Logo
Logo
×

Advertisement

শেষ পাতা

চির অম্লান বাতিঘর

আযম খান কমার্স কলেজ ব্যবসায় শিক্ষায় অনন্য

ছাত্রীনিবাস, পর্যাপ্ত শিক্ষক ও ভবন নেই

Advertisement

Icon

নূর ইসলাম রকি, খুলনা ব্যুরো

প্রকাশ: ০৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

আযম খান কমার্স কলেজ ব্যবসায় শিক্ষায় অনন্য

আযম খান সরকারি কলেজ ক্যাম্পাস

Advertisement

আযম খান সরকারি কলেজ ৬৬ বছর ধরে ব্যবসায় শিক্ষা বিস্তারে অসামান্য অবদান রেখে চলেছে। শিক্ষার্থীরা এ কলেজে শুধু ব্যবসায় শিক্ষায় অধ্যয়ন করে থাকে।

কলেজটিতে উচ্চ মাধ্যমিক ব্যবসায় শিক্ষা, বিবিএ (পাস), বিবিএ (অনার্স) যথাক্রমে হিসাববিজ্ঞান, ব্যবস্থাপনা, ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং ও মার্কেটিং, এমবিএ ১ম পর্ব ও শেষ পর্ব এবং উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বিবিএ ও এমবিএস কোর্সে প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত।

খুলনা সদরের বাবু খান রোডের পাশে ৩.৮৭ একর জমির ওপর কলেজটির শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। কলেজটির উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বাড়ানোর জন্য রয়েছে বায়োমেট্রিক অ্যাটেনডেন্স সিস্টেম। পাশাপাশি স্নাতক ও স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিদিন সকালে অনুষ্ঠিত হয় অ্যাসেম্বলি।

তবে কলেজে পর্যাপ্ত ভবন না থাকা ও ছাত্রীনিবাস না থাকায় ক্ষোভ রয়েছে শিক্ষার্থীদের। খুলনা শহরের কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা ও সমাজসেবীর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় কর্মজীবীদের উচ্চশিক্ষা লাভের সুযোগদানের উদ্দেশ্যে নৈশ কমার্স কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়া হয়।

১৯৫৩ সালের ১৪ আগস্ট খুলনা কমার্স কলেজ নামে এ কলেজটির যাত্রা শুরু হয় খুলনা মডেল হাইস্কুল ভবনে। তৎকালীন কলেজটিতে নৈশকালীন ১৯৫৩-৫৪ শিক্ষাবর্ষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণির প্রথম বর্ষে বাণিজ্য শাখায় ছাত্র ভর্তি হয়। ১৯৬০ সালে মডেল স্কুলের দক্ষিণ দিকে পুরনো বাড়িসহ ফাঁকা জায়গা গ্রহণ করা হয়।

সেই বছরই কলেজটি বর্তমান জায়গায় স্থানান্তরিত হয়। ১৯৬০-৬১ সেশনে কলেজে বিকম কোর্স খোলা হয়। ১৯৬১ সালে একাদশ শ্রেণিতে দিবা বিভাগ খোলা হয়।

একই বছর তদানীন্তন গভর্নর লে. জে. আযম খান তৎকালীন খুলনা কমার্স কলেজে এসে কলেজের উত্তর-পূর্ব কোণের বর্তমান ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে ১ লাখ টাকা অনুদান ঘোষণা করেন। ওই সময়ই কলেজটির নাম আযম খান কমার্স কলেজ করা হয়।

১৯৬৩ সালে প্রথম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে কমার্সে অনার্স কোর্স চালু হয়। ১৯৭২ সালে এ অঞ্চলের প্রথম হিসাববিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে মাস্টার্স কোর্স চালু হয়।

১৯৭৯ সালের ৭ মে কলেজটি জাতীয়করণ হয়। ২০০৪ সালে মার্কেটিং ও ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিষয়ে অনার্স কোর্স চালু হয়। সর্বশেষ ২০১৩ সালে এই দুটি বিষয়ে মাস্টার্স কোর্সও চালু করা হয়।

কলেজটির প্রথম অধ্যক্ষ হিসেবে ১৯৫৩ সালের ১৪ আগস্ট দায়িত্ব নেন এমএ হান্নান। প্রথম উপাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন যামিনী কান্ত দাস ১৯৫৬ সালের ১৫ আগস্ট। প্রতিষ্ঠার শুরু থেকে এ পর্যন্ত ৩৫ জন অধ্যক্ষ ও ১৮ জন উপাধ্যক্ষ কলেজটির কাণ্ডারি হিসেবে ভূমিকা রেখেছেন। বর্তমানে কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন অধ্যাপক কালিপদ মজুমদার ও উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক সেলিনা বুলবুল।

কলেজে প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করলেও সেই তুলনায় ভবন, শিক্ষক, ছাত্রাবাসসহ রয়েছে নানা সমস্যা। বর্তমানে ৪৩ জন শিক্ষক কর্মরত আছেন। নিয়মিত কর্মচারী ১০ ও অনিয়মিত আছে ২৭ জন।

একটি প্রশাসনিক ভবন, চারটি একাডেমিক ভবন, একটি কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার, চারটি বিভাগীয় গ্রন্থাগার, একটি কম্পিউটার ল্যাব, একটি বাস, একটি মাইক্রোবাস, দুটি মসজিদ, একটি শহীদ মিনার ও একটি ছাত্র হোস্টেল (৯৬ আসন) রয়েছে। সহশিক্ষামূলক কার্যক্রম রয়েছে বিএনসিসি, রেড ক্রিসেন্ট, রোভার স্কাউট, রেঞ্জার ইউনিট, ডিবেটিং ক্লাব এবং সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিষদ।

কলেজটিতে ১৯৬৪-৬৫ সালে ছাত্র সংসদের কার্যক্রম শুরু হলেও ২০০৩-০৪ সালের পর কলেজটিতে ছাত্র সংসদের আর কোনো কার্যক্রম দেখা যায়নি। দেশের বিভিন্ন পর্যায়ে সুনামের সঙ্গে কাজ করছেন কলেজের সাবেক শিক্ষার্থীরা। জায়গা করে নিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ, সচিবালয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পুলিশ বিভাগসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে।

কলেজের এমবিএ’র শিক্ষার্থী মানজারুল ইসলাম বলেন, কলেজটিতে শিক্ষক ও ভবন সংকট রয়েছে। ছাত্রী নুসরাত জাহান বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কলেজটিতে শুধু ব্যবসায় শিক্ষার ওপর উচ্চতর ডিগ্রি নিতে আসে। কারণ কলেজটি শুধু ব্যবসায় শিক্ষার ফলাফলের জন্য সারা দেশেই পরিচিত।

তবে কলেজটিতে কোনো ছাত্রী হোস্টেল নেই। যা খুবই কষ্টের। কারণ খুলনা শহরের মেসে খুবই বেশি ভাড়া। তাই ছাত্রীদের জন্য হোস্টেল খুবই দরকার।

কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক কালিপদ মজুমদার যুগন্তরকে বলেন, কলেজটি ব্যবসায় শিক্ষায় উচ্চতর ডিগ্রি লাভের জন্য সারা দেশের মধ্যে স্বনামধন্য। কলেজের ভবন ও শিক্ষক সংকট সম্পর্কে কর্তৃপক্ষ অবগত আছে। খুব দ্রুত সমাধান হবে। কলেজে সব থেকে বেশি প্রয়োজন একটি ছাত্রী হোস্টেল।

কারণ মেয়েদের জন্য আবাসন ব্যবস্থা না থাকায় তারা খুবই সমস্যায় পড়ে। পাশাপাশি কয়েকটি বাসও দরকার। তিনি বলেন, কলেজে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিয়মিত করতে প্রতিদিন ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলী ও ক্লাসরুমে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। যা সচরাচর অন্য কলেজগুলোতে থাকে না।

ছাত্র রাজনীতির বিষয়ে তিনি বলেন, বর্তমান রাজনীতির প্রেক্ষাপটে কলেজে ছাত্র সংসদ নির্বাচন দীর্ঘদিন বন্ধ রয়েছে। তবে পরিস্থিতি ভালো হলে এটা পুনরায় ভেবে দেখা হবে।

Advertisement

আযম খান সরকারি কলেজ

Advertisement

আরও পড়ুন

ব্যাংকে গ্রাহকের সঞ্চয় মূল্যস্ফীতির পেটে মুনাফা

মূল্যস্ফীতির পেটে মুনাফা

ইলিশের নামে ‘রুপালি ধোঁকা’

ইলিশের নামে ‘রুপালি ধোঁকা’

সবজির দামে আগুন শিম ২০০ টাকা

সবজির দামে আগুন শিম ২০০ টাকা

রাজশাহীতে বাদীর বাড়িতে ওসিসহ দণ্ডপ্রাপ্ত আ.লীগ নেতা মামলা না তুললে মেরে গুম করে ফেলব

মামলা না তুললে মেরে গুম করে ফেলব

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম