পাকিস্তানের সাবেক মন্ত্রীর মেয়ে ও জামাতার ১০ বছর কারাদণ্ড
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৫৩ পিএম
পাকিস্তানের মানবাধিকারবিষয়ক আইনজীবী হাদি আলী চাথা ও তার স্ত্রী ইমান মাজারি। ছবি: গেটি ইমেজেস
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
পাকিস্তানে মানবাধিকারবিষয়ক আইনজীবী ইমান মাজারি ও তার স্বামী হাদি আলী চাথাকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির সন্ত্রাসবিরোধী আদালত। ইমান মাজারির মা শিরিন মাজারি পাকিস্তানের সাবেক মানবাধিকারবিষয়ক মন্ত্রী। তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সরকারে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিবিসির খবরে জানানো হয়, ২০২৪ সালে একটি ক্রিকেট সফরকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার অভিযোগে তাদের এ সাজা দেওয়া হয়েছে।
ওই দম্পতির বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা রাজধানী ইসলামাবাদে সড়কের প্রতিবন্ধকতা সরিয়ে ফেলেছিলেন এবং পুলিশ সদস্যদের কাজে বাধা দিয়েছিলেন। তবে দুজনই এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেনাবাহিনীর সমালোচনা করে পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে তাদের সর্বোচ্চ ১৭ বছরের কারাদণ্ড হয়েছিল। গত আগস্টে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট ওই সাজা স্থগিত করেন। তবে কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার আগেই পুলিশ তাদের পুনরায় গ্রেফতার করে। গত কয়েক মাস ধরে তারা রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বন্দি রয়েছেন।
নতুন মামলাটি ২০২৪ সালের ২৫ অক্টোবরের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে। ওই সময় পাকিস্তান সফরে ছিল ইংল্যান্ড ক্রিকেট দল।
প্রসিকিউশন পক্ষের অভিযোগ, ক্রিকেট দলের নিরাপত্তা বহরের চলাচলের জন্য নির্ধারিত সড়কের প্রতিবন্ধকতা সরিয়ে ফেলেন মাজারি ও চাথা। এ ছাড়া ইসলামাবাদের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সংযোগস্থল জিরো পয়েন্টে তারা পুলিশ সদস্যদের কাজে বাধা দেন।
সন্ত্রাসবিরোধী আইনে তাদের প্রত্যেককে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি কর্মচারীদের কাজে বাধা দেওয়া এবং তাদের ওপর বলপ্রয়োগের অভিযোগে আরও এক বছর ও দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে সব সাজা একই সঙ্গে কার্যকর হবে।
এ ছাড়া প্রত্যেককে ২ লাখ পাকিস্তানি রুপি জরিমানা করা হয়েছে।
বিচার চলাকালে দেওয়া বক্তব্যে ওই দম্পতি অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের শিকার হয়েছেন তারা।
ডন নিউজকে চাথা বলেন, ‘শুধু আমার স্ত্রীর কাজ ও আন্দোলনকে সমর্থন করার জন্যই নয়, বরং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের পথকে আমাদের যৌথ জীবনের যাত্রা হিসেবে বেছে নেওয়ার কারণেও আমাকে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে।’
এর আগে ওই দম্পতি বলেছিলেন, ‘স্বৈরাচার, নিপীড়ন ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে যারা দাঁড়ান বা দাঁড়াতে চান, তাদের আরও ভয় দেখানোর জন্য আমাদের দৃষ্টান্ত হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।’
বিচারপ্রক্রিয়ার সমালোচনা করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংস্থাটি বলেছে, ওই দম্পতিকে উন্মুক্ত ও সুষ্ঠু বিচার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।
বিচারপ্রক্রিয়া কারাগারের ভেতরে স্থানান্তর করায়ও উদ্বেগ জানিয়েছে সংস্থাটি। শুনানির সময় মাজারি ও চাথাকে খাঁচার মতো একটি কাঠামোর ভেতরে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছে অ্যামনেস্টি।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ওই দম্পতির বিরুদ্ধে একাধিক ফৌজদারি মামলা হয়েছে।
ইসলামাবাদ হাইকোর্টের বাইরে একটি কথিত সংঘর্ষের ঘটনায় করা পৃথক মামলায় গত ২৩ জানুয়ারি গ্রেফতারের পর থেকে তারা কারাগারে রয়েছেন। এর এক দিন পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেনাবাহিনীর সমালোচনা করে পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে পাকিস্তানের ইলেকট্রনিক অপরাধ প্রতিরোধ আইনে তাদের সর্বোচ্চ ১৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট গত ১৭ সেপ্টেম্বর ওই সাজা স্থগিত করে তাদের জামিন দেন। কিন্তু একই দিন ২০২৫ সালের মার্চে একটি বিক্ষোভের ঘটনায় করা পৃথক মামলায় তাদের আবার গ্রেফতার করা হয়। ওই বিক্ষোভে ‘সরকারবিরোধী স্লোগান’ দেওয়া এবং ‘সড়ক অবরোধের’ অভিযোগ আনা হয় তাদের বিরুদ্ধে।
ইমান মাজারি ও হাদি আলী চাথা পাকিস্তানের পরিচিত মানবাধিকারবিষয়ক আইনজীবী। জোরপূর্বক গুমের শিকার ব্যক্তি ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার নিয়ে কাজ করার পাশাপাশি তারা বিভিন্ন আন্দোলনকর্মী ও সাংবাদিকের পক্ষে আইনি লড়াই করেছেন।

