আইএলও-সিপিডি সেমিনার
শ্রম আইন সংশোধন হচ্ছে
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১৩ মে ২০২২, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কর্মক্ষেত্রে পরিবেশ নিশ্চিত করতে ন্যাশনাল ওয়ার্কিং প্ল্যান করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে শ্রম আইন সংশোধন করাসহ বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আর নতুন আইনে শ্রমিক-মালিকসহ সবার স্বার্থ সুরক্ষিত হবে। রাজধানীর একটি হোটেলে বৃহস্পতিবার এক কর্মশালায় শ্রমসচিব মো. এহসান ইলাইী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন বলেন, পরিকল্পনা ছাড়া নতুন কোনো শিল্পের অনুমোদন দেওয়া হয় না। আন্তর্জাতিক শ্রমসংস্থা আইএলও এবং বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। কর্মশালার বিষয় ছিল ‘বাংলাদেশের শিল্প খাতে নিরাপত্তা।’
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আইএলওর কান্ট্রি ডিরেক্টর তমো পোতাইনেন। আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি আরদাসির কবির, সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খোন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম, বেসরকারি সংস্থা এলসিডব্লিউর কর্ণধার শামীম আরা।
শিল্পমন্ত্রী বলেন, শিল্প স্থাপন করতে হলে নিরাপত্তার বিষয়টি অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে। চাকরিদাতা, কর্মজীবীসহ সবাই একসঙ্গে কাজ করলে যে কোনো সমস্যার সমাধান সম্ভব। মো. এহসান ইলাইী বলেন, বিদ্যমান শ্রম আইন সংশোধন করা হচ্ছে। প্রস্তাবিত শ্রম আইনে প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক সব শিল্প খাতের শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের বিধান থাকছে। এ বিষয়ে দুটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এরই মধ্যে কমিটি কাজ শুরু করেছে। আইএলওর কান্ট্রি ডিরেক্টর তমো পোতাইনেন বলেন, শিল্প খাতে কাজের উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হলে প্রত্যেক শিল্প ইউনিটে আলাদা ইন্ডাস্ট্রিয়াল সেফটি জোন গঠন করা আবশ্যক। আরদাসির কবির বলেন, শিল্পায়ন ছাড়া দেশের কাক্সিক্ষত উন্নয়ন সম্ভব নয়। এজন্য শিল্পে নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। আরদাসির আরও বলেন, রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর বহির্বিশ্বে বাংলাদেশ সম্পর্কে যে ধারণা ছিল, সে ধারণা পাল্টে গেছে। বাংলাদেশ সম্পর্কে বহির্বিশ্বের মনোভাব এখন ইতিবাচক, তবে আমাদের সামনে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করতে হবে। শামীম আরা বলেন, দেশের সাত কোটি শ্রমশক্তির মধ্যে শতকরা ৮৭ ভাগ অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে। এই খাতে বেশিরভাগ শ্রমিক ঝুঁকিপূর্ণভাবে কাজ করে। তাদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে। গত বছর এক হাজারের বেশি শ্রমিক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, শ্রমিকের জীবনের ক্ষতিপূরণের দাবি নয়, আমরা চাই নিরাপদ ও কর্ম-উপযোগী পরিবেশ। ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, শিল্পে দুর্ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। শুধু পোশাক শিল্পে নয়, সব খাতেই প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। তিনি মনে করেন, শিল্পে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে প্রত্যেক কারখানায় আলাদা নিরাপত্তা কমিটি গঠন করা যেতে পারে।
