নেপালে বাংলাদেশ দূতাবাসে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:৫৫ পিএম
নেপালের কাঠমান্ডুতে বাংলাদেশ দূতাবাস প্রাঙ্গণে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের অনুষ্ঠানে অতিথিদের একাংশ। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নেপালের বাংলাদেশ দূতাবাস যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন করেছে। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক মুহূর্ত এবং বাংলাদেশের ইতিহাসে এ দিবসের তাৎপর্য স্মরণে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
শনিবার (৭ নভেম্বর) দূতাবাস প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানের শুরুতে বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশির উপস্থিতিতে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।
পরে দূতাবাসের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও নেপালের জাতীয় সংগীত পরিবেশন, আলোচনা পর্ব এবং শহীদদের আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনা এবং দেশের অব্যাহত শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়। এ ছাড়া দিবসটির ঐতিহাসিক পটভূমি ও তাৎপর্য তুলে ধরে দুটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
আলোচনা পর্বে বক্তারা ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক তাৎপর্য, জাতি গঠন প্রক্রিয়ায় এর অবদান এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এ দিবসের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তারা বহুদলীয় গণতন্ত্র, বাকস্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভূমিকার কথা স্মরণ করেন। একই সঙ্গে দেশের জাতীয় ঐক্য, সার্বভৌমত্ব এবং স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা সুরক্ষায় জনগণের সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষা ধারণ ও সংরক্ষণে তার গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা তুলে ধরেন।
সমাপনী বক্তব্যে নেপালে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শফিকুর রহমান বাংলাদেশের জাতীয় জীবনে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের গুরুত্ব ও প্রাসঙ্গিকতার ওপর আলোকপাত করেন। তিনি এ ঘটনাকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এদিন সৈনিক ও সাধারণ জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বন্দিদশা থেকে মুক্ত হন এবং পরে গভীর সংকট থেকে দেশকে উত্তরণের দায়িত্ব তার ওপর অর্পিত হয়।
রাষ্ট্রদূত বলেন, জাতীয় নেতা হিসেবে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আবির্ভাব, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও সুরক্ষা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করে।
রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, বাংলাদেশে উৎপাদনমুখী রাজনীতির পথিকৃৎ হিসেবে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভূমিকা ও তার সুদূরপ্রসারী অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রচারসর্বস্ব রাজনীতির পরিবর্তে উৎপাদনমুখী রাজনীতির প্রবর্তন, জাতীয় নীতিনির্ধারণে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের অন্তর্ভুক্তি এবং বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ ও বিষয়াবলিকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তুলে ধরার মাধ্যমে তিনি ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির ভিত্তি স্থাপন করেন। জাতীয় ঐক্য, সংহতি ও দেশপ্রেমের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে রাষ্ট্রদূত প্রবাসী বাংলাদেশিদের জাতীয় প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করা, অবকাঠামো নির্মাণ, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন এবং সর্বোপরি জাতীয় উন্নয়ন ও অগ্রগতির লক্ষ্যে সরকারের প্রচেষ্টায় সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত নেপালের সাবেক রাষ্ট্রদূত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, নেপালের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, সার্কসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং নেপালে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিসহ প্রায় ১০০ জন অতিথি উপস্থিত ছিলেন।

