ছবি বা ভিডিও এআই দিয়ে তৈরি কিনা, বুঝবেন যেভাবে
Advertisement
আইটি ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৩১ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি ভুয়া ছবি ও ভিডিওর ছড়াছড়ি। কখনো কোনো তারকার সঙ্গে সেলফি, কখনো রাজনীতিবিদের বিতর্কিত বক্তব্য, আবার কখনো অবিশ্বাস্য কোনো ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন মাধ্যমে। এসব ছবি ও ভিডিও আসল, সম্পাদিত নাকি সম্পূর্ণ এআই দিয়ে তৈরি, তা বোঝা কঠিন হয়ে পড়ছে। তবে কয়েকটি সহজ কৌশল ও প্রযুক্তির সাহায্যে যাচাই করা সম্ভব কোনো ছবি বা ভিডিও কতটা বিশ্বাসযোগ্য।
ছবি ও ভিডিওর খুঁটিনাটি দেখুন
এআই দিয়ে তৈরি ছবিতে অনেক সময় হাতের আঙুল, দাঁত, গয়না কিংবা পোশাকের নকশায় অসংগতি দেখা যায়। ছবির পেছনের দৃশ্য, আয়নায় প্রতিফলন, সাইনবোর্ডের লেখা কিংবা মানুষের শরীরের গঠনেও অস্বাভাবিকতা থাকতে পারে। এসব লক্ষণ দেখলে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।
তবে ছবি ঝাপসা হলেই সেটিকে এআই দিয়ে তৈরি বলে ধরে নেওয়া যাবে না। কম আলো, ক্যামেরার নড়াচড়া কিংবা সম্পাদনার কারণেও ছবিতে অসংগতি দেখা দিতে পারে।
রিভার্স ইমেজ সার্চ করুন
কোনো ছবি পুরোনো কি না, কিংবা ভিন্ন ঘটনার ছবি নতুন দাবি দিয়ে ছড়ানো হচ্ছে কি না, তা যাচাইয়ের কার্যকর উপায় রিভার্স ইমেজ সার্চ। গুগল লেন্স ও টিনআইয়ের মতো টুলে ছবি আপলোড করে ইন্টারনেটে একই ছবির অন্যান্য সংস্করণ খুঁজে পাওয়া যায়।
এতে ছবিটি আগে কোনো সংবাদ, ওয়েবসাইট বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল কি না, তা বোঝা সম্ভব। তবে ছবির আগের সংস্করণ খুঁজে না পেলেই সেটিকে এআই দিয়ে তৈরি বলে নিশ্চিত হওয়া যাবে না।
ভিডিও ধীরে দেখুন
ভিডিও যাচাইয়ের ক্ষেত্রে প্রতিটি দৃশ্য ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করা জরুরি। বক্তার ঠোঁটের নড়াচড়ার সঙ্গে শব্দ মিলছে কি না, চোখের পলক অস্বাভাবিক কি না, কিংবা হাত ও মুখের আকৃতি হঠাৎ বদলে যাচ্ছে কি না, তা খেয়াল করুন। ভিডিওর পেছনের দৃশ্যেও অসংগতি থাকতে পারে।
পরিচিত কারও কণ্ঠস্বর শুনেও পুরোপুরি বিশ্বাস করা ঠিক নয়। এআই প্রযুক্তির সাহায্যে এখন মানুষের কণ্ঠস্বর নকল করা সম্ভব। তাই ভিডিওটির অন্য কোনো নির্ভরযোগ্য সংস্করণ আছে কি না, তা খুঁজে দেখা উচিত।
এআই শনাক্তকারী টুল ব্যবহার করুন
হাইভ মডারেশন, সেনসিটি ও ডিপওয়্যার স্ক্যানারের মতো অনলাইন টুল ছবি বা ভিডিও এআই দিয়ে তৈরি কি না, সে বিষয়ে ধারণা দিতে পারে। তবে এসব টুল সব সময় নির্ভুল ফল দেয় না। আসল ছবিকে ভুয়া হিসেবে চিহ্নিত করতে পারে, আবার এআই দিয়ে তৈরি ছবিও শনাক্ত করতে ব্যর্থ হতে পারে। তাই শুধু এসব টুলের ফলাফলের ওপর নির্ভর করা উচিত নয়।
মেটাডেটা যাচাই করুন
ছবির মেটাডেটায় সেটি তৈরির সময়, ব্যবহৃত যন্ত্র বা সম্পাদনার সফটওয়্যার সম্পর্কে তথ্য থাকতে পারে। মেটাডেটা টুজিরোর মতো ওয়েবসাইটে ছবি পরীক্ষা করে এসব তথ্য দেখা যায়। সেখানে মিডজার্নি বা স্টেবল ডিফিউশনের মতো এআই টুলের উল্লেখ থাকলে সেটি যাচাইয়ের একটি সূত্র হতে পারে। তবে মেটাডেটা পরিবর্তন করা যায়, আবার অনেক প্ল্যাটফর্ম ছবি প্রকাশের সময় এসব তথ্য মুছেও ফেলে।
ছবিটি প্রথম কে প্রকাশ করেছে, খুঁজুন
কোনো ছবি বা ভিডিওর সত্যতা যাচাইয়ে সেটির উৎস গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম প্রকাশকারী অ্যাকাউন্টটি বিশ্বাসযোগ্য কি না, নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমে একই ঘটনার খবর আছে কি না, কিংবা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যাচ্ছে কি না, তা যাচাই করুন।
সবশেষে, কোনো ছবি বা ভিডিওর সত্যতা নিশ্চিত হতে না পারলে সেটি শেয়ার করা থেকে বিরত থাকুন। বিশেষ করে রাজনৈতিক বক্তব্য, জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট ঘটনা কিংবা চাঞ্চল্যকর দাবির ক্ষেত্রে একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা জরুরি। প্রযুক্তির সহায়তার পাশাপাশি সচেতনতা ও বিচারবুদ্ধিই এআই দিয়ে তৈরি ভুয়া কনটেন্ট শনাক্ত করার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
সূত্র: গ্যাজেট নাউ


