প্রাইভেট কারের ওপর ৪০ টনের লরি
‘রাখে আল্লাহ মারে কে’
Advertisement
চট্টগ্রাম ব্যুরো ও সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৬ আগস্ট ২০২৩, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সীতাকুণ্ডে প্রাইভেটকারের ওপর ৪০ টনের ওজনের একটি কনটেইনার উলটে পড়লে প্রাইভেটকারের দুটি চাকা ছাড়া আর কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। এতে ধারণা করা হয়-প্রাইভেটকারের আরোহীরা কেউ বেঁচে নেই।
কিন্তু দুই শিশুসহ প্রাইভেটকারের পাঁচ আরোহী সবাইকে অলৌকিকভাবে জীবিত উদ্ধার করা হয়। একেই বলে ‘রাখে আল্লাহ মারে কে!’ শনিবার সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ওই মহাসড়কে যানবাহন চলাচল কয়েক ঘণ্টা ব্যাহত হয়।
অলৌকিকভাবে বেঁচে যাওয়া যাত্রীরা হলো-মুসা আহম্মেদ (৬৫), আবু বক্কর (৪৫) এবং বক্করের মেয়ে আদিবা আক্তার (৬) ও আদিলা আক্তার (৩)। এতে প্রাইভেটকারের চালক বেলাল (৩২) সামান্য আহত হন। যাত্রীদের সবার বাড়ি ফটিকছড়ি উপজেলার শাহনগর এলাকায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সীতাকুণ্ড উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ অতিক্রমকালে প্রাইভেটকারটির পাশ দিয়ে একটি কনটেইনারবাহী লরি যাচ্ছিল।
হঠাৎ লরিটি সড়ক বিভাজকে ধাক্কা খায় এবং লরিতে থাকা একটি মালবাহী কনটেইনার ছিটকে পাশের প্রাইভেটকারের ওপর গিয়ে পড়ে। এতে চাপাপড়া প্রাইভেটকারের যাত্রীরা আর্তনাদ করতে থাকেন।
প্রায় ৪০ মিনিট পর ফৌজদারহাট পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ আসে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল ক্রেন দিয়ে কনটেইনারটি সরিয়ে প্রাইভেটকারের যাত্রীদের জীবিত উদ্ধার করে।
তাদের দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কুমিরা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সিনিয়র স্টেশন অফিসার সুলতান মাহমুদ বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে রেকার এবং ক্রেনের সহায়তায় ৪০ টন ওজনের কনটেইনারটিকে সরাতে সক্ষম হই। প্রায় ৪৫ মিনিটের চেষ্টায় চাপাপড়া প্রাইভেটকারের পাঁচ যাত্রীকে উদ্ধার করি। এ দুর্ঘটনায় প্রাইভেটকারের চালক সামান্য আহত হয়েছেন।
বারআউলিয়া হাইওয়ে পুলিশের এসআই আমির হোসেন যুগান্তরকে জানান, যাত্রীরা অত্যন্ত সৌভাগ্যবান। ঘটনাস্থলের পাশেই ছিলাম। দ্রুত ফৌজদারহাট ফাঁড়ি থেকে আনা দুটি ক্রেনের সাহায্যে কনটেইনার সরিয়ে প্রাইভেটকারটি বের করা হয়।
আরোহীদের জীবিত উদ্ধার করে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দায়িত্বরত জেলা পুলিশের নায়েক নূরে আলম জানান, দুর্ঘটনাকবলিত প্রাইভেটকারের দুই আরোহীকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তবে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরে নেমে প্রবাসী আবু বক্কর ভাড়া করা প্রাইভেটকারে ফটিকছড়ি উপজেলার মাইজভান্ডারে ফিরছিলেন। তাকে আনতে গিয়েছিলেন বাবা মুসা আহম্মেদ।
আবু বক্করের দুই শিশুকন্যাকেও তিনি সঙ্গে নেন। ইউটার্ন নেওয়ার সময় ঢাকামুখী একটি লরির কনটেইনার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রাইভেটকারের ওপর পড়ে যায়। এতে সাদা রঙের প্রাইভেটকারটি পুরোটাই কনটেইনারের নিচে চাপা পড়ে। তবে আল্লাহর অশেষ রহমতে তারা বেঁচে যান।
