কিশোরদের সুরক্ষায় হোয়াটসঅ্যাপে এলো ‘প্যারেন্টাল কন্ট্রোলস’ ফিচার
Advertisement
আইটি ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৫২ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বর্তমান ডিজিটাল যুগে সন্তান অনলাইনে কার সঙ্গে যোগাযোগ করছে, কোন গ্রুপে যুক্ত হচ্ছে কিংবা কী ধরনের কনটেন্ট দেখছে—এসব নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকেন অনেক অভিভাবক। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে সন্তানের ব্যক্তিগত বার্তা বা চ্যাটে সরাসরি নজরদারি করাও অনেক সময় পারিবারিক অস্বস্তি ও ভুল বোঝাবুঝির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
এমন পরিস্থিতিতে কিশোরদের গোপনীয়তা অক্ষুণ্ন রেখে নিরাপদ অনলাইন পরিবেশ নিশ্চিত করতে নতুন ‘প্যারেন্টাল কন্ট্রোলস’ (অভিভাবকীয় নিয়ন্ত্রণ) ফিচার চালু করেছে জনপ্রিয় মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম হোয়াটসঅ্যাপ।
সম্প্রতি এক ব্লগ পোস্টে হোয়াটসঅ্যাপ জানিয়েছে, নতুন এই সুবিধার মাধ্যমে অভিভাবক ও সন্তান যৌথভাবে অ্যাপের গুরুত্বপূর্ণ কিছু নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা সেটিংস নির্ধারণ করতে পারবেন। ফলে ব্যক্তিগত মেসেজ বা কলের গোপনীয়তা বজায় রেখেই কিশোরদের জন্য আরও নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব হবে।
অভিভাবকরা কী কী নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন?
প্রোফাইল ছবি ও স্ট্যাটাসের গোপনীয়তা:
সন্তানের হোয়াটসঅ্যাপ প্রোফাইল ছবি ও স্ট্যাটাস কারা দেখতে পারবে, তা নির্ধারণ করে দিতে পারবেন অভিভাবক।
গ্রুপে যুক্ত হওয়ার নিয়ন্ত্রণ:
অচেনা ব্যক্তি বা যেকোনো ব্যবহারকারী কিশোরকে নতুন কোনো গ্রুপে যুক্ত করতে পারবে কি না, সেটিও নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।
গ্রুপ সংক্রান্ত সতর্কবার্তা:
সন্তান নতুন কোনো গ্রুপে যোগ দিলে বা কোনো গ্রুপ ত্যাগ করলে অভিভাবক নোটিফিকেশন পাবেন। এছাড়া কোনো গ্রুপের সদস্য সংখ্যা হঠাৎ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেলে সতর্কবার্তা পাঠানো হবে।
হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ:
কিশোর ব্যবহারকারী কোন ধরনের চ্যানেল অনুসরণ করতে পারবে, তা নির্ধারণ করার সুযোগ থাকবে।
মেটা এআই ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা:
হোয়াটসঅ্যাপের মেটা এআই ফিচার ব্যবহারে বিভিন্ন মাত্রার নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা যাবে। প্রয়োজন অনুযায়ী আরও সীমিত ব্যবহারের মোডও নির্বাচন করা যাবে।
সিকিউরিটি পিন কীভাবে কাজ করবে?
ফিচারটি নিরাপদ রাখতে অভিভাবক একটি গোপন পিন সেট করবেন। পরবর্তীতে সন্তান যদি নির্ধারিত কোনো নিরাপত্তা বা গোপনীয়তা সেটিংস পরিবর্তন করতে চায়, তাহলে সেই পিন প্রয়োজন হবে। অভিভাবকের অনুমোদন ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ সেটিংস পরিবর্তন করা যাবে না।
সন্তানের ব্যক্তিগত চ্যাট কি দেখা যাবে?
না। নতুন এই ফিচারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, অভিভাবকীয় নিয়ন্ত্রণ চালু থাকলেও সন্তানের ব্যক্তিগত মেসেজ বা কলের বিষয়বস্তু দেখা বা শোনা যাবে না।
হোয়াটসঅ্যাপ জানিয়েছে, ব্যবহারকারীদের সব ব্যক্তিগত বার্তা ও কল আগের মতোই ‘এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন’ সুরক্ষায় থাকবে। অর্থাৎ প্রেরক ও প্রাপক ছাড়া অন্য কেউ, এমনকি হোয়াটসঅ্যাপও এসব বার্তার বিষয়বস্তু দেখতে পারবে না।
কীভাবে চালু করবেন?
এই সুবিধা ব্যবহারের জন্য অভিভাবক ও সন্তানের উভয়ের ফোনে হোয়াটসঅ্যাপের সর্বশেষ সংস্করণ থাকতে হবে।
১. সন্তানের ফোনে হোয়াটসঅ্যাপের Settings > Parental Controls অপশনে গিয়ে বয়স নিশ্চিত করতে হবে। এরপর একটি কিউআর কোড প্রদর্শিত হবে।
২. অভিভাবক নিজের ফোন থেকে ওই কিউআর কোড স্ক্যান করে সংযোগ স্থাপন করবেন এবং একটি ৬ সংখ্যার গোপন পিন সেট করবেন।
৩. এরপর সেই পিন ব্যবহার করে প্রোফাইল গোপনীয়তা, গ্রুপে যুক্ত হওয়ার অনুমতি এবং মেটা এআই ব্যবহারের সীমাবদ্ধতাসহ বিভিন্ন সেটিংস নির্ধারণ করা যাবে।
পরবর্তীতে সন্তান যদি এসব সেটিংস পরিবর্তন করতে চায়, তাহলে অভিভাবকের নির্ধারিত পিন কোড প্রয়োজন হবে।
ফিচারটি ব্যবহার করা কি বাধ্যতামূলক?
না। এটি সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক একটি সুবিধা। পরিবারগুলো নিজেদের প্রয়োজন ও পছন্দ অনুযায়ী ফিচারটি চালু বা বন্ধ রাখতে পারবে।
হোয়াটসঅ্যাপের ভাষ্য, এই ফিচারের উদ্দেশ্য কিশোরদের ওপর অতিরিক্ত নজরদারি করা নয়; বরং অভিভাবক ও সন্তানের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া বজায় রেখে নিরাপদ প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিবেশ গড়ে তোলা।

