Logo
Logo
×

Advertisement

রাজনীতি

মুক্তিযুদ্ধে নিজেদের ভূমিকা নিয়ে ৬ বার উদ্যোগ নিয়েও কেন ক্ষমা চায়নি জামায়াত?

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৪৭ এএম

মুক্তিযুদ্ধে নিজেদের ভূমিকা নিয়ে ৬ বার উদ্যোগ নিয়েও কেন ক্ষমা চায়নি জামায়াত?

সংগৃহীত

Advertisement

জামায়াতে ইসলামীর সাবেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকের নতুন বইয়ে উঠে এসেছে, দলটির ভেতরে একাত্তরে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে নিজেদের ভূমিকা নিয়ে জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হলেও প্রতিবারই তা থেমে গেছে। ‘বাংলাদেশ জামায়াত-ই-ইসলামী: ইটস হিস্ট্রি অ্যান্ড পলিটিকস’ বইয়ে এসব ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছেন তিনি।

রাজ্জাকের বর্ণনায়, প্রথম সুযোগ আসে ১৯৯৪ সালে গোলাম আযমের নাগরিকত্ব ফিরে পাওয়ার পর। রাজ্জাক প্রস্তাব দিয়েছিলেন, নাগরিকত্ব পুনরুদ্ধারের পর প্রথম ভাষণেই একাত্তরের বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরুন গোলাম আযম। প্রস্তাবে নীতিগতভাবে রাজি হলেও বায়তুল মোকাররমের সমাবেশে গোলাম আযম শুধু সাধারণভাবে ক্ষমা চেয়ে বক্তব্য শেষ করেন। তিনি বলেন, ‘অতীতে যদি আমি কোনো ভুল করে থাকি, দয়া করে আমাকে ক্ষমা করবেন।’ যা রাজ্জাকের ভাষায় ছিল নিতান্তই দায়সারা।

দ্বিতীয় বড় উদ্যোগ নেওয়া হয় ২০০১ সালে চারদলীয় জোটের নির্বাচনী বিজয়ের পর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন অধ্যাপক– আফতাব আহমেদ, এম মাহবুবউল্লাহ ও আবদুর রবের সহযোগিতায় সাতটির বেশি খসড়া তৈরি করে শেষে একটি বিবৃতিতে ঐকমত্যে পৌঁছান নেতারা। কিন্তু ঘোষণার ঠিক আগমুহূর্তে তৎকালীন আমির মতিউর রহমান নিজামী মত পরিবর্তন করেন বলে রাজ্জাক উল্লেখ করেছেন। আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ আবদুর রাজ্জাককে জানান, তার ধারনা, এই কাজটা নিজামী করেছিলেন কোনো এক প্রবীণ নেতার পরামর্শে, যার নাম কখনো প্রকাশ করা হয়নি।

চার বছর পর, ২০০৫ সালে বিষয়টি দলের ওয়ার্কিং কমিটিতে তোলা হলে কণ্ঠভোটে তা বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় প্রত্যাখ্যাত হয়। বিরোধীরা যুক্তি দেন, পাকিস্তানের অখণ্ডতার পক্ষে অবস্থান নেওয়া ভুল ছিল না, এমনকি ক্ষমা চাইলে পাকিস্তান অসন্তুষ্ট হবে এমন আশঙ্কাও প্রকাশ করেন এক সাবেক সংসদ সদস্য। রাজ্জাক পরে লিখেছেন, ইতিহাস প্রমাণ করেছে সেই আশঙ্কা ভিত্তিহীন ছিল।

এরপর ২০০৫ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত একাধিকবার আলোচনা হলেও কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি দল। ২০১১ সালে মজলিশে শুরার শেষ উন্মুক্ত অধিবেশনেও রাজ্জাকের তোলা প্রস্তাব গুরুত্ব পায়নি। ২০১৬ সালে নেতাদের ফাঁসি কার্যকরের পর নতুন নেতৃত্বের সময়ও একবার খসড়া তৈরি হয়, বিদেশি আইনজীবী টবি ক্যাডম্যানের সহায়তায়ও একটি সংক্ষিপ্ত বিবৃতি প্রস্তুত হয়, কিন্তু সেটিও প্রকাশের মুখ দেখেনি।

রাজ্জাকের মূল্যায়ন, প্রতিবারই দলের ভেতরের প্রভাবশালী একটি অংশ হস্তক্ষেপ করে উদ্যোগ থামিয়ে দিয়েছে। তার ভাষায়, একাত্তরের ভূমিকা আজও জামায়াতের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হয়ে রয়ে গেছে—দুই দশকে অর্ধডজনের বেশি খসড়া বিবৃতি তৈরি হলেও একটিও প্রকাশিত হয়নি।

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

মেজর আখতারুজ্জামানের ছেলের ওপর হামলা, জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জামায়াত আমিরের

মেজর আখতারুজ্জামানের ছেলের ওপর হামলা, জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জামায়াত আমিরের

জামায়াতের সঙ্গে ঐক্য নিয়ে দ্বন্দ্ব, একে একে এনসিপি ছাড়লেন ৩ জনপ্রিয় নেত্রী

জামায়াতের সঙ্গে ঐক্য নিয়ে দ্বন্দ্ব, একে একে এনসিপি ছাড়লেন ৩ জনপ্রিয় নেত্রী

জামায়াত জোট নিয়ে কওমি অঙ্গনে বিতর্ক, ৩ মুরুব্বির কাছে চিঠি

জামায়াত জোট নিয়ে কওমি অঙ্গনে বিতর্ক, ৩ মুরুব্বির কাছে চিঠি

পোশাকশিল্পের চলমান সংকট নিরসনে জামায়াতের ১৫ দাবি

পোশাকশিল্পের চলমান সংকট নিরসনে জামায়াতের ১৫ দাবি

আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশ নিতে দক্ষিণ কোরিয়ায় গেলেন জামায়াতের ২ নেতা

আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশ নিতে দক্ষিণ কোরিয়ায় গেলেন জামায়াতের ২ নেতা

শ্রমিক-মালিককে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে সংকটের সমাধান সম্ভব নয়: গোলাম পরওয়ার

শ্রমিক-মালিককে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে সংকটের সমাধান সম্ভব নয়: গোলাম পরওয়ার

আরও পড়ুন

মেজর আখতারুজ্জামানের ছেলের ওপর হামলা, জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জামায়াত আমিরের

মেজর আখতারুজ্জামানের ছেলের ওপর হামলা, জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জামায়াত আমিরের

নতুন ‘রাজনৈতিক শক্তি’ গড়ার ইঙ্গিত সামান্তা শারমিনের

নতুন ‘রাজনৈতিক শক্তি’ গড়ার ইঙ্গিত সামান্তা শারমিনের

সেই সাংবাদিককে নিয়ে যা বললেন সংসদ সদস্য মানসুরা

সেই সাংবাদিককে নিয়ে যা বললেন সংসদ সদস্য মানসুরা

জামায়াতের সঙ্গে ঐক্য নিয়ে দ্বন্দ্ব, একে একে এনসিপি ছাড়লেন ৩ জনপ্রিয় নেত্রী

জামায়াতের সঙ্গে ঐক্য নিয়ে দ্বন্দ্ব, একে একে এনসিপি ছাড়লেন ৩ জনপ্রিয় নেত্রী

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম