তাহসিফ হত্যা: যে ৬ কারণে দিশাকে ৭ দিনের রিমান্ডে চায় পুলিশ
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:২৮ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সাউরি হত্যা মামলায় জেরিকা তাসনিম দিশাকে সাতদিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেছে পুলিশ।
ঘটনার আগে তাহসিফের সঙ্গে দিশার চলাফেরা, বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ এবং দুজনের মধ্যে একাধিকবার ফোনে কথা হওয়ার তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ। এসব তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন এবং আগে গ্রেফতার হওয়া আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের সঙ্গে দিশার বক্তব্য মিলিয়ে দেখতে চান তদন্ত কর্মকর্তা।
রোববার (১ নভেম্বর) ঢাকা মহানগর আদালতে দাখিল করা রিমান্ড আবেদনে এসব তথ্য উল্লেখ করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন। আবেদনে দিশাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ছয়টি কারণ তুলে ধরা হয়েছে।
পুলিশের আবেদনে বলা হয়, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা এবং উত্তরা এলাকার বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, গত ২৭ অক্টোবর রাতে তাহসিফের সঙ্গে উত্তরা এলাকার নেস্ট বার অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে গিয়েছিলেন দিশা। ওইদিন সন্ধ্যায় তারা একাধিকবার সিপি ফাইভ স্টার স্ন্যাকসে যান। এছাড়া একটি মোটরসাইকেল গ্যারেজেও তাহসিফের সঙ্গে দিশাকে দেখা গেছে।
আবেদনে আরও বলা হয়, তাহসিফের সঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় মোটরসাইকেলে ঘোরাঘুরি করেছিলেন দিশা। তাহসিফের মুঠোফোনের কললিস্ট পর্যালোচনা করে তার সঙ্গে দিশার একাধিকবার কথা বলার তথ্য পাওয়া গেছে বলেও দাবি করেছে পুলিশ।
তদন্ত কর্মকর্তা আবেদনে উল্লেখ করেন, এ মামলায় সন্দেহভাজন আরেক আসামি আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপ বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রিমান্ডে রয়েছেন। দিশা ও দীপের বক্তব্যের মধ্যে মিল-অমিল যাচাই করা প্রয়োজন। প্রাথমিক তদন্তে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে দিশার সংশ্লিষ্টতার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে বলেও আবেদনে দাবি করা হয়েছে।
দিশাকে সাতদিনের রিমান্ডে নেওয়ার পক্ষে ছয়টি কারণ উল্লেখ করেছে পুলিশ। সেগুলো হলো—তাহসিফ হত্যার মূল রহস্য উদঘাটন, হত্যাকাণ্ডে জড়িত অজ্ঞাতনামা অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেফতার, মামলার আলামত উদ্ধার, হত্যাকাণ্ডের স্থান নির্ধারণ, দিশা ও দীপের বক্তব্যের মধ্যে মিল-অমিল যাচাই এবং দিশার দেওয়া বক্তব্যের সত্যতা পরীক্ষা করা।
তদন্ত কর্মকর্তা আবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করেন, দিশা জামিনে মুক্তি পেলে পালিয়ে গিয়ে তদন্তে বিঘ্ন ঘটাতে পারেন। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করে সাতদিনের পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুরের আবেদন করা হয়েছে।
এদিকে রোববার দুপুরে ঢাকা মহানগর আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন জানান, ঢাকা মহানগর চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিপন হোসেনের আদালতে রিমান্ড আবেদনের শুনানি হবে।
এর আগে ১ নভেম্বর রাত আনুমানিক ২টার দিকে রাজধানীর কাফরুলে নিজ বাসা থেকে দিশাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তার বয়স ১৯ বছর। এ মামলায় এর আগে তাহসিফের বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে গ্রেফতার করা হয়। ৩১ অক্টোবর আদালত দীপের চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরি। পরদিন ২৮ অক্টোবর টঙ্গীর কাছে তুরাগ নদ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম উত্তরখান থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন।


