বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ ভিত্তি সাত নভেম্বর: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, আমি ভবিষ্যতের কথা বলব। অতীত বলে দেবে আমার ভবিষ্যৎ কেমন হবে। ভবিষ্যৎ কেমন হবে তা নির্ণিত হবে বর্তমানে। ৭ নভেম্বর হচ্ছে তেমন একটি দিবস কেবল সংখ্যা নয়। ৭ নভেম্বর বলে দিয়েছে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ ভিত্তি কী হবে। সেটা রচনা হয়েছে ৭ নভেম্বর। শনিবার অফিসার্স ক্লাব আয়োজিত জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. আবদুল খালেকের সঞ্চলনায় সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ইনক্লুসিভ না থাকার কারণে স্বাধীনতা নিয়ে সন্তুষ্টি ছিল না। অনেকে অসন্তুষ্ট ছিল। জাতীয়তাবোধ ছিল না। স্বাধীনতা যুদ্ধের পর আমাদের স্বপ্ন ও প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। সে অসন্তুষ্টি, শাসক এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে অর্থনৈতিক বিশাল বৈষম্য সৃষ্টি হয়। রাজনৈতিক অস্থিরতা, লুটপাট, দুর্নীতি, সীমাহীন অত্মীয়করণ এবং নির্যাতনের স্টিমরোলার রক্ষীবাহিনীর নির্যাতন সর্বশেষ গণতন্ত্রকে হরণ করে একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েম ও শাসনব্যবস্থায় এক নায়কতন্ত্র কায়েম-এসবের কারণে সাত নভেম্বরের সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি বলেন, বিএনপি ৭ নভেম্বরকে নিজেদের সম্পদ মনে করে না। বরং দেশের মানুষ মনে করে ৭ নভেম্বর বিএনপির সম্পদ। সুতরাং ৭ নভেম্বর বিএনপির একার সম্পদ না। তিনি আরও বলেন যারা চব্বিশ চব্বিশ করেন, এটাও তাদের সম্পদ না। চব্বিশও সবার। চব্বিশ এক দিনে আসেনি। অনেক মায়ের বুক খালি হয়েছে। অনেকে স্বজন হারা হয়েছে। ইলিয়াস আলী এখনো ফিরে আসেনি। যাদের পরিবার স্বজনদের হারিয়েছে, যারা গুম হয়েছে তারা জানে কত ত্যাগ-তিতিক্ষা ও কত রক্ত দিয়ে চব্বিশ এসেছে। যারা বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছে তাদের পরিবার-সন্তানরা জানে চব্বিশ কী দিয়ে এসেছে। তিনি আরও বলেন, যারা স্বাধীনতার ঠিকাদার হতে চেয়েছে, মুক্তিযুদ্ধের ঠিকাদার হতে চেয়েছে তারা রাজনীতি থেকে বিনাশ হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রশাসন ক্যাডার নিজেদের কারণে দুর্বল হয়েছে। আর কেনো ভুল করা যাবে না। নিজেদের পরিশুদ্ধ করুন। ইতোমধ্যে গত জাতীয় নির্বাচন যেভাবে হয়েছে, তা নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুলতে পারেনি। সেভাবে আরও দু-একটি নির্বাচন হলে আর কেউ প্রশ্ন তুলতে পারবে না। আমরা সংবাদপত্রের স্বাধীনতা বহাল রাখব। সরকার মনে করে গণতন্ত্রের জন্য আর কাউকে যেন রাস্তায় জীবন দিতে না হয়। আমরা সেই সরকার যারা পাঁচ বছর পর নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা পরিবর্তনে বিশ্বাসী। জনগণ চাইলে নির্বাচিত হব, অন্যথায় হব না। এটাই গণতন্ত্র। কোনো সরকার চিরস্থায়ী ক্ষমতায় থাকে না। রাজতন্ত্র ছাড়া সব ক্ষমতা সবসময় পরিবর্তনশীল।
