Logo
Logo
×
   

Advertisement

রাজনীতি

‘ধরা খেয়ে দ্বিতীয় বিয়ের নাটক সাজাবেন, সেটা কেমন চরিত্র আর হেকমত?’

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬, ১১:৫১ এএম

‘ধরা খেয়ে দ্বিতীয় বিয়ের নাটক সাজাবেন, সেটা কেমন চরিত্র আর হেকমত?’

গাজী নজরুল ইসলাম ও আব্দুল কাদের। ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর-কালীগঞ্জ আংশিক) আসনের সংসদ-সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতা গাজী নজরুল ইসলামের ‘ব্যক্তিগত মুহূর্ত’ সংবলিত ভিডিওকে ঘিরে চলমান আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে এবার এ বিষয়ে ফেসবুক পোস্ট দিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক আব্দুল কাদের। পোস্টে তিনি ভিডিওটি নিয়ে নানা অভিযোগ ও প্রশ্ন তুলে ধরেছেন এবং ঘটনাটিকে ব্যক্তিগত বিষয় থেকে সম্ভাব্য বেআইনি পর্যায়ে চলে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন।

বুধবার (২২ জুলাই) আব্দুল কাদের লিখেছেন, ‘মানুষের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আমি মাথা ঘামাই না এবং প্রাইভেসি লঙ্ঘন নিয়ে বেশ সচেতন থাকার চেষ্টা করি। তাই সঙ্গত কারণেই জামাত নেতার কর্মকাণ্ড নিয়ে আমি একেবারে নির্লিপ্ত ছিলাম।’ তবে বিষয়টি ব্যক্তিগত পরিসর ছাড়িয়ে সম্ভাব্য বেআইনি পর্যায়ে পৌঁছানোর অভিযোগ ওঠার পর তিনি বিভিন্ন সূত্রে খোঁজখবর নেন বলে উল্লেখ করেন।

পোস্টে তিনি দাবি করেন, সদ্য এসএসসি পাশ করা এক তরুণী চাকরির সুপারিশের আশায় সংসদ-সদস্যের কাছে গিয়েছিলেন। ওই তরুণীর অসহায় অবস্থার সুযোগ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে তিনি লেখেন, ‘সবচেয়ে কনসার্নিং বিষয় হচ্ছে, সদ্য এসএসসি পাশ করা একটা মেয়ে চাকরির প্রত্যাশায় এলাকার এমপির কাছে গেছেন সুপারিশের জন্য... কিন্তু এমপি সাহেব মেয়ের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে তাকে রুমে নিয়ে গেছেন!’

আব্দুল কাদের আরও অভিযোগ করেন, সংসদ-সদস্যের ব্যক্তিগত সহকারী ও চালক নাকি বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাক্ষী। তাদের বরাত দিয়ে তিনি জমি ও বালুমহল দখল এবং এলাকায় সন্ত্রাসী বাহিনী ব্যবহারের অভিযোগও তোলেন। পোস্টে তিনি বলেন, ব্যক্তিগত সহকারী হওয়ার সুবাদে এসব ঘটনার প্রত্যক্ষ সাক্ষী থাকার দাবি করা হয়েছে।

পোস্টে জামায়াতের রাজনীতি ও ধর্মীয় ভাবমূর্তি নিয়েও সমালোচনা করেন আব্দুল কাদের। তার ভাষায়, ‘জামাত নেতার এমন অনৈতিক কাজ নিয়ে বেশি মাতামাতি হতো না, যদি না তারা নিজেদেরকে অন্যান্যদের তুলনায় সৎ এবং চরিত্রবান রূপে আলাদা সত্তা হিসেবে প্রচার করতেন।’

পোস্টে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘আপনি নিজেকে ইসলামের একমাত্র ধারক-বাহক এবং গতানুগতিক কালচারের বাইরে সৎ হিসেবে প্রচার করবেন, আর তলে তলে মানুষের টাকা আত্মসাৎ করবেন, নারীদের নানান কায়দায়-প্রলোভনে ধর্ষণ করবেন, ধরা খেয়ে দ্বিতীয় বিয়ের নাটক সাজাবেন; সেটা কেমন চরিত্র আর হেকমত?’

আব্দুল কাদের আরও দাবি করেন, ধর্মীয় আবেগকে ব্যবহার করে ব্যক্তি ও গোষ্ঠীগত স্বার্থ হাসিলের বিরুদ্ধে তিনি দীর্ঘদিন ধরে কথা বলে আসছেন। তিনি লেখেন, ‘আমরা কিছু মানুষ জামাত শিবিরের এহেন চরিত্র-ধর্মকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে ব্যক্তি এবং গোষ্ঠীগিত স্বার্থ, অপরাধ কিংবা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল নিয়ে অনেক আগে থেকে কথা বলেছি। ধর্মীয় লেবাস বা ধার্মিকতার ভান করে সাধারণ মানুষের সরল বিশ্বাস এবং ধর্মীয় আবেগকে পুঁজি করার বিষয়ে সচেতন করার চেষ্টা করেছি। মানুষের হয়তো ধর্মীয় আবেগজনিত দুর্বলতার কারণে বিশ্বাস করতে কষ্ট হইছে, এখন অবশ্য ধীরে ধীরে বুঝছে। আগামীতে আরও ভালোভাবে বুঝবে। সৎ লোকের শাসন আর আল্লাহর আইন বাস্তবায়ন করার নামে ধর্মব্যবসায়ীদের ব্যাপারে ধর্মপ্রাণ মানুষ সচেতন হবে, নিকট ভবিষ্যতেই রুখে দাঁড়াবে।’

উল্লেখ্য, গাজী নজরুল ইসলামের ‘ব্যক্তিগত মুহূর্ত’ সংবলিত একটি ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। প্রথমদিকে জামায়াতসংশ্লিষ্ট কয়েকজন ভিডিওটিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি বলে দাবি করলেও পরে ভিডিওতে থাকা তরুণীকে সংসদ-সদস্যের দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করা হয়।

সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামও নিজের ফেসবুক আইডিতে ভিডিওটি নিয়ে ব্যাখ্যা দেন এবং পৃথক লিখিত বিবৃতি প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি ভিডিওতে থাকা তরুণীকে নিজের দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করেন। তবে দাবিকৃত বিয়ের কাবিননামা এবং তরুণীর বায়োডাটা প্রকাশের পর নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। কারণ, প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দাবিকৃত বিয়ের পাঁচ দিন পরও ওই তরুণীর বায়োডাটায় বৈবাহিক অবস্থা ‘অবিবাহিত’ উল্লেখ রয়েছে।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম