গল্প
আকাশ দেখার আনন্দ
Advertisement
আখতারুল ইসলাম
প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
তানিমের আকাশ খুব ভালো লাগে। আকাশের নীল, নানা ধরনের মেঘের ওড়াউড়ি। দিনের সূর্য, রাতের চাঁদ, তারাদের আলো তার মনে আনন্দের ঢেউ জাগে। সকালের রোদ বিকালের লালছে আকাশ চমৎকার লাগে। স্কুল থেকে এসে যখন ঘুড়ি ওড়ায়, ঘুড়ির সঙ্গে মেঘের খেলা খুশি আরও বাড়িয়ে দেয়। তার মনে এই আকাশ নিয়ে কত প্রশ্ন? কত বড় এই আকাশ? দিনে সূর্য রাতে চাঁদ কেন? কেন চাঁদমামা, সূর্যমামা বলে? আসলে কি চাঁদে কোনো বুড়ি আছে? এসব হাজার প্রশ্ন মনে ঘুরপাক খায়। ভাবতে থাকে কাকে জিজ্ঞেস করবে। হঠাৎ মনে পড়ে তার বন্ধু রিকাসের কথা। তার কাছে জানবে।
পরদিন স্কুল মাঠে দেখা হয় রিকাসের সঙ্গে। তানিম দৌড়ে গিয়ে বলল, রিকাস এদিকে আয় তো। আচ্ছা বলত, আমরা চাঁদমামা, সূর্যমামা কেন বলি, আসলে তারা কি মায়ের ভাই? তানিমের একথা শুনে রিকাস হো হো করে অট্টহাসিতে ফেটে পড়ে। হাসতে হাসতে বলে, ধুর বোকা তুই এখনো এসব জানিস না। আবারও হাসে রিকাস। হেসে বলে, তুই আস্ত একটা বোকা, গবেট! একথা শুনে খুব অপমান বোধ করে তানিম। রেগে চলে আসে রিকাসের সামনে থেকে। বলে তোকে বলতে হবে না। রিকাস পেছন থেকে ডাকে তানিম শোন। কে শোনে কার কথা। ক্লাসে গিয়েও রিকাসের সঙ্গে কথা বলে না। মন খারাপ করে বাড়িতে ফিরে আসে। তানিম স্কুল থেকে এসে চুপচাপ বসে থাকে। মা বলল, কী হয়েছে বাবা? মন খারাপ কেন? স্যারেরা বকা দিয়েছে? তানিম হঠাৎ উচ্ছ্বসিত হয়ে মাকে বলল, মা আচ্ছা বল দেখি, চাঁদ আর সূর্য কি তোমার ভাই? মা বলল, চাঁদ, সূর্য আমার ভাই হতে যাবে কেন? তাহলে, সূর্যমামা, চাঁদমামা বলে কেন? একথা শুনে মা-ও ফিক করে হেসে দেয়। এ হাসিতে তানিমের আবার নিজেকে বোকা বোকা লাগে। ভাবে রিকাসও হাসল, মা-ও হাসল। মা হাসি রেখে বলল, স্কুলে কি স্যারেরা কিছু বলেছে? নিশ্চয় তুমি বলতে পারোনি। তানিম মায়ের দিকে তাকিয়ে বলল, রিকাসকে জিজ্ঞেস করলে সেও হাসল। তুমিও হাসছ। মা এবার দৃঢ়তার সঙ্গে বলে, চাঁদ সূর্য আমার ভাই না। পৃথিবীর কারও ভাই না। অনেক বাবা মা, ছোট শিশুদের ঘুমপাড়াতে ছড়াকবিতা বলে, সেখানে চাঁদমামা আর সূর্যমামা বলেছে তুলনা করতে। তাহলে কী চাঁদে বুড়ি আছে? না। নেই। চাঁদ হলো পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ। সূর্য একটা নক্ষত্র। পৃথিবী একটা গ্রহ। তানিমের কাছে গ্রহ, উপগ্রহ, নক্ষত্র নতুন শব্দ। মা আরও বলল, তোমার বাবা এলে জিজ্ঞেস কর। সন্ধ্যার পর তানিমের বাবা আসে। তানিমের মা ব্যাপারটা খুলে বলে তাকে। তানিমকে নিয়ে বসে। আকাশ দেখিয়ে বলল। মহাকাশ বিশাল। এ বিশাল মহাকাশে অসংখ্য গ্রহ, উপগ্রহ, নক্ষত্র, নীহারিকা, উল্কা, ধূমকেতু, গ্রহাণু, কালপুরুষ, নেবুলা, ব্ল্যাকহোল, আমাদের সূর্য পরিবারের সৌরজগৎ ছাড়াও অনেক ছায়াপথ আছে। তানিম বাবার দিকে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। এ শব্দগুলো তার কাছে নতুন। তানিম তার বাবাকে বলে, সূর্য পূর্বদিকে ওঠে পশ্চিমে ডুবে কেন? বাবা বলল, সূর্যকে কেন্দ্র করে যে গ্রহগুলো ঘোরে তারা হলো পৃথিবী, বুধ, শুক্র, মঙ্গল, ইউরেনাস, বৃহস্পতি, শনি ও নেপচুন।
আর চাঁদ পৃথিবীকে কেন্দ্র করে ঘোরে। পৃথিবী নিজ অক্ষে একবার পশ্চিম থেকে পুবে ঘুরে আসতে ২৪ ঘণ্টা সময় লাগে যাকে একদিন বলে। তখন মনে হয় সূর্য পুব দিকে ওঠে আর পশ্চিমে অস্ত যায়। আসলে সূর্য ঘুরে না। ঘুরে পৃথিবী। তানিম একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলল, এবার বুঝেছি। বাবা বলল, আরও অনেক বোঝার আছে। বাকিটা আগামীকাল হবে।
বাবা তানিমের জন্য একটা টেলিস্কোপ নিয়ে আসে। তানিম তো মহাখুশি আকাশ দেখার এ দূরবীক্ষণ যন্ত্র পেয়ে। সন্ধ্যার পর শুরু করে আকাশ দেখা। বাবা এক এক করে সন্ধ্যাতারা, নেবুল, কালপুরুষ ও চাঁদ দেখায়। তানিমের আনন্দের কোনো সীমা নেই। আকাশ দেখার আনন্দ। এখন সে নিজে নিজে আকাশ দেখে বন্ধুদের দেখায় কোনটি শুকতারা, কোনটি ধ্রুবতারা। কোনটি পুব আকাশে কোনটি পশ্চিম আকাশে থাকে।
