Logo
Logo
×

Advertisement

প্রথম পাতা

জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস আজ

প্রতিদিন ঝরছে ২২ প্রাণ

Advertisement

মতিন আব্দুল্লাহ

মতিন আব্দুল্লাহ

প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

প্রতিদিন ঝরছে ২২ প্রাণ

Advertisement

দেশে সড়ক দুর্ঘটনা যেন এক অঘোষিত মহামারি। বাংলাদেশ যাত্রীকল্যাণ সমিতির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত এক যুগে (২০১৪-২০২৫) সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৯৫ হাজার ৭৬১ জন; অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে ২২ জনের মৃত্যু হচ্ছে। বেপরোয়া গতি, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, চালকের অতিরিক্ত শ্রম এবং তদারকির অভাবে পরিবহণ খাতে বিশৃঙ্খলা চরম আকার ধারণ করেছে। এমন উদ্বেগজনক পরিস্থিতির মধ্যেই ‘নিরাপদ সড়কসমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্য নিয়ে আজ পালিত হচ্ছে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সড়ক নিরাপদ করতে হলে আইনের কঠোর বাস্তবায়ন এবং বাস রুট রেশনালাইজেশনের বিকল্প নেই। সরকারও আগামী ৬ মাসের মধ্যে পরিবহণ খাতে শৃঙ্খলা ফেরানো এবং সমন্বিত সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের আশ্বাস দিয়েছে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ও গণপরিবহণ বিশেষজ্ঞ ড. মো. শামসুল হক যুগান্তরকে বলেন, সড়ক নিরাপদ করতে হলে সড়কের পরিবহণগুলো নিরাপদ করতে হবে। এজন্য অনেক ধরনের কাজ করতে হবে। যেটা সরকার জানে; শুধু দরকার তার বাস্তবায়ন করা। তিনি বলেন, ঢাকায় বাস রুট রেশনালাইজেশনের বিষয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তাতে সফলতা মেলেনি। কিন্তু ঢাকার ক্ষেত্রে এর কোনো বিকল্প নেই। এর কারিগরি সমাধান ২০০৫ সালে করা হয়েছে, বিস্তারিত করা হয়েছে ২০১৩ সালে। রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবে বাস্তবায়ন হয়নি। প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে দৃষ্টিপাত করায় আশা করা যায়, এবার বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।

যাত্রীকল্যাণ সমিতির হিসাব অনুযায়ী, গত ১২ বছরে দেশে ৬৯ হাজার ৪৪৮টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। প্রতিদিন ঘটেছে প্রায় ১৬টি দুর্ঘটনা। এতে আহত হয়েছেন ১ লাখ ৬৮ হাজার ৬৯ জন। সবশেষ পাঁচ বছরেই মারা গেছেন ৪৩ হাজার ৩১৬ জন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ২০২২ সালে-৯ হাজার ৯৫১ জন। পরের বছর তা কমে হয় ৭ হাজার ৯০২ জন। কিন্তু এরপর আবার বেড়েছে। ২০২৪ সালে নিহত হন ৮ হাজার ৫৪৩ জন। ২০২৫ সালে এই সংখ্যা দাঁড়ায় ৯ হাজার ১১১ জনে। এরপর ২০২৪ সালে ৮ হাজার ৫৪৩ জন এবং ২০২৫ সালে ৯ হাজার ১১১ জনের মৃত্যু হয়। একইভাবে দুর্ঘটনাও বেড়েছে।

২০২৪ সালে দুর্ঘটনা ঘটেছিল ৬ হাজার ৩৫৯টি। পরের বছর তা বেড়ে হয় ৬ হাজার ৭২৯টি। এই দুই বছরের হিসাবে দুর্ঘটনা বেড়েছে প্রায় ৫ দশমিক ৮২ শতাংশ। মৃত্যু বেড়েছে ৬ দশমিক ৬৫ শতাংশ।

এদিকে রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের মাসিক প্রতিবেদন বলছে, চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে ৪৪২টি দুর্ঘটনায় ৪২৩ জন নিহত হয়েছেন; যার মধ্যে ১৩৯ জনই মোটরসাইকেল আরোহী এবং ১০৬ জন পথচারী। জাতীয় মহাসড়কের পাশাপাশি আঞ্চলিক সড়কেও দুর্ঘটনা বাড়ছে আশঙ্কাজনক হারে।

সড়ক মৃত্যুফাঁদ হওয়ার নেপথ্যে : সড়কে প্রাণহানির পেছনে বারবার একই কারণ উঠে আসছে। বেপরোয়া গতি, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, চালকের বিশ্রামহীন অতিরিক্ত শ্রম, সড়কের নকশায় ত্রুটি এবং দুর্বল তদারকিই প্রধান কারণ। দীর্ঘ সময় গাড়ি চালানো ও অতিরিক্ত ট্রিপের কারণে চালকদের শারীরিক ও মানসিক অবসাদ দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। এছাড়া চালকের দক্ষতার পাশাপাশি নিয়োগ, বেতন ও কর্মঘণ্টার বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ।

ঢাকার বাসে যাত্রী তোলার প্রতিযোগিতা বন্ধ হয়নি। যেখানে-সেখানে বাস থামানো হয়। এক বাস আরেক বাসকে পেছনে ফেলতে চায়। এই অবস্থার পরিবর্তনে বাস রুট সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। বাস্তবে কাজের কাজ কিছুই হয়নি। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ মালিক সমিতির মহাসচিব সাইফুল আলম যুগান্তরকে বলেন, সড়কে শৃঙ্খলা, যানজট নিয়ন্ত্রণ ও বাসের চাঁদাবাজি বন্ধে বাস রুট রেশনালাইজেশনের বিকল্প নেই। বিষয়টি নিয়ে সরকারের সঙ্গে বাস্তবায়নের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন তারা।

সরাতে হবে মেয়াদোত্তীর্ণ বাস : অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বাস-মিনিবাসের আয়ুষ্কাল ২০ বছর এবং ট্রাক-কাভার্ডভ্যানের ২৫ বছর নির্ধারণ করে অভিযান শুরু হয়। ২০২৫ সালের ২০ থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত ৫১টি পুরোনো বাস-ট্রাক জব্দ করা হয়েছিল। পরে পরিবহণ মালিক-শ্রমিকদের চাপে তা থমকে যায়। এদিকে নতুন বাস কেনায় সহজ শর্তে ঋণের বিষয়েও আলোচনা হয়। চালকের দক্ষতা বাড়াতেও উদ্যোগ নেওয়া হয়। গত বছরের নিরাপদ সড়ক দিবসে লাইসেন্সের আগে ৬০ ঘণ্টা প্রশিক্ষণের ঘোষণা দেওয়া হয়। এরপর চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি ৬০ হাজার চালককে প্রশিক্ষণের জন্য চুক্তি হয়। বাংলাদেশ সড়ক নিরাপত্তা প্রকল্প ও বিআরটিসি এই চুক্তি করে।

জরুরি চিকিৎসা ও প্রশিক্ষণে উদ্যোগ : বর্তমান সরকারের মেয়াদে দুর্ঘটনার পর চিকিৎসা ও মহাসড়কে টহলের জন্য নতুন যান উদ্বোধন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৬০টি বেসিক লাইফ সাপোর্ট অ্যাম্বুলেন্স, ৪০টি মোটরসাইকেল অ্যাম্বুলেন্স এবং ৮০টি হাইওয়ে প্যাট্রোল মোটরসাইকেল। গত ১৮ অক্টোবর চালকদের চোখ পরীক্ষা ও বিনামূল্যে চশমা দেওয়ার কর্মসূচিও উদ্বোধন করা হয়। ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তব্যে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ পেশাজীবী চালকের প্রশিক্ষণের উদ্যোগের কথা এসেছে। স্বয়ংক্রিয় ফিটনেস সনদব্যবস্থা ও বাস রুট যৌক্তিকীকরণের কথাও বলা হয়েছে।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য : সড়ক নিরাপত্তায় সরকারের নানা উদ্যোগের কথা তুলে ধরে সড়ক পরিবহণ, রেলপথ ও নৌপরিবহণমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, সড়কের শৃঙ্খলা ফেরাতে সরকার বদ্ধপরিকর। কাজ শুরু হয়েছে। ২০২৭ সালের মধ্যে সমন্বিত সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। হেলমেটের মান হালনাগাদ, গতিসীমা কার্যকর, নিরাপদ অবকাঠামো ও জরুরি চিকিৎসা জোরদারে কাজ চলছে। ২০৩০ সালের মধ্যে সড়কে মৃত্যু অর্ধেকে নামিয়ে আনতে সব পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, আগামী ৬ মাসের মধ্যে বাস রুট রেশনালাইজেশন বাস্তবায়ন করা হবে। আর সড়ক-মহাসড়কের যানবাহনের সমস্যাগুলোও সমাধান করা হবে।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস আজ প্রতিদিন ঝরছে ২২ প্রাণ

প্রতিদিন ঝরছে ২২ প্রাণ

ঢামেক হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট রোগী ঢুকতে পারলেও বেরোনো কঠিন

রোগী ঢুকতে পারলেও বেরোনো কঠিন

সড়কের সঙ্গে রেলপথের নিরাপত্তাও জরুরি লেভেল ক্রসিংয়ে উঠে পড়ছে যানবাহন

লেভেল ক্রসিংয়ে উঠে পড়ছে যানবাহন

যুগান্তরকে ইলিয়াস কাঞ্চন শুধু আইনে সড়ক নিরাপদ হবে না

শুধু আইনে সড়ক নিরাপদ হবে না

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম