Logo
Logo
×

Advertisement

দ্বিতীয় সংস্করণ

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে ওয়েবিনার

মতপ্রকাশের মৌলিক অধিকার হরণ করতে এ আইন

‘নিয়ন্ত্রণহীন ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে পুলিশকে’

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ০৬ মার্চ ২০২২, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নাগরিকের নিরাপত্তা বিধানের জন্য নয়, বরং মতপ্রকাশের মৌলিক অধিকার হরণ করতে প্রণয়ন করা হয়েছে। এ আইনে পুলিশকে নিয়ন্ত্রণহীন ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে এ আইনের আরও অপপ্রয়োগ ঘটতে পারে। সরকার এ আইনের ত্রুটি-বিচ্যুতি সংশোধন না করে নাগরিকদের হাত-পা আরও বেঁধে দিতে নতুন নতুন কালাকানুন প্রণয়নের চিন্তা করছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর গভর্র্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ : নাগরিক সমাজের চোখে’ শীর্ষক ওয়েবিনারে বক্তারা শনিবার এমন মন্তব্য করেন। অবিলম্বে এ আইন বাতিলের দাবি জানান তারা।

আলোচনায় অংশ নেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর সাবেক চেয়ারম্যান এবং সিজিএস বোর্ড মেম্বার ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান, সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার তানিয়া আমীর এবং আর্টিকেল নাইনটিনের বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক ফারুখ ফয়সল। সভাপতিত্ব করেন সিজিএস-এর চেয়ারম্যান ড. মনজুর আহমেদ চৌধুরী এবং সঞ্চালনা করেন সিজিএস-এর নির্বাহী পরিচালক জিল্লুর রহমান।

অনুষ্ঠানে জিল্লুর রহমান বলেন, আইনটি আমাদের সমাজে একটি ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি করেছে। এ আইনের ব্যবহার বাংলাদেশে একই সঙ্গে গণতন্ত্র এবং মানবাধিকারের সংকটপূর্ণ চিত্র তুলে ধরছে। সিজিএসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২২ সালের ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত এ আইনের আওতায় দুই হাজার ২২ অভিযুক্তের মধ্যে শীর্ষে আছেন রাজনীতিবিদ এবং পরবর্তী পর্যায়ে রয়েছেন সাংবাদিকরা। এসব মামলার অধিকাংশ মানহানির। তবে যার মানহানি হয়েছে তিনি মামলা না করে, মামলা করছেন অন্যজন।

বদিউল আলম মজুমদার বলেন, এ আইন প্রণয়ন করার সঙ্গে সঙ্গে আইনের ফাঁকফোকরও রেখে দেওয়া হয়েছে, যাতে আইনের অপপ্রয়োগ চলতে পারে। নিয়ন্ত্রণহীন ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে পুলিশকে। এ আইনের বিরুদ্ধে সবাইকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপপ্রয়োগের জায়গাগুলো চিহ্নিত করে সরকারকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ। ড. মীজানুর রহমান বলেন, সরকারকে এ আইনে সংশোধন আনতে হবে। আইনটিতে রাষ্ট্রদ্রোহিতা, মানহানি এবং ধর্মীয় অনুভূতির মতো বিষয়গুলোকে পরিষ্কারভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়নি।

এ আইনে করা মামলাগুলো সহজে নিষ্পত্তি হয় না। ব্যারিস্টার তানিয়া আমীর বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে নিরাপত্তা আসলে কার? জনগণের নাকি রাষ্ট্রের? বিশেষ ক্ষমতা আইন আমরা যেভাবে রোধ করেছি, এ আইনের বিপক্ষেও আমাদের সেভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। ফারুখ ফয়সল বলেন, নাগরিক অধিকার বলতে আমরা বুঝি-কারও ক্ষতি না করে নিজের মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মাধ্যমে এ অধিকার ক্ষুণ্ন করা হয়েছে। ড. মনজুর আহমেদ চৌধুরী বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ একটি নিবর্তনমূলক আইন। সংবিধানে যে বাক-স্বাধীনতা, চিন্তার স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে, এ আইনের মাধ্যমে তা নস্যাৎ করা হয়েছে। আইনটি সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এ আইন দ্রুত বাতিল করা উচিত।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

রেমিট্যান্স শাটডাউনের হুমকি দেশবিরোধী: রিজভী

রেমিট্যান্স শাটডাউনের হুমকি দেশবিরোধী: রিজভী

গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে নাম ৪ বিদেশি অপারেটরের

গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে নাম ৪ বিদেশি অপারেটরের

দুর্গাপূজায় বিএনপির ১২ সদস্যের পর্যবেক্ষণ কমিটি

দুর্গাপূজায় বিএনপির ১২ সদস্যের পর্যবেক্ষণ কমিটি

ডেঙ্গুতে আরও চার মৃত্যু হাসপাতালে ভর্তি ১৩০০

ডেঙ্গুতে আরও চার মৃত্যু হাসপাতালে ভর্তি ১৩০০

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম