অ্যামাজনে আবারও চাকরি হারালেন প্রায় এক হাজার কর্মী
Advertisement
আইটি ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪৭ এএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান অ্যামাজনে আবারও কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এবার প্রতিষ্ঠানটির খুচরা ব্যবসা বিভাগের বিভিন্ন ইউনিটে কর্মরত কর্মীদের চাকরি হারাতে হয়েছে। অ্যামাজনের পক্ষ থেকে ছাঁটাইয়ের পরিসরকে তুলনামূলকভাবে ছোট বলে উল্লেখ করা হলেও সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের দাবি, এতে প্রায় এক হাজার কর্মী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
মঙ্গলবার থেকে অ্যামাজনের দুই দিনব্যাপী বিশেষ বিক্রয় আয়োজন ‘প্রাইম বিগ ডিল ডেজ’ শুরু হয়। বিভিন্ন পণ্যে বিশেষ ছাড়ের এই আয়োজন বুধবার শেষ হওয়ার কথা ছিল। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিক্রয় কার্যক্রম চলাকালেই নতুন করে কর্মী ছাঁটাইয়ের খবর সামনে এসেছে।
অ্যামাজনের খুচরা ব্যবসার গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ ‘স্টোরস’-এর আওতায় প্রতিষ্ঠানটির প্রধান ই-কমার্স ওয়েবসাইট পরিচালিত হয়। এক বিবৃতিতে অ্যামাজনের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, এই বিভাগের কিছু অংশে সাংগঠনিক পরিবর্তন আনা হয়েছে। ব্যবসার বর্তমান অগ্রাধিকারগুলো আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই নতুন কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
অভ্যন্তরীণ সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ‘স্টোরস’ বিভাগের একাধিক ইউনিটে এই ছাঁটাইয়ের প্রভাব পড়েছে। এর মধ্যে গ্রাহকসেবা এবং বিক্রেতা অংশীদারদের সহায়তা দেওয়ার কাজে নিয়োজিত কর্মীরাও রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি ভারত ও যুক্তরাজ্যে কর্মরত কিছু কর্মীও এই ছাঁটাইয়ের আওতায় পড়েছেন বলে জানা গেছে।
একাধিক দফায় কর্মী কমিয়েছে অ্যামাজন
গত বছর থেকে বিভিন্ন পর্যায়ে কর্মীসংখ্যা কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে অ্যামাজন। এর আগে প্রায় ৩০ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের একটি বড় প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, যা চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। এরপরও বিভিন্ন বিভাগে সীমিত পরিসরে কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। গত জুলাইয়ে প্রতিষ্ঠানটির কৃত্রিম সাধারণ বুদ্ধিমত্তা বা এজিআই বিভাগের কর্মীরাও ছাঁটাইয়ের শিকার হন।
অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী চেয়ারম্যান জেফ বেজোসও প্রতিষ্ঠানটির আগের কর্মী ছাঁটাই নিয়ে কথা বলেছেন। বুধবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, করোনাভাইরাস মহামারির সময় অনলাইনে কেনাকাটার চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ায় অ্যামাজন প্রয়োজনের তুলনায় বেশি কর্মী নিয়োগ করেছিল।
বেজোসের ভাষ্য অনুযায়ী, মহামারির সময় মানুষ ঘরে অবস্থান করে বিপুল পরিমাণ পণ্য অর্ডার করছিলেন। এতে অ্যামাজনের কার্যক্রমের ওপর প্রচণ্ড চাপ তৈরি হয় এবং চাহিদা সামাল দিতে প্রতিষ্ঠানটিকে দ্রুত কর্মী নিয়োগ করতে হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে সেই অতিরিক্ত জনবল সমন্বয়ের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
পুনর্গঠন ও এআইতে বিনিয়োগে গুরুত্ব
নতুন করে কর্মী ছাঁটাইয়ের খবর এমন সময়ে এল, যখন অ্যামাজন ব্যবসার বিভিন্ন অংশে সাংগঠনিক পরিবর্তন আনার পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণের মাধ্যমে কাজের পদ্ধতি আরও কার্যকর করা এবং পরিচালন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
তবে সর্বশেষ ছাঁটাইয়ের ক্ষেত্রে ঠিক কতজন কর্মী চাকরি হারিয়েছেন, সে বিষয়ে অ্যামাজন নির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করেনি। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় এক হাজার কর্মী এই সিদ্ধান্তের প্রভাবের মুখে পড়েছেন।
