এ বন্যা কত দিন স্থায়ী হবে?
jugantor
এ বন্যা কত দিন স্থায়ী হবে?

  যুগান্তর রিপোর্ট  

২৫ জুলাই ২০২০, ২১:২৩:২২  |  অনলাইন সংস্করণ

বন্যায় মাদারীপুরের চিত্র। ছবি: যুগান্তর

দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির দিন দিন অবনতি হচ্ছে। ঢাকার আশপাশের নদ-নদীতে বাড়ছে পানি প্রবাহ। ইতিমধ্যে রাজধানীর ডেমরা এলাকায় ঢুকে পড়েছে বন্যার পানি। সবমিলিয়ে দেশের ৩২ জেলা এই মুহূর্তে বন্যা কবলিত। এগুলোর মধ্যে ১৬টিতে আরও অন্তত দু’দিন ধরে অবনতি ঘটবে বন্যা পরিস্থিতির। বাকিগুলোতে পরিস্থিতি উন্নতি অব্যাহত থাকবে।

অনেকের ধারণা, জুলাইয়ের শেষের দিকে কিছু জেলা থেকে বানের পানি কমে যেতে পারে। কিন্তু বৃষ্টিপাত পরিস্থিতির বিদ্যমান অবস্থা এবং পূর্বাভাস বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চলতি বন্যা আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত চলতে পারে।

বন্যা ও আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসাম, মেঘালয় এবং হিমালয় পাদদেশীয় পশ্চিমবঙ্গে ভারী বৃষ্টির প্রবণতা কমেছে। তবে এখন পর্যন্ত হওয়া বৃষ্টির পানি আরও অন্তত ২৪ ঘন্টা উজান থেকে আসতে থাকবে। ফলে এই সময়টায় বহ্মপুত্রে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটবে। এরপর অবশ্য ভারী বৃষ্টি না নেই উজানের রাজ্যগুলোতে। কিন্তু তিন-চারদিন মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে।

ফলে বহ্মপুত্র-যমুনার পানি না বাড়লেও নদীর সমতল স্থিতিশীল থাকতে পারে। সবমিলে উত্তরের জেলাগুলোতে বিদ্যমান বন্যা অন্তত একসপ্তাহ উন্নতির কোনো আশা নেই।

অপরদিকে বহ্মপুত্র-যমুনার পানি নেমে যুক্ত হচ্ছে পদ্মায়। আর যমুনা-পদ্মার পানি নেমে যুক্ত হচ্ছে মেঘনায়। এ কারণে মধ্যাঞ্চল ও নিম্ন-মধ্যাঞ্চলে দিন দিন বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। এই পানি চাপ সৃষ্টি করছে রাজধানীর আশপাশের চার নদীতে। ইতিমধ্যে ডেমরার কাছে বালু নদীর পানি বিপৎসীমা পার করেছে। এতে ওই এলাকায় বন্যা সৃষ্টি হয়েছে।

আগামী কয়েকদিনের মধ্যে এই দুটিও বিপৎসীমা পার করতে পারে। তুরাগ এবং টঙ্গী খালে পানি প্রবাহ বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটারের মধ্যে আছে। তবে বুড়িগঙ্গার পানি বিপৎসীমার বেশ নিচে আছে। আরও অন্তত আগামী ৪৮ ঘন্টা এসব নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে। বিপরীত দিকে আপার মেঘনা অববাহিকার নদনদী থেকে পানি নামা অব্যাহত আছে। এতে সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে।

বুয়েটের পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. একেএম সাইফুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, আগামী ২৮ জুলাই পর্যন্ত বহ্মপুত্র অববাহিকার দেশগুলোতে বৃষ্টিপাত অনেক কমে আসতে পারে। কিন্তু ২৯ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত ৬৬৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত দেখা যাচ্ছে। এতে ৩০ জুলাইয়ের পর চতুর্থ দফায় বন্যা শুরু হতে পারে। সাধারণত একদিনে ৩০০ মিলিমিটার পরিমাণ বৃষ্টি হলে তা অন্তত ১০ দিনব্যাপী বন্যার সৃষ্টি করে। সেই হিসাবে বহ্মপুত্রে জুলাইয়ের শেষে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও আগস্টের ১০ থেকে ১৪ তারিখের আগে আমরা সম্ভবত বন্যা মুক্ত হচ্ছি না। তবে পূর্বাঞ্চলে বন্যার ভয়াবহতা কমে আসতে পারে। এরমধ্যে আবার গঙ্গায় শুরু হতে পারে বন্যা। কেননা, শনিবারই ফারাক্কা পয়েন্টে (ভারত অংশে) গঙ্গা বিপৎসীমা পার করেছে। এই পানি ধীরে ধীরে রাজশাহী ও কৃষ্টিয়া থেকে নীচের দিকে বন্যা সৃষ্টি করতে পারে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং সরকারের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি) বলছে, এ মুহুর্তে দেশের ৩০টি জেলা বন্যা উপদ্রুত এবং মোট ৩২টি বন্যা কবলিত।

জেলাগুলো হচ্ছে-কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, নাটোর, বগুড়া, জামালপুর, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল, নওগাঁ, মানিকগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, চাঁদপুর, শরিয়তপুর, রাজবাড়ি, ঢাকা, সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, লালমনিরহাট, নীলফামারি, নারায়ণগঞ্জ, রংপুর, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ফেণী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ময়মনসিংহ ও রাজশাহী। এগুলোর সুনামগঞ্জে পরিস্থিতি উন্নতির দিকে আর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় স্থিতিশীল আছে। পরের ১৬টিতে পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে।

এ বন্যা কত দিন স্থায়ী হবে?

 যুগান্তর রিপোর্ট 
২৫ জুলাই ২০২০, ০৯:২৩ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
বন্যায় মাদারীপুরের চিত্র। ছবি: যুগান্তর
বন্যায় মাদারীপুরের চিত্র। ছবি: যুগান্তর

দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির দিন দিন অবনতি হচ্ছে। ঢাকার আশপাশের নদ-নদীতে বাড়ছে পানি প্রবাহ। ইতিমধ্যে রাজধানীর ডেমরা এলাকায় ঢুকে পড়েছে বন্যার পানি। সবমিলিয়ে দেশের ৩২ জেলা এই মুহূর্তে বন্যা কবলিত। এগুলোর মধ্যে ১৬টিতে আরও অন্তত দু’দিন ধরে অবনতি ঘটবে বন্যা পরিস্থিতির। বাকিগুলোতে পরিস্থিতি উন্নতি অব্যাহত থাকবে। 

অনেকের ধারণা, জুলাইয়ের শেষের দিকে কিছু জেলা থেকে বানের পানি কমে যেতে পারে। কিন্তু বৃষ্টিপাত পরিস্থিতির বিদ্যমান অবস্থা এবং পূর্বাভাস বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চলতি বন্যা আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত চলতে পারে। 

বন্যা ও আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসাম, মেঘালয় এবং হিমালয় পাদদেশীয় পশ্চিমবঙ্গে ভারী বৃষ্টির প্রবণতা কমেছে। তবে এখন পর্যন্ত হওয়া বৃষ্টির পানি আরও অন্তত ২৪ ঘন্টা উজান থেকে আসতে থাকবে। ফলে এই সময়টায় বহ্মপুত্রে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটবে। এরপর অবশ্য ভারী বৃষ্টি না নেই উজানের রাজ্যগুলোতে। কিন্তু তিন-চারদিন মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে। 

ফলে বহ্মপুত্র-যমুনার পানি না বাড়লেও নদীর সমতল স্থিতিশীল থাকতে পারে। সবমিলে উত্তরের জেলাগুলোতে বিদ্যমান বন্যা অন্তত একসপ্তাহ উন্নতির কোনো আশা নেই।

অপরদিকে বহ্মপুত্র-যমুনার পানি নেমে যুক্ত হচ্ছে পদ্মায়। আর যমুনা-পদ্মার পানি নেমে যুক্ত হচ্ছে মেঘনায়। এ কারণে মধ্যাঞ্চল ও নিম্ন-মধ্যাঞ্চলে দিন দিন বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। এই পানি চাপ সৃষ্টি করছে রাজধানীর আশপাশের চার নদীতে। ইতিমধ্যে ডেমরার কাছে বালু নদীর পানি বিপৎসীমা পার করেছে। এতে ওই এলাকায় বন্যা সৃষ্টি হয়েছে।

আগামী কয়েকদিনের মধ্যে এই দুটিও বিপৎসীমা পার করতে পারে। তুরাগ এবং টঙ্গী খালে পানি প্রবাহ বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটারের মধ্যে আছে। তবে বুড়িগঙ্গার পানি বিপৎসীমার বেশ নিচে আছে। আরও অন্তত আগামী ৪৮ ঘন্টা এসব নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে। বিপরীত দিকে আপার মেঘনা অববাহিকার নদনদী থেকে পানি নামা অব্যাহত আছে। এতে সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে।

বুয়েটের পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. একেএম সাইফুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, আগামী ২৮ জুলাই পর্যন্ত বহ্মপুত্র অববাহিকার দেশগুলোতে বৃষ্টিপাত অনেক কমে আসতে পারে। কিন্তু ২৯ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত ৬৬৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত দেখা যাচ্ছে। এতে ৩০ জুলাইয়ের পর চতুর্থ দফায় বন্যা শুরু হতে পারে। সাধারণত একদিনে ৩০০ মিলিমিটার পরিমাণ বৃষ্টি হলে তা অন্তত ১০ দিনব্যাপী বন্যার সৃষ্টি করে। সেই হিসাবে বহ্মপুত্রে জুলাইয়ের শেষে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও আগস্টের ১০ থেকে ১৪ তারিখের আগে আমরা সম্ভবত বন্যা মুক্ত হচ্ছি না। তবে পূর্বাঞ্চলে বন্যার ভয়াবহতা কমে আসতে পারে। এরমধ্যে আবার গঙ্গায় শুরু হতে পারে বন্যা। কেননা, শনিবারই ফারাক্কা পয়েন্টে (ভারত অংশে) গঙ্গা বিপৎসীমা পার করেছে। এই পানি ধীরে ধীরে রাজশাহী ও কৃষ্টিয়া থেকে নীচের দিকে বন্যা সৃষ্টি করতে পারে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং সরকারের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি) বলছে, এ মুহুর্তে দেশের ৩০টি জেলা বন্যা উপদ্রুত এবং মোট ৩২টি বন্যা কবলিত।

জেলাগুলো হচ্ছে-কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, নাটোর, বগুড়া, জামালপুর, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল, নওগাঁ, মানিকগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, চাঁদপুর, শরিয়তপুর, রাজবাড়ি, ঢাকা, সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, লালমনিরহাট, নীলফামারি, নারায়ণগঞ্জ, রংপুর, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ফেণী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ময়মনসিংহ ও রাজশাহী। এগুলোর সুনামগঞ্জে পরিস্থিতি উন্নতির দিকে আর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় স্থিতিশীল আছে। পরের ১৬টিতে পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে।

 

ঘটনাপ্রবাহ : বন্যা ২০২০