মণ্ডপগুলো পাহারা দেওয়ার তাগিদ দিচ্ছি: রিজভী
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫০ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মূল পটভূমি ও ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছিলেন তৎকালীন বিএনপির চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে শহীদ জেহাদ স্মৃতি পরিষদ আয়োজিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম শহীদ নাজির উদ্দিন জেহাদের ৩৬তম শাহাদতবার্ষিকী এই স্মরণসভার আয়োজন করা হয়।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ৯০-এর স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনে সিরাজগঞ্জ থেকে এসে নিজের রক্ত ঢেলে দিয়েছিলেন তরুণ ছাত্রনেতা শহীদ নাজির উদ্দিন জেহাদ। তার সেই আত্মদান এবং ৯ বছরের দীর্ঘ সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় তৎকালীন স্বৈরাচারের পতন ঘটেছিল। সেই রক্তক্ষয়ী পথ ধরেই পরবর্তীতে আমাদের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের চেতনা প্রবাহিত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ২৪-এর গণ-অভ্যুত্থান হুট করে একদিনে তৈরি হয়নি। দীর্ঘ সময় ধরে মিথ্যা মামলা, শারীরিক নির্যাতন, জেল-জুলুম সহ্য করেও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যে আপসহীন মনোভাব দেখিয়ে গণতন্ত্রের ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছিলেন এবং প্রবাসে থেকেও দেশনায়ক তারেক রহমান যে সাহসী নেতৃত্ব দিয়ে দূরদর্শী আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন—তারই চূড়ান্ত পরিণতি হচ্ছে চব্বিশের জুলাই বিপ্লব।
বক্তব্যে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের কঠোর সমালোচনা করে রিজভী বলেন, ৯০-এর পরাজিত স্বৈরাচারী শক্তি আর ২৪-এর পরাজিত ফ্যাসিস্ট শক্তি একই সূত্রে গাঁথা। তারা দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে দেশকে লুটপাট করেছে, ব্যাংক খালি করে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে এবং গুম-খুনের রাজনীতি চালিয়েছে। আজও প্রশাসনে ও সমাজের বিভিন্ন স্তরে ফ্যাসিবাদের দোসররা ঘাপটি মেরে বসে আছে।
প্রশাসনে লুকিয়ে থাকা দুর্নীতিবাজ ও ফ্যাসিবাদের দোসরদের চিহ্নিত করে শক্ত হাতে দমনের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, যারা ক্রসফায়ার দিয়েছে, খুন করেছে এবং জনগণের টাকা লুটপাট করেছে, তাদের ব্যাপারে কোনো শিথিলতা দেখানো যাবে না। সরকার অন্যায়ের বিরুদ্ধে শক্ত পদক্ষেপ নিলে জনগণ তাদের পাশে থাকবে।
আসন্ন দুর্গাপূজা প্রসঙ্গে রিজভী আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ হাজার বছরের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। আমরা যুগে যুগে একে অপরের ধর্মীয় উৎসবে শরিক হয়েছি। কিন্তু পরাজিত অপশক্তি পূজাকে কেন্দ্র করে যেকোনো সময় চক্রান্ত করতে পারে। এ চক্রান্ত রুখে দিতে বিএনপির প্রতিটি নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণকে দুর্গাপূজার মণ্ডপগুলো পাহারা দেওয়ার তাগিদ দিচ্ছি, যাতে হিন্দু সম্প্রদায়ের ভাই-বোনদের এ উৎসব নির্বিঘ্ন ও শান্তিময় হয়।
শহীদ জেহাদ স্মৃতি পরিষদের সভাপতি ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমানউল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে এবং ডাকসুর সাবেক জিএস খায়রুল কবির খোকন ও এজিএস নাজিম উদ্দিন আলমের যৌথ সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন ‘তোমার ৯০ এর ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের’ সভাপতি এমপি মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব, বেগম রোকেয়া হলে সাবেক ভিপি এমপি শিরীন সুলতানা, ঢাকা কলেজের সাবেক ভিপি ও বিএনপি স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সফু এবং ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল প্রমুখ।
