স্পেনকে হতাশায় ডোবানোর নায়ক কেপ ভার্দের ভোজিনিয়া। সংগৃহীত ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
স্বপ্নের মতো বিশ্বকাপ শুরু করল কেপ ভার্দে। তবে তারা কি ভেবেছিল, ইউরোপের চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে আটকে রাখবে? হয়ত ভাবেনি। কিন্তু ৯০ মিনিটের খেলার ফল বলছে, গোল করতে পারেনি স্পেন। আরেকটু খোলাশা করে বলতে হবে, লা রোজাদের গোল করতে দেয়নি ভোজিনিয়া।
প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে আসা ব্লু সার্কেরা তাতেই পেয়েছেন মহামূল্যবান এক পয়েন্ট। এসেছে জয়ের চেয়েও বড় এক ড্র। ওই গোলশূন্য ড্রয়ের নায়ক ভোজিনিয়া গড়েছেন বড় এক রেকর্ড। ৪০ বছর বয়সী ভোজিনহা এই ম্যাচে কেপ ভার্দের হয়ে করেছেন সাতটি দুর্দান্ত সেভ।
১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপ ইতিহাসে ৪০ বছর বা তার বেশি বয়সী কোনো গোলরক্ষকের এক ম্যাচে এটি অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স। এ ক্ষেত্রে তার চেয়ে বেশি সেভের রেকর্ড রয়েছে কেবল একজনের। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে নিজের ৪১তম জন্মদিনে উত্তর আয়ারল্যান্ডের কিংবদন্তি গোলরক্ষক প্যাট জেনিংস ব্রাজিলের বিপক্ষে করেছিলেন ১০টি সেভ।
চার দশক পেরিয়েও ভোজিনিয়া বিশ্বমঞ্চে অসাধারণ প্রতিরোধ গড়ে ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম লিখিয়েছেন। অভিজ্ঞতার ঝুলি যে বয়সের চেয়েও বড় সম্পদ হতে পারে, কেপ ভার্দের এই অধিনায়ক গোলরক্ষক যেন সেটিই আবারও প্রমাণ করলেন।
বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের ৬৪ নম্বরে থাকা কেপ ভার্দের বিপক্ষে স্পেন যতটা আধিপত্য দেখাবে বলে ধারণা করা হয়েছিল, বাস্তবে তারা ততটা সুযোগই তৈরি করতে পারেনি। মিডফিল্ডের প্রাণভোমরা পেদ্রিকেও দেখা যায়নি তার স্বাভাবিক ছন্দে।
তবে সেটি ফেরান তোরেস ও স্পেনের অন্য ফরোয়ার্ডদের দায় এড়ানোর সুযোগ দেয় না। তারা যে চান্সগুলো পেয়েছিল, সেগুলো কাজে লাগাতে চরম ব্যর্থ হয়েছে। বিশেষ করে প্রথমার্ধে ফেরান তোরেস একেবারে অবিশ্বাস্য এক সহজ সুযোগ নষ্ট করেন। স্ট্রাইকার হিসেবে আবারও প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি মিকেল ওইয়ারসাবাল।
ফলে ম্যাচ জয়ের মরিয়া চেষ্টায় শেষ ২০ মিনিটের জন্য লামিন ইয়ামালকে মাঠে নামাতে বাধ্য হন স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। বার্সেলোনার এই কিশোর প্রতিভা নিঃসন্দেহে স্পেনের আক্রমণে নতুন গতি ও শাণিত ভাব এনে দেন। কিন্তু তারপরও দুর্দান্ত কেপ ভার্দে রক্ষণভাগ ভাঙতে ব্যর্থ হয় লা রোজা। শেষ পর্যন্ত গোলের পথ খুঁজে না পেয়ে স্পেনকে হতাশাই সঙ্গী করতে হয়েছে। আর তাদের হতাশায় ডোবানোর নায়ক কেপ ভার্দের ভোজিনিয়া।
