‘মোরশেদ খানের পদত্যাগের নেপথ্যে অন্য কারণ আছে’
jugantor
‘মোরশেদ খানের পদত্যাগের নেপথ্যে অন্য কারণ আছে’

  যুগান্তর রিপোর্ট  

০৮ নভেম্বর ২০১৯, ১০:৪৩:১৯  |  অনলাইন সংস্করণ

এম মোরশেদ খান ও ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এম মোরশেদ খান দল থেকে পদত্যাগ করেছেন। মঙ্গলবার রাতে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন বলে জানান মোরশেদ খান।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার মনে করেন, মোরশেদ খানের পদত্যাগের পেছনে তিনি যে কারণ দেখিয়েছেন, তা দৃশ্যত কারণ। এর নেপথ্যে অন্য কারণ আছে।

সাবেক এই স্পিকার বলেন, ‘দেশের অবস্থা সম্পর্কে আঁচ করতে পারেন। আওয়ামী লীগের মধ্যেও অস্থিরতা, এখন বিএনপির মধ্যে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে চায় একটি মহল।’ এর অংশ হিসেবেই এসব পদত্যাগ বলে দাবি করেন তিনি।

জমির উদ্দিন সরকার বলেন, ‘মোরশেদ খান যেসব কথা বলেছেন, এগুলো বলার কথা। দলের প্রতি তার যথেষ্ঠ শ্রদ্ধা আছে। দলের প্রতি আমাদের পার্টির যারা আছেন, সবারই শ্রদ্ধা আছে। তারপর কেউ কেউ কিছু স্টেটমেন্ট দিচ্ছে। দেশের অবস্থা কী, আপনারা বুঝতে পারছেন না।’

এর আগে বুধবার পদত্যাগপত্র জমা দেয়ার বিষয়ে মোরশেদ খান গণমাধ্যমকে বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বরাবর লেখা পদত্যাগপত্র আমার ব্যক্তিগত সহকারীর (পিএস) মাধ্যমে মঙ্গলবার রাতে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে পাঠিয়েছি।

ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছেন বলে চিঠিতে উল্লেখ করেছেন মোরশেদ খান। তবে কেন্দ্রীয় বিএনপি ও চট্টগ্রাম বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, ব্যক্তিগত কারণ নয়, মূলত ক্ষোভ-অভিমান থেকেই দল ছেড়েছেন প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে দল করে আসা এই নেতা। মোরশেদ খানের পদত্যাগপত্রে সেদিকে কিছুটা ইঙ্গিতও দেয়া হয়েছে।

পদত্যাগপত্রে মোরশেদ খান লেখেন- ‘মানুষের জীবনে কোনো না কোনো সময় কঠিন একটা সিদ্ধান্ত নিতে হয়, যার প্রভাব সুদূরপ্রসারী। আমার বিবেচনায় সেই ক্ষণটি বর্তমানে উপস্থিত এবং উপযুক্তও বটে। তাই অনেকটা দুঃখ ও বেদনাক্লান্ত হৃদয়ে পদত্যাগের এ চিঠি।’

মোরশেদ খান আরও লেখেন, ‘রাজনীতির অঙ্গনে আমার পদচারণা দীর্ঘকালের। কিন্তু দেশের রাজনীতি এবং দলের অগ্রগতিতে নতুন কিছু সংযোজন করার মতো সঙ্গতি নেই। তাই ব্যক্তিগত কারণহেতু আমার উপলব্ধি সক্রিয় রাজনীতি থেকে অবসর নেয়ার এখনই সময়। বহুবিধ বিচার-বিশ্লেষণ শেষে আমি অবিলম্বে আজ (মঙ্গলবার) বিএনপির রাজনীতি থেকে অবসর নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ অবস্থায় এবং স্বাভাবিক নিয়মে বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদ প্রত্যাহারসহ বর্তমানে অলঙ্কৃত ভাইস চেয়ারম্যানের পদ থেকেও পদত্যাগ করছি।’

বিএনপি সূত্র বলছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৮ আসনে মনোনয়ন না পাওয়ায় দলের প্রতি ক্ষুব্ধ ছিলেন মোরশেদ খান। সেখানে মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সুফিয়ানকে মনোনয়ন দেয়া হয়। এর বাইরে চট্টগ্রামে দলের রাজনীতিতে তার অনুসারীদের বিভিন্ন পদ থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। স্থানীয় কমিটিগুলোতে সুফিয়ানের অনুসারীদের গুরুত্ব দেয়া হয়। সবশেষ চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক করা হয় সুফিয়ানকে। এসব নিয়ে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে মোরশেদ খানের দূরত্ব তৈরি হয়।

এ নিয়ে চরম ক্ষুব্ধ ছিলেন বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা। দলের হাইকমান্ডকে জানানোর পরও কোনো উদ্যোগ না নেয়ায় শেষ পর্যন্ত তিনি পদত্যাগের পথ বেছে নিতে বাধ্য হন।

পদত্যাগের প্রকৃত কারণ জানিয়েছেন মঞ্জুর মোরশেদ খান। তিনি বুধবার গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ব্যক্তিগত কারণে আমি পদত্যাগ করেছি। অনেক বিচার-বিশ্লেষণ করে করে আমার উপলব্ধি হয়েছে- এই দলে আমার আর কনট্রিবিউশন (অবদান) রাখার কিছু নেই। সেজন্য পদত্যাগ করেছি।’

দলের রাজনীতির সমালোচনা করে মোরশেদ খান বলেন, বিএনপির রাজনীতি এখন আর রাজনীতি নেই। এরা স্কাইপের মাধ্যমে রাজনীতি করতে চায়। এটি করে বাংলাদেশের রাজনীতিতে টিকে থাকা সম্ভব নয়।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এম মোরশেদ খান বলেন, শুধু বিএনপি নয়, আমি আর কোনো রাজনেতিক দলের সঙ্গেই থাকব না। সব ধরনের রাজনীতি থেকে অবসর নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

‘মোরশেদ খানের পদত্যাগের নেপথ্যে অন্য কারণ আছে’

 যুগান্তর রিপোর্ট 
০৮ নভেম্বর ২০১৯, ১০:৪৩ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ
এম মোরশেদ খান ও ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার
এম মোরশেদ খান ও ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার। ফাইল ছবি

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এম মোরশেদ খান দল থেকে পদত্যাগ করেছেন। মঙ্গলবার রাতে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন বলে জানান মোরশেদ খান।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার মনে করেন, মোরশেদ খানের পদত্যাগের পেছনে তিনি যে কারণ দেখিয়েছেন, তা দৃশ্যত কারণ। এর নেপথ্যে অন্য কারণ আছে।

সাবেক এই স্পিকার বলেন, ‘দেশের অবস্থা সম্পর্কে আঁচ করতে পারেন। আওয়ামী লীগের মধ্যেও অস্থিরতা, এখন বিএনপির মধ্যে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে চায় একটি মহল।’ এর অংশ হিসেবেই এসব পদত্যাগ বলে দাবি করেন তিনি।

জমির উদ্দিন সরকার বলেন, ‘মোরশেদ খান যেসব কথা বলেছেন, এগুলো বলার কথা। দলের প্রতি তার যথেষ্ঠ শ্রদ্ধা আছে। দলের প্রতি আমাদের পার্টির যারা আছেন, সবারই শ্রদ্ধা আছে। তারপর কেউ কেউ কিছু স্টেটমেন্ট দিচ্ছে। দেশের অবস্থা কী, আপনারা বুঝতে পারছেন না।’

এর আগে বুধবার পদত্যাগপত্র জমা দেয়ার বিষয়ে মোরশেদ খান গণমাধ্যমকে বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বরাবর লেখা পদত্যাগপত্র আমার ব্যক্তিগত সহকারীর (পিএস) মাধ্যমে মঙ্গলবার রাতে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে পাঠিয়েছি।

ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছেন বলে চিঠিতে উল্লেখ করেছেন মোরশেদ খান। তবে কেন্দ্রীয় বিএনপি ও চট্টগ্রাম বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, ব্যক্তিগত কারণ নয়, মূলত ক্ষোভ-অভিমান থেকেই দল ছেড়েছেন প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে দল করে আসা এই নেতা। মোরশেদ খানের পদত্যাগপত্রে সেদিকে কিছুটা ইঙ্গিতও দেয়া হয়েছে।

পদত্যাগপত্রে মোরশেদ খান লেখেন- ‘মানুষের জীবনে কোনো না কোনো সময় কঠিন একটা সিদ্ধান্ত নিতে হয়, যার প্রভাব সুদূরপ্রসারী। আমার বিবেচনায় সেই ক্ষণটি বর্তমানে উপস্থিত এবং উপযুক্তও বটে। তাই অনেকটা দুঃখ ও বেদনাক্লান্ত হৃদয়ে পদত্যাগের এ চিঠি।’

মোরশেদ খান আরও লেখেন, ‘রাজনীতির অঙ্গনে আমার পদচারণা দীর্ঘকালের। কিন্তু দেশের রাজনীতি এবং দলের অগ্রগতিতে নতুন কিছু সংযোজন করার মতো সঙ্গতি নেই। তাই ব্যক্তিগত কারণহেতু আমার উপলব্ধি সক্রিয় রাজনীতি থেকে অবসর নেয়ার এখনই সময়। বহুবিধ বিচার-বিশ্লেষণ শেষে আমি অবিলম্বে আজ (মঙ্গলবার) বিএনপির রাজনীতি থেকে অবসর নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ অবস্থায় এবং স্বাভাবিক নিয়মে বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদ প্রত্যাহারসহ বর্তমানে অলঙ্কৃত ভাইস চেয়ারম্যানের পদ থেকেও পদত্যাগ করছি।’

বিএনপি সূত্র বলছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৮ আসনে মনোনয়ন না পাওয়ায় দলের প্রতি ক্ষুব্ধ ছিলেন মোরশেদ খান। সেখানে মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সুফিয়ানকে মনোনয়ন দেয়া হয়। এর বাইরে চট্টগ্রামে দলের রাজনীতিতে তার অনুসারীদের বিভিন্ন পদ থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। স্থানীয় কমিটিগুলোতে সুফিয়ানের অনুসারীদের গুরুত্ব দেয়া হয়। সবশেষ চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক করা হয় সুফিয়ানকে। এসব নিয়ে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে মোরশেদ খানের দূরত্ব তৈরি হয়।

এ নিয়ে চরম ক্ষুব্ধ ছিলেন বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা। দলের হাইকমান্ডকে জানানোর পরও কোনো উদ্যোগ না নেয়ায় শেষ পর্যন্ত তিনি পদত্যাগের পথ বেছে নিতে বাধ্য হন।

পদত্যাগের প্রকৃত কারণ জানিয়েছেন মঞ্জুর মোরশেদ খান। তিনি বুধবার গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ব্যক্তিগত কারণে আমি পদত্যাগ করেছি। অনেক বিচার-বিশ্লেষণ করে করে আমার উপলব্ধি হয়েছে- এই দলে আমার আর কনট্রিবিউশন (অবদান) রাখার কিছু নেই। সেজন্য পদত্যাগ করেছি।’

দলের রাজনীতির সমালোচনা করে মোরশেদ খান বলেন, বিএনপির রাজনীতি এখন আর রাজনীতি নেই। এরা স্কাইপের মাধ্যমে রাজনীতি করতে চায়। এটি করে বাংলাদেশের রাজনীতিতে টিকে থাকা সম্ভব নয়।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এম মোরশেদ খান বলেন, শুধু বিএনপি নয়, আমি আর কোনো রাজনেতিক দলের সঙ্গেই থাকব না। সব ধরনের রাজনীতি থেকে অবসর নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।