Logo
Logo
×
   

Advertisement

প্রথম পাতা

করোনার ভয়াবহতা ঠেকাতে কঠোর পদক্ষেপ

কাল শুরু ৭ দিনের লকডাউন

প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে আজ * খোলা থাকবে জরুরি সেবা * স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবে শিল্প-কারখানা * সীমিত আকারে চলবে ব্যাংকিং সেবা ও শেয়ারবাজার * বন্ধ থাকবে- অভ্যন্তরীণ বিমান চলাচল, যাত্রীবাহী ট্রেন, বইমেলা ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ০৪ এপ্রিল ২০২১, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কাল শুরু ৭ দিনের লকডাউন

Advertisement

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় কাল থেকে সারা দেশ প্রথমবারের মতো শুরু হচ্ছে এক সপ্তাহের লকডাউন। সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের তার সরকারি বাসভবনে শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘সোমবার থেকে এক সপ্তাহের জন্য সারা দেশে লকডাউন ঘোষণা করবে সরকার। শিল্প-কলকারখানা শর্ত সাপেক্ষে চালু থাকতে পারে। এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বিস্তারিত জানাবে।’ 

এই ঘোষণার পর রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন জানিয়েছেন, লকডাউনে জরুরি পণ্য ও খাদ্যবাহী ট্রেন ছাড়া সব ধরনের যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকবে। আর জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেছেন, লকডাউনের মধ্যে জরুরি সেবা দেওয়া প্রতিষ্ঠান ছাড়া সব ধরনের সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। তবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে খোলা থাকবে শিল্প-কারখানা। শেয়ারবাজার খোলা থাকলেও সীমিত আকারে চলবে ব্যাংকিং সেবা। চলমান বইমেলাও লকডাউনে বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ।

এছাড়া দেশের অভ্যন্তরীণ বিমান চলাচল সোমবার থেকে বন্ধ থাকবে। তবে আন্তর্জাতিক রুট খোলা থাকবে বলে জানিয়েছে বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। তবে শনিবার রাত ১০টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সড়কে যান চলাচলের বিষয়ে সুনির্দিষ্টভাবে কোনো তথ্য জানাতে পারেননি সরকারের সংশ্লিষ্টরা।  এদিকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো যুগান্তরকে জানিয়েছে, করোনা পরিস্থিতি ও করণীয় নির্ধারণে সাপ্তাহিক ছুটির দিন শনিবার দুপুর থেকেই মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব, তিন বাহিনীসহ সরকারের বিভিন্ন বাহিনী ও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবদের ভার্চুয়াল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সবার কাছ থেকে প্রয়োজনীয় মতামত চাওয়া হয়। সন্ধ্যা পর্যন্ত চলা ওই বৈঠকের মতামতের আলোকে এ সংক্রান্ত একটি সারসংক্ষেপ তৈরি করে অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠানো হবে। ওই সারসংক্ষেপে- লকডাউন নয়, এক সপ্তাহের ‘কঠোর নিষেধাজ্ঞা’ আরোপের প্রস্তাব যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী সায় দিলে আজ রোববার প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে। বৈঠকে উপস্থিত একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রায় সবকিছু গত বছরের মতোই হবে। তবে সাধারণ ছুটি হবে না। বৈঠকে অংশ নেওয়া অপর একজন কর্মকর্তা জানান, প্রধানমন্ত্রীর তরফ থেকে সায় পেলে সোমবার থেকে এক সপ্তাহের জন্য কঠোর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হচ্ছে। আপাতত এই সিদ্ধান্তই থাকতে পারে।

ওই বৈঠক সূত্র জানায়, শনিবারের বৈঠকে আগামী এক সপ্তাহের জন্য এক জেলা থেকে অন্য জেলায় জনসাধারণের চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ বা নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। সেখানে প্রতিটি জেলার প্রবেশ ও বহির্গমন পথে চেকপোস্টের ব্যবস্থা থাকবে। এ সময় জনগণকে অবশ্যই ঘরে থাকতে হবে। তবে অতিজরুরি প্রয়োজন ছাড়া রাত ৮টা থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত ঘরের বাইরে বের হওয়া যাবে না। প্রয়োজনীয় ক্রয়-বিক্রয়, কর্মস্থলে যাতায়াত, চিকিৎসাসেবা, মৃতদেহ দাফন বা সৎকার ইত্যাদি কাজে বাইরে চলাচলের সময় মাস্ক পরিধানসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি অবশ্যই পালন করতে হবে। এই সময়ে কর্মস্থলের বাইরে যাওয়া যাবে না। আন্তঃজেলা পরিবহণ সীমিত করতে হবে। এসব পরিবহণে ৫০ শতাংশ যাত্রী স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরিবহণ করা যাবে। সব আন্তর্জাতিক যাত্রী পরিবহণ সীমিত করতে হবে। বিশেষ করে বিদেশ ফেরত যাত্রীদের করোনা আক্রান্ত বিবেচনা করে কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করতে হবে। এই সময়ে সব ধরনের সভা-সমাবেশ, জনসমাগম, সামাজিক, অর্থনৈতিক, ধর্মীয় অনুষ্ঠান বন্ধ থাকবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে মসজিদগুলোতে সর্বসাধারণের নামাজ আদায় এবং অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের ক্ষেত্রে প্রার্থনা নিশ্চিত করতে হবে। মসজিদে ওয়াক্তিয়া নামাজের ক্ষেত্রে ৫ জন এবং জুমার নামাজে ১২ জনের বেশি গ্রহণযোগ্য নয় বলেও প্রস্তাবে বলা হয়। নিত্যপ্রয়োজনীয় জরুরি পণ্য উন্মুক্ত স্থানে ক্রয়-বিক্রয় নিশ্চিত করতে হবে। বেসরকারি নিরাপত্তা সেবা এবং এই সেক্টরে কর্মরত নিরাপত্তা প্রহরীসহ নগদ অর্থ পরিবহণে নিয়োজিত যানবাহনের চলাচল এই নিষেধাজ্ঞার আওতাবহির্ভূত থাকবে। চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত ডাক্তার, নার্স ও কর্মী এবং ওষুধসহ চিকিৎসা সরঞ্জামাদি বহনকারী যানবাহন, কর্মী, গণমাধ্যমকর্মীরা এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবেন। এছাড়া কৃষিপণ্য, খাদ্য-শিল্প পণ্য, রাষ্ট্রীয় প্রকল্পের মালামাল, কাঁচাবাজার, খাবার ইত্যাদি পরিবহণ, ওষুধের দোকান, হাসপাতাল, জরুরি সেবা এবং এসবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের ক্ষেত্রে এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে না বলে প্রস্তাবে বলা হয়েছে। এছাড়া ব্যাংক সেক্টরের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক পৃথক নির্দেশনা দেবে। সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিসকে তিন ভাগের এক ভাগ জনবল নিয়ে কাজ করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা, বিদ্যুৎ, পানি, ত্রাণ বিতরণ, জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, টেলিফোন, ইন্টারনেট, ডাকসেবা, হাসপাতাল, কৃষিপণ্য, সার, বীজ, খাদ্য, শিল্পপণ্য, রাষ্ট্রীয় প্রকল্পের মালামাল, নার্স, ডাক্তার, ক্যাবল নেটওয়ার্ককর্মী, গণমাধ্যমকর্মীদের পরিবহণ ও চলাচলে স্বাস্থ্যবিধি মানলে বাধা থাকবে না। রপ্তানিমুখী শিল্পসহ সব শিল্প-কলকারখানা শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা বজায় রেখে চালু রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। 

শনিবার সকালের সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় সরকার ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। কিন্তু এখনো অনেকেই মাস্ক পরিধানসহ স্বাস্থ্যবিধির প্রতি অনীহা দেখাচ্ছে, যা ভয়াবহ পরিস্থিতি নিয়ে আসতে পারে। নিজেদের সুরক্ষায় সবাই সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করাই এখন মূল কাজ। যারা কথা দিয়ে কথা না রেখে দূরপাল্লায় দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করছেন। আপনারা দুর্যোগের মধ্যে জনগণের দুর্ভোগ বাড়াবেন না। করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং মাস্ক পরা জরুরি কর্তব্য বলে মনে করে সেগুলো পালন করার আহ্বান জানান সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী।

এরপর জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন এক ভিডিও বার্তায় জানান, দ্রুত বেড়ে যাওয়া করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সোমবার থেকে সপ্তাহের জন্য লকডাউন দিতে যাচ্ছে সরকার। লকডাউনের মধ্যে জরুরি সেবা দেওয়া প্রতিষ্ঠান ছাড়া সব ধরনের সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। তবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে খোলা থাকবে শিল্প-কারখানা। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মানুষের চলাফেরা যাতে কমাতে পারি সেজন্য আমরা আপাতত এক সপ্তাহের জন্য লকডাউন দিচ্ছি। আমাদের জরুরি সেবা দেওয়া প্রতিষ্ঠান, ডিসি অফিস, ইউএনও অফিস, ফায়ার সার্ভিসের অফিস, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার অফিস, সংবাদপত্র অফিস- এই ধরনের অফিস খোলা থাকবে। লকডাউনের মধ্যে শিল্প-কারখানা খোলা থাকবে, সেখানে একাধিক শিফট করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে যাতে শ্রমিকরা কাজ করেন- সেটা নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে তো আবার গত বছরের মতো শ্রমিকদের বাড়ি যাওয়ার ঢল শুরু হয়ে যাবে। এছাড়া সরকারি ও বেসরকারি অফিস-আদালত বন্ধ থাকবে। সব ধরনের মার্কেট বন্ধ থাকবে।’

গণপরিবহণ বন্ধ থাকবে কিনা- জানতে চাইলে ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘আমরা যখন এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করব সেখানে তা স্পষ্ট করে বলা হবে। এখনই এ বিষয়ে বলছি না।’ তবে সোমবার সকাল ৬টা থেকে যাত্রীবাহী নৌযান (লঞ্চ, স্পিডবোট) চলাচল বন্ধ থাকবে বলে যুগান্তরকে নিশ্চিত করেছেন বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান কমোডর গোলাম সাদেক।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথমবার করোনা শনাক্ত হওয়ার পর ২৬ মার্চ থেকে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার। শুরুতে ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ‘ছুটি’ ঘোষণা হলেও পরে তার মেয়াদ বাড়ে কয়েক দফা। ওই সময় দেশে টানা ৬৬ দিন সাধারণ ছুটি ছিল। সে সময় সব অফিস-আদালত, কল-কারখানা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে সারা দেশে সব ধরনের যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়। ছুটির মধ্যে সবকিছু বন্ধ থাকার সেই পরিস্থিতি ‘লকডাউন’ হিসেবে পরিচিতি পায়। কিন্তু তাতে নিম্নবিত্তের জীবন-জীবিকা আর দেশের উৎপাদন ব্যবস্থা অস্তিত্ব সংকটে পড়লে বিভিন্ন মহলের দাবিতে সরকার ৩১ মের পর থেকে ধাপে ধাপে বিধিনিষেধ শিথিল করতে থাকে। বছরের শেষে এসে সব স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকা ছাড়া আর সব কড়াকড়িই উঠে যায়। ভাইরাসের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে রেখেই অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখার ভাবনা থেকে মাঝে পুরো দেশকে লাল, হলুদ ও সবুজ জোনে ভাগ করে পরিস্থিতি অনুযায়ী লকডাউনের বিধিনিষেধ আরোপের পরিকল্পনা হয়েছিল। পরীক্ষামূলকভাবে কয়েকটি এলাকায় সেই ব্যবস্থা চালানোও হয়েছিল। কিন্তু পরে আর তা এগোয়নি। 

এদিকে চলতি বছরের শুরুতে দেশে সংক্রমণ হার অনেকটা কমে আসে। সারা দেশে শুরু হয় করোনাভাইরাসের গণটিকাদান। চলতি বছর ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে দেশে দৈনিক শনাক্তের হার নেমে এসেছিল তিন শতাংশেরও নিচে। কিন্তু ফেব্রুয়ারির শেষদিক থেকে আবার দ্রুতগতিতে সংক্রমণ বাড়তে শুরু করে। যার ফলে প্রতিদিন রোগী বাড়তে থাকায় হিমশিম খেতে হচ্ছে ঢাকার হাসপাতালগুলোকে। এরই মধ্যে ৩০টি জেলাকে ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে সরকার। এছাড়া ধারণ ক্ষমতার অর্ধেক যাত্রী নিয়ে গণপরিবহণ চলাচল শুরু হয়েছে। সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার পাশাপাশি জরুরি সেবায় নিয়োজিত প্রতিষ্ঠান ছাড়া সব সরকারি-বেসরকারি অফিস/প্রতিষ্ঠান/ শিল্প-কারখানা অর্ধেক জনবল দিয়ে চালাতে বলা হয়েছে। আর তিন পার্বত্য জেলা- চট্টগ্রাম, সিলেট, কক্সবাজার এবং কুয়াকাটার সব পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। যুক্তরাজ্য বাদে পুরো ইউরোপ এবং আরও ১২টি দেশ থেকে যাত্রীদের বাংলাদেশে প্রবেশে জারি হয়েছে নিষেধাজ্ঞা। এর পাশাপাশি সব ধরনের সামাজিক অনুষ্ঠান, বিনোদন কেন্দ্র, বইমেলা ও অন্যান্য মেলা অবিলম্বে বন্ধ করার সুপারিশ করেছে কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি। গত ক’দিনে সংক্রমণ শনাক্তে আগের রেকর্ড ছাড়িয়ে যাচ্ছে। মৃত্যুও হচ্ছে অর্ধশতসংখ্যক। শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ৫৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। মোট মৃত্যু হয়েছে নয় হাজার ২১৩ জনের। সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে আরও পাঁচ হাজার ৬৮৩ জনের মধ্যে। এ নিয়ে মোট শনাক্তকৃত রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ছয় লাখ ৩০ হাজার ২৭৭ জনে।

ব্যাংকিং সেবা : করোনার বিস্তার প্রতিরোধে সরকার ঘোষিত লকডাউনের মধ্যে সারা দেশে সীমিত আকারে ব্যাংকিং সেবা চালু থাকবে। লেনদেন হবে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য। ওই সময়ে অনলাইন লেনদেন, মোবাইল ব্যাংকিং সেবা ও এটিএম বুথ সার্বক্ষণিকভাবে চালু রাখা হবে। একই সঙ্গে এগুলোতে গ্রাহকদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করার পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এ বিষয়ে আজ রোববার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর জন্য একটি নির্দেশনা জারি করা হবে। একই সঙ্গে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও নির্দেশনা থাকবে। আজ দুপুরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। ওই বৈঠকে এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। 

এদিকে ক্ষুদ্রঋণ দানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সেবাও সীমিত আকারে চালু থাকবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চূড়ান্ত করতে আজ বিকালে নিয়ন্ত্রক সংস্থা মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির (এমআরএ) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা একটি বৈঠকে বসছেন। ওই বৈঠকে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। 
সূত্র জানায়, সরকার ঘোষিত লকডাউনের জন্য ঘোষিত নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলো জরুরি সেবার আওতায় এনে এসব খাতের কার্যক্রম সীমিত আকারে চালু রাখা হবে। করোনার মোকাবিলায় প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নে এসব প্রতিষ্ঠানও কাজ করছে। 

শেয়ারবাজার : লকডাউনে শেয়ারবাজার খোলা থাকবে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) প্রফেসর শিবলী রুবাইয়াত উল ইসলাম শনিবার সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। এ সময়ে বিনিয়োগকারীদের আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। এরপর দুই দেশের শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বাজার চালুর কথা জানানো হয়। বিএসইসির চেয়ারম্যান বলেন, বিনিয়োগকারীদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। লকডাউনের মধ্যে ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু থাকলে শেয়ারবাজারেও লেনদেন হবে। এ ব্যাপারে কোনো ধরনের গুজবে কান না দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। 

অভ্যন্তীরণ ফ্লাইট বন্ধ, খোলা থাকবে আন্তর্জাতিক রুট : লকডাউনের কারণে দেশের অভ্যন্তরীণ রুটে বিমান চলাচল সোমবার থেকে বন্ধ রাখবে ফ্লাইট অপারেটরগুলো। শনিবার আন্তঃমন্ত্রণালয়ের এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (ক্যাব) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম মফিদুর রহমান। তবে আন্তর্জাতিক রুটে বিমান চলাচল অব্যাহত থাকবে বলে সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। তিনি জানান, সরকারের লকডাউন বিধির ওপর ভিত্তি করে বিমান কর্তৃপক্ষ একটি নোটিশ জারি করবে।
এর আগে, শনিবার দিনের শুরুতে বাংলাদেশ সরকার দেশব্যাপী এক সপ্তাহের লকডাউন আরোপের কথা জানান। সোমবার থেকে এ লকডাউন শুরু হবে।

সিভিল এভিয়েশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহেল কামরুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, লকডাউনের গেজেট প্রকাশের পর আজ সিভিল এভিয়েশন থেকে ফ্লাইট বন্ধের গেজেট প্রকাশ হতে পারে। তিনি বলেন, শনিবার রাত পর্যন্ত ফ্লাইট বন্ধের কোনো গেজেট প্রকাশ হয়নি। সেটি আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত মাত্র।

তবে অভ্যন্তরীণ রুটে চলাচলকারী বিমান সংস্থা ইউএসবাংলা এয়ারলাইন্স, নভোএয়ার এবং রাষ্ট্রীয় ক্যারিয়ার বিমান সূত্রে জানা গেছে- তারা এখন পর্যন্ত সিভিল এভিয়েশন থেকে ফ্লাইট বন্ধের কোনো নির্দেশনা পাননি। এ কারণে তারা এখনো ফ্লাইট শিডিউল অব্যাহত রেখেছেন। সিভিল এভিয়েশনের নির্দেশনা পাওয়ার পর তারা ফ্লাইট বন্ধের সিদ্ধান্ত যাত্রীদের অবহিত করবেন।
 

Advertisement

লকডাউন

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম