সব জায়গায় অত্যাচারের উৎসব লেগে গেছে: মাহমুদুর রহমান মান্না
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৫৭ পিএম
নাগরিক ঐক্যের আলোচনা সভায় বক্তারা।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
‘বাংলাদেশের সব জায়গায় বর্তমানে অত্যাচারের একটা উৎসব লেগে গেছে’ বলে মন্তব্য করেছেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না।
তিনি বলেন, মানুষের জীবন সুন্দর ও সুগম করতে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
সোমবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে নাগরিক ঐক্য আয়োজিত ‘রাষ্ট্র সংস্কার এবং সংবিধান বিতর্ক’ শীর্ষক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন নাগরিক ঐক্যের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল্লাহ কায়সার এবং নাগরিক নারী ঐক্যের সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌসী বেগম প্রমুখ।
আইনশৃঙ্খলা ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনার উদাহরণ তুলে ধরে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, একটি অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে এমন পরিস্থিতি কাম্য ছিল না, যেখানে নারীরা ঘর থেকে বের হতে ভয় পাবেন এবং শিশুদের জীবনের কোনো গ্যারান্টি থাকবে না।
কিশোরদের জীবন ‘সম্পূর্ণ রেস্ট্রিক্ট’ হয়ে পড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘একটা জীবন যদি সুন্দর করতে না পারেন, একটা কিশোরের জীবন বিকশিত হওয়ার সুযোগ দিতে না পারেন, তাহলে সংস্কারটা কী?’
বগুড়ার শিবগঞ্জ থানায় নাগরিক ঐক্যের সাধারণ সম্পাদককে কোনো সুনির্দিষ্ট ও স্পষ্ট মামলা ছাড়াই পুলিশ গ্রেফতার করেছে বলেও অভিযোগ করেন মান্না।
নিম্ন আদালত ও জেলা জজ আদালতে জামিনের সুযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘নিম্ন আদালত আজ একশ্রেণির মানুষের দ্বারা দখল হয়ে গেছে।’
দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সমালোচনা করে মান্না বলেন, সারা বিশ্বে যখন জ্বালানি তেলের দাম কমেছে, তখন অযৌক্তিকভাবে বাংলাদেশে তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড বা কৃষক কার্ডের জন্য বরাদ্দ করা টাকা থাকা সত্ত্বেও কেন জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হলো, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের সুপারিশের প্রতিও অন্তর্বর্তী সরকার বা বর্তমান সরকার কেউই কর্ণপাত করেনি। চাল, ডাল, তেল, লবণসহ সব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে ‘আগুন লেগেছে’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সংবিধান সংশোধন ও রাষ্ট্র সংস্কার প্রসঙ্গে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, স্বৈরাচার যাতে আর কখনো ফিরে আসতে না পারে, সে জন্য রাজনৈতিক ও সাংবিধানিকভাবে সেই পথ বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, শ্রীলঙ্কা বা নেপালে অভ্যুত্থানের পর সংস্কারের দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় না গিয়ে সরাসরি ভালো নির্বাচন দিয়ে দেশ সংকট কাটিয়ে উঠেছে। অথচ বাংলাদেশে সংস্কারের নামে দীর্ঘ বিতর্কে জড়িয়ে পড়া হয়েছে।
সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে ‘সংবিধান পরিষদ’ গঠন নিয়ে যে বিতর্ক চলছে, তা সুরাহার তাগিদ দিয়ে মান্না বলেন, পদ্ধতিগত দুর্বলতার কারণে প্রয়োজনীয় সংস্কার বা সংশোধন যেন পরবর্তী সময়ে আদালতের রায়ে বাতিল হয়ে না যায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সজাগ থাকতে হবে।
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, তার বক্তব্য কোনো বিশেষ দলের বিরোধিতার জন্য নয়; বরং দেশের গণতান্ত্রিক ধারা ও জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষার স্বার্থে।
তিনি সরকারকে উদ্দেশ করে বলেন, তাড়াহুড়ো করে সংবিধান সংশোধনসহ কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে সব রাজনৈতিক দল ও অংশীজনকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করা উচিত। জুলাই সনদের বাস্তবায়ন এবং গণভোটের ম্যান্ডেট সঠিকভাবে প্রতিপালন করতে হবে। এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া উচিত নয়, যা শেষ পর্যন্ত পুরো জাতিকে আবার অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেয়।
