেনে নিন কোন মাধ্যমে টাকা রাখা সবচেয়ে নিরাপদ ও লাভজনক
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১১:১২ এএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
দৈনন্দিন জীবনে আমরা কমবেশি সবাই-ই টাকা জমাই। হাতে কিছু টাকা জমানোর পর সবার মনেই একটা বড় প্রশ্ন জাগে—এই টাকা কোথায় বিনিয়োগ করলে লাভ বেশি হবে, আবার নিরাপত্তা নিয়েও চিন্তা থাকবে না?
জমি কেনা, ব্যাংকে এফডিআর করা, সঞ্চয়পত্র কেনা নাকি শেয়ারবাজারে ঝুঁকি নেওয়া—কোনটা আপনার জন্য উপযুক্ত, তা নিয়ে দোলাচলে ভোগেন অনেকেই। বিশেষ করে বর্তমান বাজারে মূল্যস্ফীতির কারণে টাকা জমিয়ে রাখা একরকম চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বড় ব্যবসায়ীরা চাইলেই কারখানা স্থাপন কিংবা ব্যবসা বড় করার মত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। কিন্তু সাধারণ চাকরিজীবী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী কিংবা অবসরপ্রাপ্ত মানুষের জন্য এই হিসাবটা বেশ জটিল। তাই সীমিত সঞ্চয়কে সুরক্ষিত রেখে তা থেকে নিয়মিত আয় এবং ভবিষ্যতের চাহিদা মেটানোই আসল লক্ষ্য হওয়া উচিত।
বাংলাদেশে সাধারণ মানুষের বিনিয়োগের জন্য বেশ কিছু প্রচলিত মাধ্যম রয়েছে। আপনার আর্থিক লক্ষ্য ও সামর্থ্য অনুযায়ী কোন মাধ্যমটি কেমন, তা একনজরে দেখে নেওয়া যাক:
১. সঞ্চয়পত্র: নিশ্চিত রিটার্ন, তবে রয়েছে সীমার বেড়াজাল
যারা কোনো ধরনের ঝুঁকি নিতে চান না, তাদের কাছে সঞ্চয়পত্র সবসময়ই প্রথম পছন্দ। এতে সরকারি নিশ্চয়তা থাকায় মুনাফা হারানোর ভয় থাকে না। পরিবার সঞ্চয়পত্র বা পেনশনার সঞ্চয়পত্রের মতো বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ১১ শতাংশের বেশি হারে মুনাফা পাওয়া যায়।
তবে সমস্যা হলো, এতে বিনিয়োগের সর্বোচ্চ সীমা বেঁধে দেওয়া আছে। তাই বড় অঙ্কের টাকা পুরোটা এক জায়গায় খাটানো যায় না। এ ছাড়া মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগে টাকা তুলতে গেলে মুনাফায় টান পড়তে পারে।
২. ব্যাংকের এফডিআর: সহজ ও পরিচিত পথ
ব্যাংকের স্থায়ী আমানত বা এফডিআর সাধারণ মানুষের সবচেয়ে চেনা মাধ্যম। নির্দিষ্ট মেয়াদে টাকা জমা রেখে নির্দিষ্ট হার (প্রায় সাড়ে আট শতাংশের কাছাকাছি) মুনাফা পাওয়া যায়। অনেক ব্যাংক আবার এফডিআরের বিপরীতে ঋণ দেওয়ার সুবিধাও দিয়ে থাকে। তবে সব ব্যাংকের আর্থিক অবস্থা সমান নয়। তাই শুধু বেশি সুদের লোভ না করে ব্যাংকের সুশাসন ও তারল্য পরিস্থিতি যাচাই করে তবেই এফডিআর করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
৩. ডাকঘর সঞ্চয়: আস্থার পুরনো ঠিকানা
গ্রামাঞ্চল বা শহর—সবখানেই ডাকঘর সঞ্চয় বেশ জনপ্রিয়। এর মেয়াদি হিসাবে বিনিয়োগ করলে শেষের দিকে প্রায় ১২ শতাংশ পর্যন্ত মুনাফা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে সাধারণ হিসাব ও মেয়াদি হিসাবের শর্তগুলো আলাদা হওয়ায় বিনিয়োগের আগে নিয়মকানুন ভালো করে জেনে নেওয়া জরুরি।
৪. শেয়ারবাজার: উচ্চ আয়ের সম্ভাবনা, তবে রয়েছে ঝুঁকিও
যারা দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ করতে চান এবং বাজারের উত্থান-পতন মেনে নেওয়ার মানসিকতা রাখেন, তাদের জন্য শেয়ারবাজার ভালো হতে পারে। ভালো কোম্পানির শেয়ারে লভ্যাংশ ও দাম বাড়ার সুবাদে ভালো রিটার্ন পাওয়া সম্ভব। তবে গুজবে কান দিয়ে বা কোনো রকম পড়াশোনা ছাড়া হুট করে শেয়ারবাজারে নামলে বড় লোকসানের ঝুঁকি থেকেই যায়।
৫. জমি: দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ, কিন্তু টাকা আটকে যাওয়ার ভয়
অনেকেই জমানো টাকা দিয়ে জমি কিনতে পছন্দ করেন। সঠিকভাবে কেনা গেলে জমির দাম যেমন বহুগুণ বাড়তে পারে, তেমনই এটি বড় সম্পদও বটে। তবে এর প্রধান অসুবিধা হলো—এতে একসঙ্গে অনেক টাকার প্রয়োজন হয় এবং বিপদের মুহূর্তে জমি বিক্রি করে রাতারাতি নগদ টাকা পাওয়া কঠিন। পাশাপাশি দলিলপত্র যাচাই না করে জমি কিনলে আইনি ঝামেলায় পড়ার ঝুঁকিও থাকে।
৬. সরকারি ট্রেজারি বিল-বন্ড: নিরাপদ বিকল্প
সঞ্চয়পত্র বা ব্যাংকের বাইরে সরকারি ট্রেজারি বিল ও বন্ডেও এখন অনেকে বিনিয়োগ করছেন। প্রায় ৯ শতাংশের কাছাকাছি মুনাফা পাওয়া এই মাধ্যমগুলো তুলনামূলক নিরাপদ হলেও মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে বিক্রি করতে গেলে বাজারদর অনুযায়ী কিছুটা লাভ-লোকসান হতে পারে।
বিনিয়োগের আগে যে ৫ বিষয় মাথায় রাখবেন
জরুরি তহবিলের টাকা আলাদা রাখুন: চিকিৎসার বা দৈনন্দিন জরুরি প্রয়োজনের টাকা কখনোই দীর্ঘ মেয়াদে আটকে রাখবেন না। এটি সহজে তোলা যায় এমন হিসাবে রাখুন।
লক্ষ্য স্থির করুন: আপনি কি নিয়মিত আয় চান, নাকি দীর্ঘ মেয়াদে বড় কোনো সম্পদ গড়তে চান—তা আগে ঠিক করুন।
সব টাকা এক জায়গায় নয়: আপনার সমস্ত সঞ্চয় এক খাতে বিনিয়োগ না করে ভাগ করে রাখুন। এতে একটি খাত থেকে ঝুঁকি তৈরি হলেও বাকিগুলো নিরাপদ থাকবে।
লোভে পা দেবেন না: অস্বাভাবিক বেশি মুনাফার আশ্বাসে কোনো অনিয়ম বা গুজবের ফাঁদে পা দেবেন না।
খরচ ও কর হিসাব করুন: শুধু ঘোষিত মুনাফা দেখে খুশি হবেন না; বরং কর, ফি এবং অন্যান্য খরচ বাদ দিয়ে আপনার পকেটে শেষ পর্যন্ত কত আসছে, সেটাই আসল হিসাব।
সবশেষে বলা যায়, বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ আপনার আর্থিক সামর্থ্য ও চাহিদার ওপর নির্ভর করে। তাই কোনো গুজবে কান না দিয়ে নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক মাধ্যমটি বেছে নেওয়াই হবে সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
