Logo
Logo
×

Advertisement

প্রথম পাতা

র‌্যাবের বিরুদ্ধে অভিযোগ

গ্রেফতারের কারণ জানতে চাওয়ায় গুলি, বৃদ্ধ নিহত

আটক ২৩ * আসামি ছিনিয়ে নিতে চাওয়ায় ছোড়া হয় গুলি -র‌্যাব

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন, সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ)

প্রকাশ: ১৯ মার্চ ২০২৩, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

গ্রেফতারের কারণ জানতে চাওয়ায় গুলি, বৃদ্ধ নিহত

Advertisement

খুনের মামলার আসামি গ্রেফতারে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে র‌্যাবের অভিযানকালে গুলিতে এক বৃদ্ধ নিহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তার নাম আবুল কাশেম (৬৫)। শুক্রবার দিনগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার বরগাঁও গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহতের স্ত্রীর দাবি-সেলিম মিয়া নামে পাশের বাড়ির এক যুবককে গ্রেফতারের কারণ জানতে চাওয়ায় উত্তেজিত হয়ে র‌্যাব পরিচয়দানকারীরা তার স্বামীকে কাছ থেকে পেটে গুলি করে হত্যা করেছে। এছাড়া হুমায়ুন কবিরসহ (৪৩) আরও কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তবে র‌্যাব বলেছে, আসামি ছিনিয়ে নিতে তাদের ওপর হামলা হলে তারাও পালটা উত্তর দেয়। তবে কীভাবে ওই ব্যক্তি মারা গেছেন সেই সম্পর্কে তারা কিছু জানেন না। শনিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে জানাজা শেষে আবুল কাশেমের লাশ বরগাঁও গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। এর আগে সন্ধ্যায় পোস্টমর্টেম শেষে লাশ নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল থেকে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। নিহতের বাড়িতে এখন শোকের মাতম চলছে। রাত ১০টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এ ঘটনায় নিহত কিংবা র‌্যাবের পক্ষ থেকে কোনো মামলা হয়নি।

শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, লাশের পাশে স্থানীয় থানার এসআই আনিছুর রহমানসহ তিন পুলিশ সদস্য পাহারায় রয়েছেন। আর নিহতের চাচাতো বোন নাসিমা বেগম ও স্ত্রী রমিজা বেগম চিৎকার করে কাঁদছেন। এ সময় রমিজা বেগম জানান, উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়নের বরগাঁও গ্রামের চেয়ারম্যানপাড়ায় তাদের বাড়ি। শুক্রবার দিনগত গভীর রাতে তিনি ও তার স্বামী প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিয়ে ঘরের বাইরে যান। এ সময় বাড়ির পাশে রাস্তার মধ্যে কয়েকজনের চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দ শুনতে পান। সেখানে গিয়ে দেখতে পান পাশের বাড়ির যুবক সেলিমকে জিন্স প্যান্ট ও গেঞ্জি পরা কয়েকজন লোক টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাচ্ছেন। এ সময় সেলিমের বাড়ির লোকজন কান্নাকাটি করছিলেন। তার স্বামী আবুল কাশেম ওই লোকদের কাছে পরিচয় জানতে চাইলে সাদা পোশাকধারীরা লাঠি দিয়ে দুটি আঘাত করে। এতে তার স্বামী মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এরপর মাটি থেকে উঠে তার স্বামী হইচই শুরু করলে সাদা পোশাকধারীরা তার পেটে গুলি করে। স্বজনরা তাকে সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানকার চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত আবুল কাশেমের ছেলে সাইফুল ইসলাম জানান, গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তার বাবাকে সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে রাত ২টার দিকে তিনি মারা যান। তিনি আরও জানান, রাত আড়াইটার দিকে আবার র‌্যাব সদস্যরা রেখে যাওয়া মোটরসাইকেল নিতে গ্রামে আসেন। এ সময় তারা গ্রামের ২০-২২ জনকে আটক করে নিয়ে যান।

সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন জিসান বলেন, রাত আড়াইটার দিকে গুলিবিদ্ধ এক বৃদ্ধকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। পরীক্ষা করে জানা যায়, হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই তিনি মারা গেছেন। তার নাভির ওপরে একটি বুলেটের চিহ্ন রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বরগাঁও গ্রামের কয়েকজন ব্যক্তি জানান, গভীর রাতে গুলির শব্দ পাওয়ার পর এলাকার মসজিদের মাইকে ডাকাত পড়েছে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়। পরে এলাকাবাসী এগিয়ে গেলে সাদা পোশাকধারীরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এ সময় হুমায়ুন কবির নামের একজনের পায়ে গুলি লাগে। তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এছাড়া আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। তারা আরও জানান, পার্শ্ববর্তী গজারিয়াপাড়া এলাকায় রোজিনা আক্তার নামে এক পোশাক শ্রমিককে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় জড়িত সন্দেহদের গ্রেফতারে তাদের এলাকায় অভিযান চালায় র‌্যাব। তবে র‌্যাব পরিচয়ে অভিযানকারীদের গায়ে কোনো র‌্যাবের পোশাক বা কটি ছিল না। এ কারণে এলাকাবাসীর সন্দেহ হয়। একপর্যায়ে তাদের ডাকাত বললে তাদের সঙ্গে এলাকাবাসীর তর্ক-বিতর্ক হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গুলি ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। র‌্যাবের পোশাক পরা থাকলে হয়তো কেউ তাদের কাছে গ্রেফতারের কৈফিয়ত জানতে চাইত না।

র‌্যাব-১১ এর অধিনায়ক ল্যাফটেন্যান্ট কর্নেল তানভীর মাহমুদ পাশা বলেন, সোনারগাঁয়ে রোজিনা আক্তার নামে এক নারীর গলা কাটা লাশ উদ্ধার হয়েছে শুক্রবার। এ ঘটনার মূল সন্দেহভাজন সেলিমকে আটক করতে ওই এলাকায় অভিযান পরিচালনা হয়। আসামিকে আটক করে নিয়ে আসার সময় র‌্যাবের ওপর হামলা করে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে র‌্যাব তাতে বাধা দেয়। এ সময় গ্রামের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে র‌্যাবের ওপর হামলা চালায়। বাধ্য হয়ে র‌্যাব সদস্যরা পালটা ব্যবস্থা নেয়। পরে আসামিকে গ্রেফতার করে আমরা নিয়ে আসি। শনিবার আমরা জানতে পারি একজন মারা গেছেন। তবে তিনি কীভাবে মারা গেছেন তা আমরা নিশ্চিত নই। তিনি আরও বলেন, রোজিনা হত্যাকাণ্ডের সন্দেহভাজন আসামি সেলিমসহ ২৩ জনকে আটক করা হয়েছে। তবে সবাই অ্যারেস্টেড নয়। হত্যাকাণ্ডে যারা জড়িত তাদের গ্রেফতার দেখানো হবে।

নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার গোলাম মোস্তফা রাসেল বলেন, আসামি গ্রেফতার করে ফেরার পথে কিছু দুষ্কৃতকারী আসামি ছিনিয়ে নিতে র‌্যাবের ওপর আক্রমণ করে। এতে র‌্যাবের কয়েকজন সদস্য আহত হন। আত্মরক্ষার্থে র‌্যাব সদস্যরা গুলি ছোড়ে। এ ঘটনায় র‌্যাব মামলা করবে।

গ্রামের বাড়িতে লাশ দাফন : রাত সাড়ে আটটায় জানাজা শেষে আবুল কাশেমের লাশ গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। এর আগে সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল থেকে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পোস্টমর্টেমের জন্য দুপুরে সোনারগাঁ থেকে লাশ নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।

শোকের মাতম : আবুল কাশেমের বাড়িতে এখন শোকের মাতম চলছে। স্ত্রী, সন্ত্রান ও আত্মীয়স্বজনদের আহাজারিতে এলাকার বাতাস ভারী হয়ে উঠছে।

এলাকা পুরুষশূন্য : এ ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে বরগাঁও গ্রামসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রাম।

 

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস আজ প্রতিদিন ঝরছে ২২ প্রাণ

প্রতিদিন ঝরছে ২২ প্রাণ

ঢামেক হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট রোগী ঢুকতে পারলেও বেরোনো কঠিন

রোগী ঢুকতে পারলেও বেরোনো কঠিন

লেভেল ক্রসিংয়ে সড়ক যান ধৈর্যচ্যুতির খেসারত মৃত্যু আর পঙ্গুত্বে

ধৈর্যচ্যুতির খেসারত মৃত্যু আর পঙ্গুত্বে

যুগান্তরকে ইলিয়াস কাঞ্চন শুধু আইনে সড়ক নিরাপদ হবে না

শুধু আইনে সড়ক নিরাপদ হবে না

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম