জানা-অজানা
মশা না থাকা এক আজব দেশের গল্প
Advertisement
সাধন সরকার
প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
২০ আগস্ট ছিল বিশ্ব মশা দিবস। প্রশ্ন আসতে পারে, বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক প্রাণী কোনটি? বিবিসি সায়েন্স ফোকাস ম্যাগাজিন ও গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের তথ্য বলছে, পৃথিবীতে যেসব প্রাণীর আক্রমণে মানুষের মৃত্যু হয় তাতে সবার প্রথমে উঠে এসেছে মশার নাম। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য মতে, মশাবাহিত রোগের কারণে প্রতি বছর ৭ লাখেরও বেশি মানুষ পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে প্রাণ হারায়। মশা খুব ছোট একটি প্রাণী। তবে এর ভয়াবহতা কিন্তু ছোট নয়! মশাকে খুব সামান্য কীট মনে করা হলেও মুহূর্তের মশার কামড়েই মানুষ ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া বা চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত হতে পারে। আবার কখনো জীবনও চলে যায়! তোমরা গরমকালে মশার কামড়ে বিরক্ত হও, তাই না? চুলকায়, ঘুম নষ্ট হয়। কিন্তু পৃথিবীতে এমন একটা দেশ আছে, যেখানে একটাও মশা নেই! দেশটার নাম আইসল্যান্ড। অবাক লাগছে? চলো, আজকের গল্পে জেনে নিই কেন এমন হলো।
মশারা ডিম থেকে বড় হতে সময় নেয়। এ সময়টায় আবহাওয়া মোটামুটি একরকম থাকতে হয়। বেশি ঠান্ডা নয়, বেশি গরমও নয়। কিন্তু আইসল্যান্ডের আবহাওয়া যেন খামখেয়ালি! সকালে রোদ ওঠে। বিকালে হয়তো বরফ পড়া শুরু হয়ে যায়। এমন এলোমেলো পরিবেশে মশার বাচ্চারা বড় হওয়ার সময়ই পায় না! মশারা ডিম পাড়ে জমে থাকা পানিতে। যেমন পুকুর বা ডোবায়। কিন্তু আইসল্যান্ডের পানি আসে বরফ গলে। এ পানি হয় ভীষণ ঠান্ডা। সর্বদা বয়ে চলে। কোথাও স্থির থাকে না। তাই মশা ডিম পাড়ার মতো জায়গাই খুঁজে পায় না। আইসল্যান্ড মূলত একটা দ্বীপ। চারদিকে শুধু সমুদ্র আর সমুদ্র। মশারা তো আর নিজে নিজে উড়ে এত দূর যেতে পারে না! কখনো কখনো বিমানে বা জাহাজে চড়ে দু-একটা মশা চলে যায় ঠিকই। কিন্তু ওই কনকনে ঠান্ডা আর অদ্ভুত আবহাওয়ায় তারা টিকে থাকতে পারে না। সবচেয়ে অবাক করার বিষয় হলো আইসল্যান্ডের চেয়েও ঠান্ডা একটা দেশ আছে। গ্রিনল্যান্ড। সেখানে কিন্তু মশা আছে! তাহলে আইসল্যান্ডেই বা নেই কেন? বিজ্ঞানীরাও এই প্রশ্নের উত্তর এখনো খুঁজে পাননি! এটা খুব বিস্ময়কর বলা যেতে পারে! তবে বিজ্ঞানীরা এখনো গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রকৃতি কত আশ্চর্যের! একই পৃথিবীতে কোথাও মশার জ্বালায় ঘুম হয় না। আবার কোথাও একটা মশাও নেই। সবচেয়ে ভালো হতো যদি, আমাদের বাংলাদেশে যদি মশা না থাকত!
