Logo
Logo
×

Advertisement

শেষ পাতা

এলো ইউরেনিয়ামের আরেকটি চালান

রূপপুরের বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে ২০ নভেম্বর

Advertisement

Icon

শাহেদ সিদ্দিকী

প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

রূপপুরের বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে ২০ নভেম্বর

Advertisement

রূপপুর পারমাণবিককেন্দ্র থেকে ২০ নভেম্বর পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে। ওই দিন থেকেই ১২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে। ওই হারে বিদ্যুৎ উৎপাদন পরীক্ষামূলকভাবে টানা ৪ দিন চলবে। স্থিতিশীল অবস্থা বিরাজ করলে আলোচিত এই কেন্দ্র বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাবে। কেন্দ্রটি চালু করার এমন একটি সূচি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিয়েছে রাশিয়ান কোম্পানি রোসাটম। তবে পারমাণবিককেন্দ্রটি চালু হয়ে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ না করা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বললেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব মো. আনোয়ার হোসেন। রোববার যুগান্তরকে বলেছেন, নভেম্বরে চালুর আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এর আগে আরও বেশকিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা আছে। দেখা যাক কি হয়। তিনি বলেন, আগেও অনেকবার বিদ্যুৎ উৎপাদনের তারিখ দেওয়া হয়েছিল। এবার মনে হচ্ছে ঠিক পথে এগোচ্ছে।

রূপপুরের বিদ্যুৎ কিনবে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। সংস্থাটির চেয়ারম্যান রেজাউল করিম শনিবার যুগান্তরকে বলেছেন, কবে নাগাদ রূপপুর চালু হবে তা এখনো সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ কেউ তাকে জানায়নি।

একাধিক সূত্র জানায়, রূপপুরের সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা চূড়ান্ত হলে পিডিবির সঙ্গে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের বিদ্যুৎ ক্রয়-বিক্রয় চুক্তি হতে পারে। রূপপুরের প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম প্রায় ১০ টাকা হতে পারে বলে কয়েকজন নীতিনির্ধারক যুগান্তরকে বলেছেন।

রোসাটমের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী রূপপুরের প্রথম ইউনিট ২০২২ সালে উৎপাদনে আসার কথা ছিল। কিন্তু করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে এটি পিছিয়ে নেওয়া হয় ২০২৫ সালের জুনে। বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে রাশিয়ার টানাপোড়েনের সম্পর্কসহ বিভিন্ন কারণে এই কেন্দ্র তখন চালু হয়নি। এখন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের বি-২ ধাপের ফিজিক্স টেস্টসহ প্রয়োজনীয় সব পরীক্ষা ও কার্যক্রম শেষ হয়েছে। পরীক্ষার প্রতিবেদন ইতোমধ্যে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। নিয়ন্ত্রণ সংস্থার চূড়ান্ত অনুমোদন পেলেই বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতিমূলক ধাপ ‘সি স্টেজ’ বা পাওয়ার স্টার্টআপে প্রবেশ করবে ইউনিটটি। জানা গেছে, রোসাটমের প্রথম উপমহাপরিচালক প্রেসিডেন্ট পেত্রোভ আন্দ্রেইয়ের নেতৃত্বে ২২ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল গত সপ্তাহে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন করে। ২২ অক্টোবর তারা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ সময় প্রতিনিধিদল মন্ত্রীকে প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের ক্রিটিক্যাল পর্যায়সহ সার্বিক অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত করে। রোসাটমের প্রতিনিধিদল আগামী এক মাসের মধ্যে রূপপুর চালুর আশ্বাস দেয় এবং এ ব্যাপারে একটি টাইমলাইন সরকারের কাছে হস্তান্তর করে। একাধিক সূত্র জানায়, সবকিছু ঠিক থাকলে ২০ নভেম্বর রূপপুর বিদ্যুৎ উৎপাদনে যেতে পারে। প্রথম ইউনিটের ক্ষমতা হচ্ছে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। তবে প্রথমে ১২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে দেওয়া হবে। পরবর্তী ধাপে টানা ৪০ দিন ১২০ মেগাওয়াট করেই বিদ্যুৎ উৎপাদন করে সবকিছু ঠিক আছে কিনা তা পরীক্ষা করা হবে। পরবর্তী ধাপে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়বে।

বিদ্যুতের দাম কত হবে : পিডিবির বিশেষজ্ঞ কমিটি রূপপুরের বিদ্যুতের মূল্য প্রতি ইউনিট ৭ মার্কিন সেন্ট বা ৮ দশমিক ৭৫ টাকায় পাওয়া যাবে বলে মনে করছে। ওই কমিটি এই মেগা প্রকল্পের কোনো রকম ক্যাপাসিটি চার্জ (প্রতি মাসে বিনিয়োগের অংশ পরিশোধ) দেওয়ার পক্ষে নয়। তবে রূপপুর প্রকল্পে কি পরিমাণ অর্থ কোন খাতে ব্যয় হয়েছে তা গত ৯ মাসে সংশ্লিষ্ট কোম্পানি দিতে পারেনি। একাধিক সূত্র জানিয়েছে, রূপপুর কেন্দ্রের আয়ু ৮০ বছর ধরতে সুপারিশ করেছে রোসাটম। কিন্তু পিডিবি ৬০ বছর আয়ু বা উৎপাদনের মেয়াদকাল ধরে হিসাব করে একটি প্রতিবেদন বিদ্যুৎ বিভাগে জমা দিয়েছে। সেই হিসাব অনুযায়ী এই কেন্দ্র থেকে ৭ সেন্ট বা ৮ টাকা ৭৫ পয়সায় প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ পাওয়া যেতে পারে। কিন্তু বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই হিসাবে বেশকিছু খরচ বাদ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ইন্স্যুরেন্সসহ আরও কিছু খাত যোগ হবে। এতে করে প্রতি ইউনিটের দাম ১০ টাকার কম হবে না। এ নিয়ে আলাপ-আলোচনা চলছে। পিডিবির সঙ্গে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের আলোচনা চূড়ান্ত হলে বিদ্যুৎ ক্রয়-বিক্রয় চুক্তি পিপিএ সই হবে।

সরকারি কর্মকর্তারা জানান, পিডিবি প্রতি ইউনিটের ক্রয়মূল্য ৭ সেন্ট ধরেছে। এর মধ্যে ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ ধরা হয়েছে। যদিও বা এই অর্থ ঋণের ৪ শতাংশ সুদসহ পরিশোধ করতে সরকারকে ২০ বছরে দিতে হবে ২০ বিলিয়ন ডলার। রূপপুরকেন্দ্রের প্রতি ইউনিট থেকে পাওয়া যাবে ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। এই ইউনিটের উৎপাদন দক্ষতা ধরা হয়েছে ৯০ শতাংশ। প্রতিবছর এই কেন্দ্রের পরিচালন ব্যয় হিসাবে ধরা হয়েছে ২০ কোটি ডলার। সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, রূপপুর থেকে আসল লাভ পাওয়া যাবে ২০ বছর পর। তখন ঋণ শোধের পর প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের মূল্য ৩ সেন্ট হতে পারে। তবে সবকিছু নির্ভর করছে সরকারের দক্ষতার ওপর।

ভারতের নিউক্লিয়ার পাওয়ার করপোরেশনের তথ্যমতে-সেখানে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের মূল্য পড়ছে ২ দশমিক ৫০ থেকে ৪ দশমিক ৫০ রুপি। সেখানে বাংলাদেশের কেন্দ্রে খরচ পড়ছে ৮ থেকে ১০ টাকা। তবে ডলারের দাম বাড়লে এই খরচ আরও বাড়বে।

রূপপুর পৌঁছেছে আরেকটি চালান : ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি জানান, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের পারমাণবিক জ্বালানির (ইউরেনিয়াম) আরেকটি চালান এসেছে। মঙ্গলবার সকাল পৌনে ৮টার দিকে সেনাবাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তায় জ্বালানি বহনকারী গাড়িগুলো প্রকল্প এলাকায় প্রবেশ করে। এর আগে সোমবার সকালে রাশিয়া থেকে একটি ফ্লাইটে সেগুলো ভারতের দিল্লি হয়ে ঢাকার হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। বিমানটিতে ১২টি টিপিএসে ৪১ টন পারমাণবিক জ্বালানি আনা হয়েছে। বিমানবন্দরে জ্বালানি বুঝে নেন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের কর্মকর্তারা।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

এলো ইউরেনিয়ামের আরেকটি চালান রূপপুরের বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে ২০ নভেম্বর

রূপপুরের বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে ২০ নভেম্বর

পর্যটক বরণে প্রস্তুত সেন্টমার্টিন

পর্যটক বরণে প্রস্তুত সেন্টমার্টিন

গুরুদাসপুরে হামলায় ছাত্রদল নেতার মৃত্যু এমপি আজিজের ছেলে মিন্টু তিন দিনের রিমান্ডে

এমপি আজিজের ছেলে মিন্টু তিন দিনের রিমান্ডে

একজন নুরুল আমিন সাবরেজিস্ট্রারের চাকরি করে এত সম্পদ!

সাবরেজিস্ট্রারের চাকরি করে এত সম্পদ!

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম