jugantor
সিলেটে ছাত্রলীগ ১৮ ভাগ
ক্যাডাররা আধিপত্য বিস্তারের হাতিয়ার

  রেজওয়ান আহমদ, সিলেট থেকে  

২৩ নভেম্বর ২০১৪, ০০:০০:০০  | 

সিলেটে নানা অপকর্মে মলিন হয়ে পড়েছে ছাত্রলীগের অতীত ঐতিহ্য। জলাঞ্জলি হচ্ছে সব অর্জন। এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে অগ্নিসংযোগ, হামলা, ভাংচুর, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, জমিদখল, খুন, সন্ত্রাসসহ নানা সন্ত্রাসী অপকর্ম ঘিরে ধরেছে সংগঠনটিকে। স্থানীয় নেতাকর্মীরা বিত্ত-বৈভব আর প্রভাব বিস্তারে ঝুঁকে পড়ায় ঐক্য টিকছে না ছাত্রলীগে। দ্বিধাবিভক্তির পর ৮টি বলয়ে ভাগ হওয়া ছাত্রলীগ এখন পরিণত হয়েছে ১৮ ভাগে। নেতারা কর্মীদের বিভক্ত করে বলয়, গ্রুপ, উপগ্রুপ নিয়ে ব্যস্ত। তাই মূল সংগঠনের ব্যাপারে একেবারেই উদাসীন। এসব বলয়, গ্রুপ, উপগ্রুপের ক্যাডার লালন করে প্রভাব বিস্তার ও ফায়দা লুটতে তৎপর আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের কয়েক নেতা। বেপরোয়া ছাত্রলীগ ক্যাডাররা আওয়ামী গডফাদারদের শেল্টারে দফায় দফায় মেতে উঠছে আÍঘাতী খেলায়। ক্যাডাররা ব্যবহার হচ্ছে আধিপত্য বিস্তারের হাতিয়ার হিসেবে। নেতাকর্মীরা ব্যস্ত ভর্তি বাণিজ্য, হামলা, ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, জমিদখল, খুন, সন্ত্রাসসহ নানা সন্ত্রাসী অপকর্মে। এমনকি আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সরকার গঠনের পর দ্বন্দ্ব, গ্রুপিংয়ের জের ধরে সংঘটিত আত্মঘাতী সংঘর্ষে হতাহত হয়েছেন বেশকয়েক নেতাকর্মী। এর সর্বশেষ বলি বৃহস্পতিবার শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের বন্দুকযুদ্ধে নিহত সুমন চন্দ্র দাস। প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া দিয়ে শাবি ক্যাম্পাসসহ আশপাশ এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত করে বিবদমান ছাত্রলীগের দুটি গ্রুপ। ফলে সিলেটে এখন ছাত্রলীগ মানেই রীতিমতো আতংক।

দীর্ঘদিন থেকে সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগ দ্বিধাবিভক্ত ছিল। বর্তমানে ৮টি বলয়ে বিভক্ত ছাত্রলীগের ১৮টি উপগ্রুপ রয়েছে। গ্রুপগুলো হচ্ছে কাশ্মীর গ্রুপ, টিলাগড় গ্রুপ, দর্শনদেউড়ি গ্রুপ, তালতলা গ্রুপ, সোনার বাংলা গ্রুপ, মির্জাজাঙ্গাল গ্রুপ, উপশহর গ্রুপ ও পঙ্কজ-বাবলা গ্রুপ। এ গ্রুপগুলোও আবার বিভিন্ন উপগ্রুপে বিভক্ত। এরমধ্যে দর্শনদেউরি গ্রুপের নেপথ্যে রয়েছেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল। কাশ্মীর গ্রুপের নেপথ্যে রয়েছেন মহানগর আওয়ামী লীগের বিভাগীয় উপদফতর সম্পাদক বিধান কুমার সাহা। টিলাগড় গ্র“পের নেপথ্যে রয়েছেন যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক রণজিত সরকার ও কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদ। তালতলা গ্র“পের নেপথ্যে রয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন খান। সোনার বাংলা গ্র“পের নেতৃত্বে রয়েছেন জেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক সেলিম আহমদ সেলিম, সাবেক ছাত্র নেতা সুলতান আলী মনসুর ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আফতাব হোসেন খান।

এছাড়া উপশহর এলাকায় একটি গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে রয়েছেন সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর সালেহ আহমদ সেলিম। সোনারবাংলা গ্রুপের সবকটি অংশকে নিয়ন্ত্রণ করেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ। এছাড়া নগরীর পীরমহল্লা এলাকায় আফতাবের নেতৃত্বে একটি সন্ত্রাসী গ্রুপকে শেল্টার দেন মিসবাহ। মির্জাজাঙ্গাল গ্রুপের নেতৃত্বে রয়েছেন সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক পীযূষকান্তি। তিনি বিধান গ্রুপ থেকে বের হয়ে পৃথক আরেকটি গ্রুপের জন্ম দেন। তার গ্রুপের ছাত্রলীগের নেতৃত্বে রয়েছেন তিনি নিজেই।



সাবমিট

সিলেটে ছাত্রলীগ ১৮ ভাগ

ক্যাডাররা আধিপত্য বিস্তারের হাতিয়ার
 রেজওয়ান আহমদ, সিলেট থেকে 
২৩ নভেম্বর ২০১৪, ১২:০০ এএম  | 
সিলেটে নানা অপকর্মে মলিন হয়ে পড়েছে ছাত্রলীগের অতীত ঐতিহ্য। জলাঞ্জলি হচ্ছে সব অর্জন। এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে অগ্নিসংযোগ, হামলা, ভাংচুর, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, জমিদখল, খুন, সন্ত্রাসসহ নানা সন্ত্রাসী অপকর্ম ঘিরে ধরেছে সংগঠনটিকে। স্থানীয় নেতাকর্মীরা বিত্ত-বৈভব আর প্রভাব বিস্তারে ঝুঁকে পড়ায় ঐক্য টিকছে না ছাত্রলীগে। দ্বিধাবিভক্তির পর ৮টি বলয়ে ভাগ হওয়া ছাত্রলীগ এখন পরিণত হয়েছে ১৮ ভাগে। নেতারা কর্মীদের বিভক্ত করে বলয়, গ্রুপ, উপগ্রুপ নিয়ে ব্যস্ত। তাই মূল সংগঠনের ব্যাপারে একেবারেই উদাসীন। এসব বলয়, গ্রুপ, উপগ্রুপের ক্যাডার লালন করে প্রভাব বিস্তার ও ফায়দা লুটতে তৎপর আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের কয়েক নেতা। বেপরোয়া ছাত্রলীগ ক্যাডাররা আওয়ামী গডফাদারদের শেল্টারে দফায় দফায় মেতে উঠছে আÍঘাতী খেলায়। ক্যাডাররা ব্যবহার হচ্ছে আধিপত্য বিস্তারের হাতিয়ার হিসেবে। নেতাকর্মীরা ব্যস্ত ভর্তি বাণিজ্য, হামলা, ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, জমিদখল, খুন, সন্ত্রাসসহ নানা সন্ত্রাসী অপকর্মে। এমনকি আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সরকার গঠনের পর দ্বন্দ্ব, গ্রুপিংয়ের জের ধরে সংঘটিত আত্মঘাতী সংঘর্ষে হতাহত হয়েছেন বেশকয়েক নেতাকর্মী। এর সর্বশেষ বলি বৃহস্পতিবার শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের বন্দুকযুদ্ধে নিহত সুমন চন্দ্র দাস। প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া দিয়ে শাবি ক্যাম্পাসসহ আশপাশ এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত করে বিবদমান ছাত্রলীগের দুটি গ্রুপ। ফলে সিলেটে এখন ছাত্রলীগ মানেই রীতিমতো আতংক।

দীর্ঘদিন থেকে সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগ দ্বিধাবিভক্ত ছিল। বর্তমানে ৮টি বলয়ে বিভক্ত ছাত্রলীগের ১৮টি উপগ্রুপ রয়েছে। গ্রুপগুলো হচ্ছে কাশ্মীর গ্রুপ, টিলাগড় গ্রুপ, দর্শনদেউড়ি গ্রুপ, তালতলা গ্রুপ, সোনার বাংলা গ্রুপ, মির্জাজাঙ্গাল গ্রুপ, উপশহর গ্রুপ ও পঙ্কজ-বাবলা গ্রুপ। এ গ্রুপগুলোও আবার বিভিন্ন উপগ্রুপে বিভক্ত। এরমধ্যে দর্শনদেউরি গ্রুপের নেপথ্যে রয়েছেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল। কাশ্মীর গ্রুপের নেপথ্যে রয়েছেন মহানগর আওয়ামী লীগের বিভাগীয় উপদফতর সম্পাদক বিধান কুমার সাহা। টিলাগড় গ্র“পের নেপথ্যে রয়েছেন যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক রণজিত সরকার ও কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদ। তালতলা গ্র“পের নেপথ্যে রয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন খান। সোনার বাংলা গ্র“পের নেতৃত্বে রয়েছেন জেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক সেলিম আহমদ সেলিম, সাবেক ছাত্র নেতা সুলতান আলী মনসুর ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আফতাব হোসেন খান।

এছাড়া উপশহর এলাকায় একটি গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে রয়েছেন সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর সালেহ আহমদ সেলিম। সোনারবাংলা গ্রুপের সবকটি অংশকে নিয়ন্ত্রণ করেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ। এছাড়া নগরীর পীরমহল্লা এলাকায় আফতাবের নেতৃত্বে একটি সন্ত্রাসী গ্রুপকে শেল্টার দেন মিসবাহ। মির্জাজাঙ্গাল গ্রুপের নেতৃত্বে রয়েছেন সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক পীযূষকান্তি। তিনি বিধান গ্রুপ থেকে বের হয়ে পৃথক আরেকটি গ্রুপের জন্ম দেন। তার গ্রুপের ছাত্রলীগের নেতৃত্বে রয়েছেন তিনি নিজেই।



 
শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র