এই পুরস্কার অন্য কারও পাওনা ছিল, কেন বললেন ইয়ামাল?
Advertisement
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৪৮ পিএম
সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ব্যালন ডি’অর জেতা হয়নি লামিন ইয়ামালের। তবে টানা তৃতীয়বারের মতো জিতেছেন কোপা ট্রফি, যা ২১ বছরের কম বয়সী ফুটবলারদের মধ্যে সেরাকে দেওয়া হয়। কিন্তু পুরস্কার হাতে নিয়েও পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন বার্সেলোনার এই স্প্যানিশ তারকা। তার মতে, এবারের পুরস্কারটি পাওয়া উচিত ছিল সতীর্থ পাউ কুবারসির।
সোমবার রাতে লন্ডনে অনুষ্ঠিত হয় ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠান। মূল পুরস্কার জেতেন বায়ার্ন মিউনিখের ইংলিশ স্ট্রাইকার হ্যারি কেইন। দ্বিতীয় হন কিলিয়ান এমবাপ্পে, আর তৃতীয় স্থানে ছিলেন ইয়ামাল। তবে তরুণ ফুটবলারদের জন্য নির্ধারিত কোপা ট্রফি জিতে ইতিহাস গড়েন ১৯ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।
অনুষ্ঠানে পুরস্কার গ্রহণের পর নিজের সতীর্থ কুবারসির কথা তুলে ধরেন ইয়ামাল। তিনি বলেন, ‘আমি আমার সতীর্থ পাউ কুবারসিকে এখানে দেখতে চেয়েছিলাম। আমার মনে হয়, এই পুরস্কারটা তারই পাওয়া উচিত ছিল। সে বেশ কিছুদিন ধরে অসাধারণ মানের ফুটবল খেলছে। এই নিয়ে তৃতীয়বার আমি এই পুরস্কার নিতে এখানে এলাম। আমার ক্লাব ও জাতীয় দলকে ধন্যবাদ জানাতে চাই।’
এরপর নিজের বক্তব্যে আবারও কুবারসির প্রসঙ্গ টেনে ইয়ামাল বলেন, ‘বিশেষ করে এই পুরস্কারটির কথা বললে, এটা কুবারসিরই পাওয়া উচিত ছিল।’
কুবারসিও বার্সেলোনার হয়ে দুর্দান্ত মৌসুম কাটিয়েছেন। রক্ষণভাগে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের মাধ্যমে দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হয়ে উঠেছেন এই তরুণ স্প্যানিশ ডিফেন্ডার। তবু কোপা ট্রফির দৌড়ে ইয়ামালকে পেছনে ফেলতে পারেননি তিনি।
বার্সেলোনার আক্রমণভাগে ইয়ামালের অবদান ছিল বহুমুখী। গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে গোল করানো, বল নিয়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভাঙা, ড্রিবলিং এবং আক্রমণ গড়ে তোলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তিনি। সব মিলিয়ে তার পারফরম্যান্স তাকে তরুণদের মধ্যে অনন্য করে তুলেছে।
অন্যদিকে, কোচ হান্সি ফ্লিকের অধীনে ‘হাইলাইন’ রক্ষণের কৌশলে বার্সেলোনার রক্ষণভাগকে বিভিন্ন সময়ে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছে। কুবারসি ব্যক্তিগতভাবে ভালো খেললেও দলের সামগ্রিক রক্ষণাত্মক পরিসংখ্যান বিশ্বের সেরা রক্ষণভাগগুলোর সমপর্যায়ে ছিল না। পুরস্কারের ভোটে সেটিও প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
স্পেনের হয়েও বিশ্বকাপে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন দুজন। কুবারসি প্রতিটি ম্যাচের পুরো সময় মাঠে ছিলেন। জিতেছেন বিশ্বকাপের সেরা তরুণ খেলোয়াড়ের পুরস্কারও। তবে ইয়ামালও একই দলের হয়ে বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পেয়েছেন এবং আক্রমণভাগে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন।
সব মিলিয়ে, ইয়ামালের হাতে উঠেছে টানা তৃতীয় কোপা ট্রফি। কিন্তু পুরস্কার জয়ের আনন্দের মাঝেও সতীর্থের প্রতি তার এই স্বীকৃতি বার্সেলোনার দুই তরুণ তারকার পারফরম্যান্স ও পারস্পরিক সম্মানকে সামনে এনেছে।
