সিপিডির বাজেট প্রতিক্রিয়া
প্রবৃদ্ধির জন্য বিনিয়োগের বিষয়টি স্পষ্ট নয়
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২১, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেছেন, করোনা মহামারির মধ্যে এটি দ্বিতীয় বাজেট। করোনার অভিঘাতে আমাদের অর্থনীতি পর্যুদস্ত।
সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে বলতে হয়, খাতওয়ারি যেসব লক্ষ্যমাত্রা আমাদের ছিল, সেগুলোর অনেকগুলোই পূরণ হয়নি। যেসব খাতে সমস্যা বা ঝুঁকি রয়ে গেছে, স্বাস্থ্য খাত তার অন্যতম।
এ স্বাস্থ্য খাত নিয়ে এত কথা বলা হচ্ছে, অথচ তার বরাদ্দ জিডিপির সেই ১ শতাংশের মধ্যেই আছে। এ বরাদ্দ দিয়ে স্বাস্থ্য খাতের চাহিদা মিটবে না। অন্যদিকে বরাদ্দ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও স্বাস্থ্য খাত পিছিয়ে আছে। এ বাস্তবতায় স্বাস্থ্য খাত বড় ধাক্কা সামলাতে পারবে না। বাজেট প্রস্তাবের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বৃহস্পতিবার তিনি এসব কথা বলেন।
ফাহমিদা খাতুন বলেন, স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে অনেক মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যের কাতারে নেমে এসেছেন। অনেক মানুষের আয় কমেছে। অন্যদিকে আমরা দেখছি, সরকারি বিনিয়োগ বাড়ছে না। অথচ বিনিয়োগ না বাড়লে কর্মসংস্থান বাড়বে না। সবচেয়ে বেশি কর্মসংস্থান হয় এসএমই খাতে। কিন্তু সরকারের প্রণোদনা পেলেন মূলত বড় শিল্পমালিকেরা। এসএমই খাতের জন্য বরাদ্দ বাড়াতে হবে।
এ ছাড়া প্রণোদনা দেয়া হয়েছে মূলত ব্যাংকের মাধ্যমে। কিন্তু ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের অনেকেরই ব্যাংক হিসাব নেই। তাই এনজিওগুলোর মাধ্যমে তাদের ঋণ দেওয়া উচিত। এনজিওগুলোর নেটওয়ার্ক দেশব্যাপী। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সঙ্গে তাদের যোগাযোগও ভালো। কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে এটা অত্যন্ত কার্যকর হতে পারে। অথচ এ সিদ্ধান্ত প্রায় এক বছর ধরে আটকে আছে।
ফাহমিদা আরও বলেন, জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৭ শতাংশের উপরে ধরা হয়েছে, কিন্তু সেই প্রবৃদ্ধির জন্য যে পরিমাণ বিনিয়োগ দরকার, তা কীভাবে হবে বলা হয়নি। বিশেষ করে ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগ কয়েক বছর ধরে এক জায়গায় আটকে আছে।
করোনার কারণে তা আরও কমে গেছে। ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগ না হলে প্রবৃদ্ধি বাড়বে কীভাবে? শুধু সরকারি বিনিয়োগ দিয়ে হবে না। আবার গত এক বছরে অনেক সরকারি প্রকল্পে ধীরগতি দেখা গেছে। এ বাস্তবতার সঙ্গে প্রবৃদ্ধির প্রক্ষেপণ মেলে না। ২০২০-২১ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি থেকে গেছে।
কর-জিডিপির অনুপাতও বাড়েনি। সরকারি ব্যয় আশানুরূপ হয়নি। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির বাস্তবায়ন প্রতি বছরই লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম হয়। এবার তা আরও কম হয়েছে। শিল্পোৎপাদনও কম। ছোট ছোট শিল্পের উৎপাদন কমেছে। অন্যদিকে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কিছুটা বেড়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে বাজেটের লক্ষ্যমাত্রা অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য খুব একটা সহায়ক হবে না।
ফাহমিদা খাতুন বলেন, রাজস্ব বাড়ানো না গেলে সরকারের পক্ষে বড় ধরনের প্রণোদনা দেওয়া সম্ভব নয়। আর সামগ্রিক কর ব্যবস্থার সক্ষমতা ও দক্ষতা বাড়ানো না গেলে কর আহরণ বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে না। এখন যে হারে কর সংগৃহীত হচ্ছে, তা দিয়ে চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে না।
বিশেষ করে সামাজিক নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় বৃদ্ধির যে বাস্তবতা তৈরি হয়েছে, সেই চাহিদা পূরণ করা কোনোভাবেই সম্ভব হবে না। ফলে সামষ্টিক অর্থনীতির যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, তা কিসের ভিত্তিতে করা হয়েছে, স্পষ্ট নয়। করোনার অভিঘাত এখনো অনুভূত হচ্ছে।
কত দিন তা থাকবে, নতুন নতুন ভ্যারিয়েন্ট আসবে, আমরা তা জানি না। তাই পরিকল্পনা শুধু এক বছরের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না, যদিও বাজেট এক বছরের জন্য প্রণীত হয়। ফলে এক ধরনের মধ্যমেয়াদি প্রক্ষেপণ থাকা উচিত।
