Logo
Logo
×
   

Advertisement

খেলা

বিগ ব্যাশে বেসরকারি বিনিয়োগের সুযোগ কাজে লাগাতে আগ্রহী আইপিএল মালিকরা

Advertisement

Icon

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৫১ পিএম

বিগ ব্যাশে বেসরকারি বিনিয়োগের সুযোগ কাজে লাগাতে আগ্রহী আইপিএল মালিকরা

Advertisement

অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষ টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতা বিগ ব্যাশ লিগে (বিবিএল) বেসরকারি বিনিয়োগের অনুমতি দিয়েছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। ২০২৭-২৮ মৌসুম থেকে মেলবোর্ন রেনেগেডসের ১০০ শতাংশ মালিকানা বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে এই প্রক্রিয়া। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার এমন সিদ্ধান্ত ক্রিকেট বিশ্বে বেশ আলোড়ন তুলেছে।

অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট অধিনায়ক প্যাট কামিন্সসহ কয়েকজন খেলোয়াড় সিদ্ধান্তটিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে শর্ত একটাই—বেসরকারিকরণ সঠিকভাবে করতে হবে। অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়ায় অনেকেই এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন।

এতদিন অস্ট্রেলিয়াই ছিল বিশ্বের অন্যতম প্রধান ক্রিকেটভিত্তিক দেশ, যেখানে তাদের টি-টোয়েন্টি লিগে বেসরকারি মূলধনের প্রবেশাধিকার ছিল না। এর মধ্যেই ভারতীয় প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) দলগুলোর মালিকেরা ওয়েস্ট ইন্ডিজ, দক্ষিণ আফ্রিকা, সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে বিনিয়োগ বাড়িয়েছেন। এবার বিবিএলেও বাইরের বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হওয়ায় আইপিএল মালিকদের সামনে খুলে গেছে নতুন সম্ভাবনার দরজা।

রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ, রেড চিলিজ এন্টারটেইনমেন্ট, আরপি-সঞ্জীব গোয়েঙ্কা গ্রুপ এবং জিএমআর/জেএসডব্লিউ-এর মতো বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে ভারত, ইংল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন টি-টোয়েন্টি লিগে ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিক।

একটি বিবিএল দল কিনতে পারলে কোনো আইপিএল মালিকগোষ্ঠী তাদের শীর্ষ খেলোয়াড়দের জন্য বছরজুড়ে বিভিন্ন টুর্নামেন্টে খেলার সুযোগ তৈরি করতে পারবে। একই মালিকানার অধীনে ক্যামেরন গ্রিন, টিম ডেভিড কিংবা গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের মতো ক্রিকেটারকে আইপিএল, এসএ২০, এমএলসি ও বিবিএলে খেলানোর সুযোগও তৈরি হতে পারে।

ইতোমধ্যে অনেক ক্রিকেটার জাতীয় দলের পরিবর্তে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। ফলে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বিনিয়োগ আরও বাড়লে ভবিষ্যতে পুরো ক্রিকেট কাঠামোর চেহারাই বদলে যেতে পারে।

তবে শুরু থেকেই বেসরকারি মালিকদের হাতে ছেড়ে দেওয়া অন্যান্য টি-টোয়েন্টি লিগের তুলনায় ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া অনেক বেশি নিয়ন্ত্রিত পদ্ধতিতে এগোচ্ছে।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সূচি, খেলোয়াড়দের প্রাপ্যতা, সম্প্রচারস্বত্ব এবং বেতনসীমার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর নিয়ন্ত্রণ ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার হাতেই থাকবে। সম্ভাব্য কোনো ক্রেতাকে অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যান করারও পূর্ণ ক্ষমতা থাকবে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট বোর্ডের।

ভারতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর হাতে কতটি দল বিক্রি করা হবে, সেটিরও সীমা নির্ধারণ করা হতে পারে। মালিকানায় বৈচিত্র্য ধরে রাখতে ভারতীয় প্রতিষ্ঠানকে সর্বোচ্চ দুই বা তিনটি ফ্র্যাঞ্চাইজি দেওয়ার সীমা আরোপ করা হতে পারে।

এখনও মেলবোর্ন রেনেগেডসের জন্য কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব জমা পড়েনি। তবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বিবিএলের একটি ফ্র্যাঞ্চাইজির সম্ভাব্য মূল্য ১৫ কোটি থেকে ২০ কোটি অস্ট্রেলিয়ান ডলারের মধ্যে হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আইপিএল মালিকেরা কি ভারতীয় তারকাদের বিবিএলে নিতে পারবেন?

বর্তমানে বিবিএলের ডিসেম্বর-জানুয়ারি সময়সূচি দক্ষিণ আফ্রিকার এসএ২০ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইএলটি২০-এর সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। ফলে কোনো আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি যদি একই সঙ্গে এসব লিগের দলও মালিকানায় রাখে, তাহলে বিদেশি তারকা খেলোয়াড়দের নিয়ে নিজেদের ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর মধ্যেই প্রতিযোগিতায় পড়তে হতে পারে।

এর পাশাপাশি বড় একটি বাধা হলো ভারতীয় ক্রিকেটারদের বিদেশি লিগে খেলা নিয়ে বিসিসিআইয়ের বর্তমান নীতি। ভারতীয় পুরুষ ক্রিকেটারদের বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলার অনুমতি না থাকায় বিবিএলের সম্প্রচার আয় অনেকটাই অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় দর্শকদের ওপর নির্ভর করবে।

দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইংল্যান্ডের বিভিন্ন লিগেও আইপিএল মালিকেরা এখনও ভারতীয় পুরুষ দলের খেলোয়াড়দের খেলাতে পারেননি। তবে নারী ক্রিকেটারদের মধ্যে স্মৃতি মান্ধানা ও হারমানপ্রীত কৌর ইতোমধ্যে বিবিএলে খেলেছেন।

তাই কোনো আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি বিবিএলের দল কিনলেও এখনই ভারতীয় ক্রিকেটের বড় তারকাদের অস্ট্রেলিয়ার মাঠে নামাতে পারবে না। তবে অস্ট্রেলিয়ার বাজারে প্রবেশের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে প্রতিভা খোঁজা ও গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বড় সুবিধা পেতে পারে তারা। নিজেদের বৈশ্বিক একাডেমি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে তরুণ অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটারদের খুঁজে এনে প্রশিক্ষণ ও উন্নয়নের সুযোগও তৈরি হবে।

ভবিষ্যতে বিসিসিআই যদি চুক্তিবদ্ধ নন এমন ক্রিকেটার বা অবসর নেওয়া খেলোয়াড়দের বিদেশি লিগে খেলার বিষয়ে বিধিনিষেধ কিছুটা শিথিল করে, তাহলে আইপিএল মালিকানাধীন বিবিএল ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো বড় ধরনের সুবিধা পেতে পারে।

তবে মেলবোর্ন রেনেগেডসের ১০০ শতাংশ মালিকানা বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে গেলেও অন্য ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর ক্ষেত্রে একই মডেল অনুসরণ করা হবে না। প্রতিটি দলের কত শতাংশ শেয়ার বেসরকারি মালিকদের কাছে যাবে, তা সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলোর সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে। ধারণা করা হচ্ছে, অন্যান্য ফ্র্যাঞ্চাইজির ক্ষেত্রে বেসরকারি মালিকানার অংশ সর্বোচ্চ ৪৯ শতাংশ হতে পারে।

সূত্র: এনডিটিভি

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম