Logo
Logo
×
   

Advertisement

খেলা

ভারতের ফুটবল নিয়ে মন্তব্য করে তোপের মুখে ব্রাজিল কোচ

Advertisement

Icon

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৪৯ এএম

ভারতের ফুটবল নিয়ে মন্তব্য করে তোপের মুখে ব্রাজিল কোচ

সংগৃহীত

Advertisement

ভারতের ফুটবল সংস্কৃতি নেই বলে মন্তব্য করেছেন ব্রাজিলের প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি। তরুণ খেলোয়াড়দের একটি শক্তিশালী প্রজন্ম গড়ে তুলতে দেশটির আরও শক্তিশালী তৃণমূল কাঠামো তৈরি করা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ভারতের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচের ঠিক আগেই এই মন্তব্য করলেন তিনি।

ভারতীয় ফুটবলের পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করতে গিয়ে কোনো রাখঢাক করেননি রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক এই কোচ। তার মতে, তরুণ খেলোয়াড়দের একটি বড় সংগ্রহ গড়ে তোলার মতো তৃণমূল কর্মসূচি এখনো তৈরি করতে পারেনি ভারত।

৩ অক্টোবর কলকাতায় ভারতের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচের আগে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আনচেলত্তি জানান, কলকাতায় যাওয়ার জন্য উদগ্রীব হয়ে আছেন তিনি। ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া শীর্ষ মানের তিনটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে ভারত। পানামা, ব্রাজিল এবং উরুগুয়ের মুখোমুখি হবে তারা। এর মধ্যে শেষ দুটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে কলকাতায়।

ব্রিসবেন থেকে দেওয়া মন্তব্যে আনচেলত্তি বলেন, অন্যান্য ফুটবল সংস্কৃতি সম্পর্কে জানাটা ব্রাজিলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বমানের প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলার অভিজ্ঞতা খুব একটা নেই ভারতের, তবে দুই দলের জন্যই একে অপরকে দেখার একটা ভালো সুযোগ হবে এই ম্যাচ, এমনটাই জানান তিনি।

টাইমস অব ইন্ডিয়াকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আনচেলত্তি বলেন, ‘আমাদের অন্যান্য দেশ, অন্যান্য সংস্কৃতি দেখতে হবে। ভিন্ন ভিন্ন ধরনের দলের সঙ্গে প্রীতি ম্যাচ খেলার অভ্যাস আছে আমাদের। ভারতের বিপক্ষের ম্যাচটা রোমাঞ্চকর হবে। এটা সত্যি যে বিশ্বমানের প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলার ভালো অভিজ্ঞতা নেই ভারতের, তবে তারা কীভাবে খেলে সেটা জানাটা আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আমি আগে কখনো ভারতে যাইনি। কলকাতায় যাওয়ার জন্য আমি ভীষণ উত্তেজিত।’

এরপর আনচেলত্তি রীতিমতো সাহসী এক মন্তব্যই করে বসেছেন। জানিয়েছেন ভারতের কোনো ‘ফুটবল সংস্কৃতিই নেই’! তার ভাষ্যমতে, ‘আমার মনে হয় এটা সংস্কৃতির একটা সমস্যা। ভারতের ফুটবল সংস্কৃতি নেই, তবে অন্যান্য খেলায় তারা বেশ ভালো। খেলোয়াড়দের নতুন একটা প্রজন্ম গড়ে তুলতে এই বিষয়ে কাজ করতে হবে তাদের।’

বিষয়টি ভালোভাবে নেয়নি ভারতীয়রা। ভারত কোচ খালিদ জামিলের কাছেও এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল। জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি ওসব পাত্তা দেই না। মানুষের নিজ নিজ মত থাকতেই পারে।’

এদিকে আন্তর্জাতিক ফুটবলে ভারতের সংগ্রাম ক্রমশই আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। ২০২৪ সালের জুনে কাতারের কাছে ১-২ গোলে হেরে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের দৌড় থেকে ছিটকে যায় জাতীয় দল। এই হারের মধ্য দিয়েই তৃতীয় রাউন্ডে পৌঁছানোর আশাও শেষ হয়ে যায় তাদের।

এরপর এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের পরবর্তী চক্রেও আরেকটি ধাক্কা খায় তারা। গ্রুপ সি-তে ছয় ম্যাচে মাত্র পাঁচ পয়েন্ট নিয়ে শেষ করায় ২০২৭ এএফসি এশিয়ান কাপে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয় দলটি। শেষ ম্যাচে হংকংয়ের বিপক্ষে ২-১ গোলে জয়ই ছিল তাদের একমাত্র জয়। এই গ্রুপ থেকে একমাত্র বাছাইপর্বের টিকিট নিশ্চিত করে সিঙ্গাপুর।

বিশ্ব ফুটবলে ভারতের অবস্থানও নিম্নমুখী। ২০২৬ সালের ২০ জুলাই প্রকাশিত সর্বশেষ ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ১৩৮তম স্থানে আছে ভারত, যা তাদের সর্বোচ্চ অবস্থান ৯৪তম স্থানের চেয়ে অনেকটাই নিচে।

এই অনিশ্চয়তা কেবল জাতীয় দলেই সীমাবদ্ধ নয়। ২০২৫ সালে রিলায়েন্সের সঙ্গে এআইএফএফের বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব শেষ হওয়ার পর থেকেই উল্লেখযোগ্য অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে ইন্ডিয়ান সুপার লিগ। নতুন মৌসুমের সূচি এবং সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠান এখনো চূড়ান্ত করতে পারেনি লিগটি। এই অনিশ্চয়তার মধ্যেই ক্লাবগুলোর সামনে থাকা কঠিন পরিস্থিতি তুলে ধরেছে জামশেদপুর এফসির লিগ ছেড়ে যাওয়ার ঘটনা।

দেশটির খেলোয়াড় গড়ে তোলার প্রক্রিয়া নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশের সমবয়সীদের তুলনায় অনেক কম প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলার সুযোগ পান ভারতের তরুণ খেলোয়াড়েরা। এছাড়া বেশ কয়েকটি রাজ্যে নেই সঠিক যুব লিগ এবং যোগ্য প্রশিক্ষকও।

শক্তিশালী ফুটবল আগ্রহের কিছু কিছু জায়গা ধারাবাহিকভাবে তৈরি করে চলা একটি দেশের জন্য, সেই আগ্রহকে একটি টেকসই ফুটবল সংস্কৃতি এবং নিয়মিতভাবে খেলোয়াড় তৈরি করতে সক্ষম একটি ব্যবস্থায় রূপান্তরিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। ভারতের উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং তাদের বর্তমান অবস্থানের মধ্যকার ব্যবধান এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি স্পষ্ট।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম